আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৪:৫৫ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের গারোবাজার এলাকায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবীদের অবাধে মাদকসেবন ও আনাগোনা এবং আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০১২ সালে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৬ একর জমির ওপর ১৫০টি পরিবারের জন্য নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্তমানে মাত্র ১০টি পরিবার বসবাস করছে।
বাকি ঘরগুলোর অনেকগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মূলত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মহিষমারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সানোয়ার হোসেন জানান, বিগত সরকারের আমলে ১৫০ জন পরিবারের জন্য এই আশ্রয়ণ কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ আশ্রায়ণ কেন্দ্রে মাত্র ৭/৮ টি পরিবার বসবাস করছে। আশ্রায়ণের বাকি ঘরগুলো ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে। আশ্রয়ণের পাশেই একটি হাইস্কুল রয়েছে, যেখানে ছাত্রদের মেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেসের পাশেই পরিত্যক্ত আশ্রায় কেন্দ্রে গভীর রাত পর্যন্ত নেশার কেনাবেচার আড্ডা চলে। মাদকসেবীদের আতঙ্কে থাকে মেসের ছাত্রসহ কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, প্রশাসন দ্রত পরিত্যক্ত ঘরগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করুক এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি তারা প্রকৃত উপকারভোগীদের সেখানে পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুরে শ্যালককে অপহরণে বাধা দিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রঞ্জু মিয়া (৫০) নামে একজন দিনমজুর খুন হয়েছেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত, তার ছেলে মো. জোবায়ের (২৫) এবং শ্যালক খোরশেদ আলম (৩৫) আহত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সোমবার (২০ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ঘাষিড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রঞ্জু মিয়া ওই গ্রামের ফজলার রহমানের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন নির্মাণ শ্রমিক।
স্বজনদের দাবি, শাজাহানপুর উপজেলার ঘাষিড়া গ্রামে এক স্থানীয় চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার করে আসছে। খোরশেদ আলম ওই কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ায় চক্রের সদস্যরা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। সোমবার রাতে বাড়ির সামনের একটি ইটভাটা এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। তার চিৎকার শুনে দুলাভাই রঞ্জু মিয়া এবং ছেলে জোবায়ের এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপরও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রঞ্জু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসংক্রান্ত কারবারের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থক আহত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দলের সাংসদরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নৃশংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চান।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল। দেশের তরুণদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা যায় না। তাদের ভবিষ্যৎ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, আর সেই কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছে।’ তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে তরুণদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি শুধু শিক্ষা খাতের বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই ছাত্রদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত এবং তাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।’
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে যাবেন। বিক্ষোভে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা আর সংসদ অভিমুখে নতুন করে কোনো পদযাত্রা করবে না।
মঙ্গলবার দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হওয়ার পর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য এখন আর কোনো আন্দোলনকারী, বিশেষ করে তরুণদের, ঝুঁকির মুখে না ফেলা। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে আহত হওয়া ঘিটোর্নির ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বর্তমানে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ (এলএইচএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হালকা আহত কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চোখে পেলেটের আঘাত পাওয়া আরেক বিক্ষোভকারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আহত এক তরুণী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। মিছিল আটকে দিতে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে আহত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পদক্ষেপে অনেক বিক্ষোভকারী, বিশেষ করে তরুণীরা, মারধরের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, আহত সমর্থকদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের আচরণ ছিল অমানবিক এবং তাদের রক্ষা করতে তিনি আরো বেশি কিছু করতে পারতেন।
পোস্টে তিনি আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দীপকে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে এবং তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সার্বিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য আজ একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমন্বয় সভা সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন। চেয়ারম্যান এক মন্তব্যে বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। একসময় খরা ও পানির সংকটে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চল এখন কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হলে ভূগর্ভস্থ পানির সুরক্ষা, ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির সঠিক ব্যবহার ও সেচ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হবে। কৃষকের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা পৌঁছে দিয়ে বরেন্দ্রকে টেকসই, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট কৃষি অঞ্চলে রূপান্তর করাই বিএমডিএ‘র মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, সেচ কার্যক্রম, কৃষি উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব), অতি. প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম, বিএমডিএ সচিব মো. মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল আলী সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোসা. রুবিনা খাতুন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র একটি ইজি বাইকের লোভে ১৫ বছরের একজন কিশোর চালককে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটিতে চাপা দিয়ে তার ইজি বাইকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় চার বছর আগে ফরিদপুরে এই জাতীয় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এই রায় দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, মো. আছমত শেখ এবং মো. সাগর মোল্লাকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, দুটি সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে।
তাহলে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন সাজা কার্যকরভাবে থাকবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, পরে তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নিহত নাঈম শেখ (১৫) ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের সামসু শেখের ছেলে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকালে, তিনি প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরেননি, এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়ায় খোঁজাখোঁজি শুরু হয়।
পরদিন ভোরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সেটি নাঈমের বলে শনাক্ত করেন তার স্বজনরা। ইজিবাইক উদ্ধার করার পরে আটক আছমত শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার রহস্য উদ্ভাসিত হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের নির্দেশিত স্থানে একটি বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এ ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ফরহাদ হোসেন ২০২২ সালের ২৪ মে তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, জব্দ আলামত, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন এবং আসামিদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করার পর আদালত দুটি প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ইজিবাইক ছিনতাই, মরদেহ গোপন এবং আলামত উদ্ধারের জন্য ধারাবাহিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সেই প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের সাজা দিয়েছেন। মামলার তৃতীয় আসামি ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায়, তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ