ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুমার দিনে যে ৩ দোয়া বেশি বেশি পড়বেন


জুমার দিনে যে ৩ দোয়া বেশি বেশি পড়বেন

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) কেবল সব নবী ও রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং তিনি গোটা সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, যা তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)

এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

মহানবী (সা.) যেভাবে মানুষের হৃদয় জয় করেন।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)

আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে

এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)

পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বিন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বিন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)

অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

ইসলামে প্যাসিভ ইনকামের বৈধ কিছু উপায়

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

আরও পড়ুন: শাহজালালে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৬৩৬ যাত্রী

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’

(সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৬ জন আটক

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকারী : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)

এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি।

ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)

অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কুলাউড়া

এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ এম


এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহানন্দা নদীতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে হায়াত আলী (৫১) নামের এক ফল ব্যবসায়ীর।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার কাজিপাড়া হরিপুর ঘাটের নিকটবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হায়াত আলী ইসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র।

পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হায়াত কাজিপাড়া হরিপুর ঘাটে গোসল করতে গেলে প্রবল স্রোতে তিনি ডুবে যান। এ সময় স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা নদীতে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই ঘাটসংলগ্ন নদী থেকে হায়াতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) জীবন চন্দ্র রায় জানান, মরদেহ উদ্ধার করার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আবেদনের ভিত্তিতে এটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে- তাদের বাঁচানো যায়নি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ এম


‘পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে- তাদের বাঁচানো যায়নি’

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় যুক্তরাজ্যের এসেক্সে বসবাসকারী নেপালি বংশোদ্ভূত নার্স রাজেন্দ্র পুদাসাইনি তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়েছেন। বর্তমানে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।

রাজেন্দ্র পুদাসাইনি প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন, “তারা আর নেই। পানির স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে তাদের বাঁচানো যায়নি। তারা স্রোতে ভেসে গেছেন।”

তবে, তার মা এবং আড়াই বছর বয়সী একটি নাতি-নাতনিকে সেনাবাহিনী জীবিত উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রীর এক খালা ও খালা-স্বামী, তাদের নাতনি ও নাতনির স্বামী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। রাজেন্দ্রের নিজের ধর্মপুত্রেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “শহর ও গ্রামগুলো স্রোতে ভেসে গেছে। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।”

রাজেন্দ্র পুদাসাইনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক নন-রেসিডেন্ট নেপালি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও। তিনি বর্তমানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্য অর্থ সহায়তা তুলছেন।

নেপাল-তিব্বতে শত শত মানুষের খোঁজ নেই

বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জোরালো উদ্ধার অভিযান চলছে। বন্যার ফলে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। নেপালে এখনো ৯০০ জনের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশটিতে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।

ড্রোনে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিওতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা দেখা গেছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারীদের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিব্বতেও বন্যায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের পরিসংখ্যানে একই ব্যক্তির নাম রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রথম তীর্থযাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ

বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী নেপালি ও তাদের স্বজনেরাও রয়েছেন। পূর্ব লন্ডনে বসবাসকারী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার বোন প্রথমবারের মতো তীর্থযাত্রায় যাওয়ার জন্য খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু বন্যার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের চলাচল থাকায় বন্যার পর অনেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

হিমবাহ ধসে বন্যার সূত্রপাত

নেপালি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হিমালয় পর্বতমালার নেপাল অংশে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উদ্ধারকারীরা এখন ধ্বংসস্তূপ ও বন্যাকবলিত এলাকায় জীবিতদের সন্ধান করছেন। পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষদের খুঁজে বের করতে ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও বন্যার আশঙ্কা

বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার মধ্যেই নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তের একটি এলাকায় পানি বাড়তে থাকা একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় সেটির বাঁধ ভেঙে পানি নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এতে সীমান্তবর্তী আরও কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যায় যেকোনো সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ এম


নেপালের বন্যায় যেকোনো সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দেশটির প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ভয়াবহ।’ তিনি মন্তব্য করেন যে, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির মতো ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।’

নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো তার প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৯০ জন মার্কিন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

নেপালে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ও ভূমিধসে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পর্যটননির্ভর এলাকাগুলোতেও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও উদ্ধারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ এম


ভূমিকম্পের মতো প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি ইরানের

ইরানের অর্থনীতিকে একঘরে করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তাদের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি ও শিপিং খাতে ইরানের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ঘোষণা করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, তেহরান নতি স্বীকার না করে কৌশলগত উপায়ে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের সূচনার সময় সংকট চলাকালে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। একই সঙ্গে, লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীরা তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাই সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগরের কোন অংশ থেকেই তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তিনি এটিকে ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা নিয়ম লঙ্ঘনকারী ৪৫টি ট্যাঙ্কারকে চিহ্নিত করেছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়াও, তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সামরিক বিমান বুলগেরিয়ার মাটি ব্যবহার করায় ইরান ন্যাটোভুক্ত এই ইউরোপীয় দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে সহায়তা করা যে কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে বুলগেরিয়ায় আঘাত হানলে যুদ্ধ আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দীর্ঘ সময় ধরে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও সম্প্রতি তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার পর সে দেশের পার্লামেন্ট পারমাণবিক অসম্প্রসারণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম অর্ধ টন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। দেশটির নেতারা প্রশ্ন তুলছেন– যুক্তরাষ্ট্র যখন সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন ইরান কেন পারমাণবিক শক্তি অর্জনের দিকে এগোবে না?

প্রতিরোধ ও মানিয়ে নেওয়ার নতুন কৌশল

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে মূল অবস্থান থেকে পিছু হটানো সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর যত বেশি অবরোধ চাপাবে, ইরানও ঠিক ততটাই বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

বর্তমানে ইরান দুটি কৌশলকে একসঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক উপায় খোঁজা। দ্বিতীয়ত, তেহরানকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করা হলে পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকেও যে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে– সেই বার্তা বজায় রাখা।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কোনো ‘তাড়া নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে তিনি কত সময় দিতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো তাড়া নেই। আমার একেবারেই কোনো সময়সূচি নেই।’

সামরিক অভিযান নাকি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কোনটি বেশি কার্যকর– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, দুটিই সমানভাবে কাজ করছে।

মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামিক ঐক্য সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কোনো দুর্বল অবস্থানে নেই এবং নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে।’

তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি। আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং পারস্পরিক আলোচনার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি অস্থায়ী জাহাজ চলাচল করিডোর তৈরির প্রস্তাব নিয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%