০২:৫২ পি.এম
একসময় বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ছিল, যা সহ্য করা কঠিন দুর্গন্ধ এবং মারাত্মক পরিবেশদূষণের সৃষ্টি করেছিল। দুই দশকের পরিচিত সেই চিত্র আজ বদলে গেছে, যেখানে এখন হাজারো সবুজ গাছপালা ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ শোভা পাচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ‘রূপান্তর’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দীর্ঘদিনের বর্জ্যস্তূপকে সবুজে রূপান্তরিত করার উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানান।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আমিনবাজারে নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী ও জামদানি পল্লী পরিদর্শন করেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ। আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে এবং মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।’
আমিনবাজারের এই উদ্যোগকে চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও বিস্তৃত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন, যাতে বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অন্য জেলার প্রশাসকেরাও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হবেন।
আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর ইউএনও সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বর্জ্যের ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় ৩ মাসের প্রচেষ্টায় জমে থাকা বিপুল বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
বর্জ্য অপসারণের পর জমি প্রস্তুত করা হয়, মাটির সুরক্ষায় প্যালাসাইডিং, পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন এবং সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়। মাটির ক্ষয়রোধে লাগানো হয়েছে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ঘাস। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম, ৭০০টি রঞ্জনসহ মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে ২ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল ও ১ কিলোওয়াট উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রাতের আলোকসজ্জার জন্য ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকা এখন দূষণমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার তাগিদ: শিক্ষামন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন