মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৯ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে তাঁর দেশের প্রতি রাশিয়ার ‘অটুট সমর্থনের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ‘পবিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়টি জানায়।
এএফপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে উত্তর কোরিয়া ক্রেমলিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি লাভ করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গত বছর জানিয়েছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় ২ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, নিহত ও আহত মিলিয়ে উত্তর কোরীয় সেনার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার কিমের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তিনি লিখেছেন, দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য চলমান ‘পবিত্র যুদ্ধে’ রাশিয়ার বিজয়ের ব্যাপারে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
কিম চিঠিতে পুতিনকে তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া এবং রুশ জনগণের প্রতি উত্তর কোরিয়ার অবিচল সমর্থন থাকবে।
তিনি আরও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার বিষয়ে তাঁর এবং উত্তর কোরিয়া সরকারের অবস্থান নিঃসন্দেহে দৃঢ়।
এদিকে, কিমের চিঠি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া আরও সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইউক্রেনের দাবি, ‘উত্তর কোরিয়ার আরও ৫০ হাজার সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন করা হতে পারে। তবে কিয়েভ এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। এসব সেনা কবে মোতায়েন হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।’
এ দাবির পাশাপাশি জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিউল এখনো এ অনুরোধের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে" স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর উত্তরার একটি অবৈধ মদেরবার ও জুয়ার ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১। এই অভিযানে সাড়ে ১৭ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৭৭৯টি মদের বোতল ও বিয়ার ক্যান (মোট ৪৭০.৮৬ লিটার) জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘আজিজ স্কয়ার’-এর ৫ম তলায় অবস্থিত ‘উত্তরা লিবার্টি ক্লাবে’ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার মো. রাসেল (২৮) এবং ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর মো. নয়ন মিয়া (৩৮)। মো. রাসেল বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার উত্তর সুতাল লরী গ্রামের মো. অলি উর রহমানের ছেলে এবং নয়ন মিয়া ঢাকার বাড্ডা এলাকার মো. নবি হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, "চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে" স্লোগানের আওতায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লাবের সভাপতি ও অন্যান্য কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ক্লাবের সভাপতিসহ পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার বেনগাজীতে অবস্থিত গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ বাংলাদেশি নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাদের দেশে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে, যা লিবিয়া সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে।
বিকেল ১০টা ৪ মিনিটে, বুরাক এয়ারের (ইউজেড-২২২) একটি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছান। এই প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার জন্য মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যাবাসিতদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, তারা লিবিয়ায় তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
আইওএমের পক্ষ থেকে দেশে ফেরা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম যৌথভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কিছু রাজ্যের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কংগ্রেসের ‘কল্যাণ মডেল’ অনুসরণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি করেন। খবর এনডিটিভির
ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার কথা।
শিবকুমার বলেন, ‘কংগ্রেসের কল্যাণমূলক কর্মসূচি মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারে অনুসরণ করা হয়েছে। এবার সেই চিন্তাধারা যুক্তরাষ্ট্রেও পৌঁছে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহারাষ্ট্র আমাদের কপি করেছে। মধ্যপ্রদেশ করেছে, রাজস্থান করেছে, বিহারও করেছে। এখন ট্রাম্প আমাদের কপি করছেন!’
ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে শিবকুমার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেসের চিন্তাধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। এটি কংগ্রেসের শক্তির প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে ট্রাম্প প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলে জনগণও এর সুফল পাবেন। এই অর্থকে তিনি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে অভিহিত করেন।
গত রোববার এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। তার দাবি, দেশ বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে বলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব।
তবে এই অর্থ দেওয়ার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন।
তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে এর বিস্তারিত বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজায় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’-র নির্মাতাদের সমর্থনে দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি পিটিশনে সই করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই নির্মাতাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজের মতো খ্যাতনামা পরিচালকেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শিল্প ও সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজে আয়না ধরা।’
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে তথ্যচিত্রটি স্পেশাল জুরি প্রাইজ জেতার পর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম এবং রাচেল জোর বিভিন্ন সমালোচনা ও হুমকির সম্মুখীন হন। তাদের প্রতি সমর্থন জানাতেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা একত্রিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর দেশের নির্মাতাদের এই কাজকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন।
তবে ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, সংস্কৃতিমন্ত্রীর একার পক্ষে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা নেই; এর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তথ্যচিত্রে কী তুলে ধরা হয়েছে?
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এবং ‘জেডব্লিউ ফিল্মস’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। গাজায় নজরদারি, টার্গেট নির্বাচন এবং হামলার প্রক্রিয়া এতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
হিব্রু ভাষায় ‘নাজা’ শব্দটি কোনো হামলায় সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা ‘কোলাটারাল ড্যামেজ’-কে বোঝায়। তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টার্গেট নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো গুরুতর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটির নির্মাতাদের মতে, এটি কোনো একক সেনার ভুল নয়, বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ফলস্বরূপ।
এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী তথ্যচিত্রে উপস্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বেনামি উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। তারা আরও জানায়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং সামরিক নিয়ম মেনে মানুষই এসব হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে এই দুই নির্মাতা ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ তৈরি করেছিলেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ