০৬:২৮ পি.এম
ভারতীয় পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্ধমান জেলার রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ গোপন অভিযানে হামিদ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ দাবি করেছে, হামিদ মণ্ডল জইশ-ই-মোহাম্মদের শাখা সংগঠন ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য। পুলিশ তার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথি উদ্ধার করেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে হামিদকে ধরা হয়। তল্লাশির সময় ঘরে আরো একজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুলিশ এখনো পলাতক ব্যক্তিকে ধরা নিয়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে পড়ায় চালকের কারণে বাস খাদে, নিহত ৮
তদন্তকারীদের দাবি, হামিদ মণ্ডলের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ভিআইপি মুভমেন্টসংক্রান্ত গোপন তথ্য এসেছে। এমনকি তিনি জানতেন মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়িতে চলাচল করেন, তার চালক কে এবং গাড়িটি কোথায় পার্ক করা হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুসারে, হামিদ পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতেন। আটককৃত ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’ মূলত চুক্তিভিত্তিক হত্যা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত।
হামিদ বর্ধমানে আস্তানা গড়ার আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং তিনি প্রায় দুই মাস আগে বর্ধমানে গিয়ে গা ঢাকা দেন।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। তাই তিনি এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। শনিবার (১ আগস্ট) এসটিএফ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে। তবে তিনি এও বলেছেন যে, জইশের নজরদারিতে রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইসহ আরো অনেকেই রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা
উল্লেখ্য, এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ রথ আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। যার তদন্ত এখনো চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন