১১:৫৯ এম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ছাত্রী হলে ডেকে নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কিছু ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ‘গণতন্ত্র হলে’ এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী। তাকে পাবনা শহরের মোজাহিদ ক্লাব এলাকার এসোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৫ নম্বর কক্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের সাত ছাত্রীকে ডেকে নেন ওই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সামিহা, উর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতি।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস ২০ থেকে ২৫ অক্টোবর ৬ দিন বন্ধ থাকবে
তাদের অভিযোগ, প্রথমে পিকনিকের কথা বলে কক্ষে ডাকা হলেও সেখানে যাওয়ার পর তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে চেক করা হয়। এসময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। পরে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে মাথায় পানি দেওয়া হয়। তবে এরপরও অন্য শিক্ষার্থীদের র্যাগিং চলতে থাকে। পরে আরেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ধরে দ্রুত হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের পিকনিকের কথা বলে গণতন্ত্র হলের একটি রুমে ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের কোনো কথা না বলে আমাদের ধমক দিতে শুরু করে। আমার নামে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকে। চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। আমি ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছি, রিডিং রুমে কেন গেছি, ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায় এসব প্রশ্ন করা হয়। এমনকি আমি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি কি না, তা দেখতে আমার মোবাইলও নিয়ে চেক করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমার অস্বস্তি লাগতে শুরু করে। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে আমি শুয়ে পড়ি। এরপর কি হয়েছে, তা আর মনে নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রী বলেন, ‘অনেকক্ষণ র্যাগিং করার পর আমাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনেকবার বললেও তাকে সঙ্গে সঙ্গে ছাড়া হয়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর যখন সে সুস্থ হচ্ছিল না, তখন আমরা প্রায় সবাই কান্না শুরু করি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন: শিক্ষার মান পরিমাপে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীদের সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এসময় প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্যান্য শিক্ষকও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন