ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইসলামী মাহাজ’ প্রধান মো. রফিক গ্রেফতার


রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইসলামী মাহাজ’ প্রধান মো. রফিক গ্রেফতার

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইসলামী মাহাজ’-এর প্রধান মো. রফিক (৪০) কে গ্রেফতার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এফডিএমএন ক্যাম্প-৯-এর ব্লক-সি/৫ এলাকা থেকে তার গ্রেফতারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রফিক ওই ব্লকের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম আইয়ুব।

এপিবিএন সূত্র জানায়, ক্যাম্প-৯-এ রফিক তার দলের সদস্যদের নিয়ে গোপনে বৈঠক করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নির্দেশে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পানবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) সঞ্জয় কুমার কুণ্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালানোর চেষ্টা করার সময় রফিককে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: ডিএনএ পরীক্ষায় উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মুক্তা এখনও নিখোঁজ

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রফিক ‘ইসলামী মাহাজ’-এর প্রধান হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার অধীনে বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় ৩০০ এবং মিয়ানমারে ৪০০ জন সদস্য রয়েছে। এছাড়া, তিনি ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র তাদের হেফাজতে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অস্ত্রগুলো মিয়ানমারে রয়েছে বলে দাবি করলেও, বাংলাদেশের সদস্যদের কাছে অস্ত্র আছে কি না—সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করছেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করায় প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রফিককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে উখিয়া থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম জানান, ক্যাম্প এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএনের নিয়মিত অভিযান চলছে। রফিকের দেওয়া তথ্যগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নামল ১৫.৪ ডিগ্রিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে আকাশমণি গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্ত করবে বন বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


পিরোজপুরে আকাশমণি গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্ত করবে বন বিভাগ
 
পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের খোন্তাকাটা গ্রামে দুটি আকাশমণি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপকারভোগী সমিতির সভাপতি সরদার এ রউফের বিরুদ্ধে। গাছ দুটির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বন বিভাগ। আপাতত গাছ দুটি সরিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
 
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর বন বিভাগের বোর্ডম্যান আনোয়ার হোসেন। 
শনিবার সকাল আটটার দিকে শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের খোন্তাকাটা গ্রামে গাছ কাটার ঘটনা ঘটে।
 
শিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনিকা পারভীন বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করানো হয়েছে। সরদার এ রউফ গাছগুলো তার মালিকানাধীন বলে দাবি করেছেন।
 
পিরোজপুর বন বিভাগের বোর্ডম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেগুলো সরিয়ে নিতে নিষেধ করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
 
শিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার রাজিব হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি আকাশমণি গাছ কাটা অবস্থায় দেখা গেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাছগুলো সরাতে নিষেধ করা হয়েছে।
 
অভিযোগের বিষয়ে সরদার এ রউফ বলেন, গাছ দুটি তিনি রোপণ করেছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছ দুটি ভেঙে পড়ায় বিক্রি করেছেন।
 
গাছের ক্রেতা মো. ইউসুফও দাবি করেন, গাছ দুটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল এবং সেগুলোর মালিক রউফ। সে অন্যান্য গাছের সঙ্গে এই গাছ দুটো কিনছে কিন্তু  আপত্তি থাকায় গাছ দুটি নিতে পারছে না। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই সেনা হত্যায় হেবরনকে ভূতুড়ে শহর বানাল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


দুই সেনা হত্যায় হেবরনকে ভূতুড়ে শহর বানাল ইসরায়েল

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান চলাকালীন ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের কিছু এলাকা জনশূন্য হয়ে গেছে। সামরিক দখল, বাড়িঘর ধ্বংস এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ফলে শহরটির পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘সবাইকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। হেবরন এখন যেন একটি ভূতুড়ে শহর।’

গত শুক্রবারের এক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে শহরটিতে ইসরায়েলি বাহিনী শত শত অভিযান পরিচালনা করেছে। ওই হামলায় দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীও নিহত হন।

নাথানিয়েল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দুই হামলাকারীর বসবাসের এলাকা পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা। সেখানকার পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বাড়ির দেয়ালে ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে।

হামলার ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি চেকপোস্টের আশপাশে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজও করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় বাসিন্দাদের বন্দুকের মুখে মাত্র কয়েক মিনিটের নোটিশে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন নাথানিয়েল।

নাথানিয়েল আরও বলেন, সেখানে সেনাবাহিনী ঠিক কী করছে, তা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: জালে, নাকি জেলের জীবনেও?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: জালে, নাকি জেলের জীবনেও?

বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকারী নিষেধাজ্ঞা চলছে ইলিশ আহরণে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়কাল জেলেদের জীবনসংগ্রাম এবং নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য সবার জবাবদিহির প্রশ্ন উত্থাপন করছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও জেলেদের ক্ষুধার জ্বালা অব্যাহত থাকে। চুলায় হাড়ি চড়াতে হয়, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে হয়। ঋণের বোঝাও নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে না। যে নদী একসময় একটি পরিবারের বেঁচে থাকার ভরসা ছিল, সেই নদীতে জাল ফেলতে না পারার দিনগুলো অনেক জেলে পরিবারের কাছে হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার কঠিন পরীক্ষা। নদীতে মাছ না উঠলে শুধু জালই খালি ফেরে না, অনেক সময় খালি থাকে ঘরের হাড়িও।

গত ২০ ও ২১ অক্টোবর বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন জেলেপল্লি ও মাছ অবতরণকেন্দ্রে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাদের জীবনসংগ্রাম, অভাব-অনটন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা শুনতে গিয়ে উপলব্ধি হয়েছে, ইলিশ সংরক্ষণের আলোচনা যতটা জরুরি, ইলিশের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জীবনকে বোঝাও ততটাই জরুরি। তাদের মধ্যে কেউ সংসার চালানোর দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন, কেউ অভাবের দীর্ঘশ্বাস প্রকাশ করেছেন, আবার কারও চোখেমুখে ছিল আগামী দিন নিয়ে অনিশ্চয়তা।

একজন মৎস্যবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও গবেষক হিসেবে এই অভিজ্ঞতা নতুন করে ভাবিয়েছে। আমরা ইলিশ রক্ষার কথা বলি, নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরি, আইন অমান্য করলে শাস্তির দাবি জানাই। কিন্তু যে মানুষটির জীবিকার প্রধান অবলম্বন নদী, সেই নদীতে মাছ ধরতে না পারার দিনগুলোতে তার পরিবারের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কোথায়? সন্তানকে না খাইয়ে রাখা যায় না, অভাবকে বোঝানো যায় না যে নিষেধাজ্ঞা চলছে। জীবিকার আর কোনো পথ না থাকলে একজন মানুষ কোন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, সেই প্রশ্নটিও আমাদের ভাবতে হবে।

ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সব ভার যেন সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোর কাঁধেই না চাপে। জাল ফেলার দায় জেলের, নদী ধ্বংসের দায় কার?

ইলিশের সংকটের কথা উঠলেই অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন জেলেরা—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার সময়ে যারা মাছ ধরতে নদীতে নামেন। আইন অমান্য করে মাছ ধরা যে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ইলিশের সংকটের পেছনে থাকা বৃহত্তর পরিবেশগত ও মানবসৃষ্ট চাপগুলোকে পাশ কাটিয়ে শুধু দরিদ্র জেলেদের দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র কি সামনে আসে?

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, গভীরতা ও মাছের বিচরণক্ষেত্রের সঙ্গে ইলিশের জীবনচক্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অথচ অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদীর তলদেশের পরিবর্তন এবং নতুন নতুন চর জেগে ওঠা নিয়ে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড কোথায়, কীভাবে এবং কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

নদীকে নিজের স্বার্থে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা যাদের আছে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তারা যেন জবাবদিহির বাইরে থাকতে না পারেন।

অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এর ক্ষতি মানে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ক্ষতি।

একই প্রশ্ন ধ্বংসাত্মক জালের ব্যবহার নিয়েও। বেহুন্দি জালের মতো নির্বিচার আহরণপদ্ধতিতে ছোট মাছ, পোনা, অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং বিভিন্ন আকারের মাছ আটকা পড়তে পারে। এতে মৎস্যসম্পদের পুনরুৎপাদন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব জালের ব্যবহার, সরবরাহ বা পৃষ্ঠপোষকতার পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কারও অর্থনৈতিক সামর্থ্য, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হয়ে না দাঁড়ায়।

নদীদূষণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শিল্পবর্জ্য ও অন্যান্য দূষণ নদীর পরিবেশ এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এসব ক্ষতির দায় কোনো একটি দরিদ্র জেলে পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নদী ও মৎস্যসম্পদের বড় ক্ষতির পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা, ক্ষতির প্রকৃতি নিরূপণ করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আইন ভাঙা যেমন কাম্য নয়, তেমনি নদী ধ্বংস করে কিংবা মৎস্যসম্পদের ক্ষতি করে প্রভাবের জোরে পার পেয়ে যাওয়াও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আইন প্রয়োগের কঠোরতা যেন কেবল দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান না হয়।

ইলিশ বাঁচুক, বাঁচুক জেলের সংসারও

মাঠপর্যায়ে জেলেদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারি সহায়তা, নিবন্ধন এবং প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্তি নিয়ে নানা অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। কেউ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা বলেছেন, কেউ জানিয়েছেন নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কথা। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যারা সত্যিকার অর্থেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের শনাক্ত ও নিবন্ধিত করা এবং সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে শুধু মাছ ধরা বন্ধের নির্দেশ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই সময়ে জেলেদের পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। যে পরিবারটি কয়েক দিন আগেও নদীতে মাছ ধরে কোনোভাবে সংসার চালাত, নিষেধাজ্ঞার সময় সেই পরিবারটির চুলা জ্বলবে কীভাবে—এই প্রশ্নের বাস্তবসম্মত উত্তরও সংরক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত জেলেদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার চালাতে গিয়ে কাউকে আইন ভাঙার ঝুঁকি নিতে না হয়। জেলেদের আইন মানার আহ্বান তখনই বেশি কার্যকর হবে, যখন তাঁদের সামনে আইন মেনে বেঁচে থাকার বাস্তব সুযোগও থাকবে।

অন্যদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, ধ্বংসাত্মক জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং নদীর ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এই প্রয়োগ হতে হবে ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীন। দরিদ্র জেলে থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য যে কেউ—আইন ভাঙার দায় প্রমাণিত হলে সবার ক্ষেত্রেই একই নীতি কার্যকর হওয়া উচিত।

ইলিশ রক্ষার লড়াই হোক সবার

ইলিশ কেবল একটি মাছ নয়। এটি আমাদের নদী, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইলিশের প্রাচুর্যের সঙ্গে যেমন জেলেদের ঘরের চুলা জ্বলার সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি নদীর সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ। তাই ইলিশ সংরক্ষণের দায়িত্বও কোনো একক গোষ্ঠীর নয়। জেলেদের আইন মানতে হবে, সরকারকে তাদের জীবিকার নিরাপত্তা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে, আর নদীদূষণ ও ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বরিশাল ও ভোলার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি হচ্ছে—ইলিশ বাঁচানোর লড়াইকে শুধু নিষেধাজ্ঞা আর আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নদীর পরিবেশ রক্ষা, ধ্বংসাত্মক আহরণ বন্ধ, ন্যায্য সহায়তা এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে।

কারণ, যে মানুষটি নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চালান, তাকে বাঁচার পথ না দেখিয়ে শুধু নদীতে নামতে নিষেধ করলে সংরক্ষণের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে। আবার নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করেও মৎস্যসম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। নদী বাঁচানোর দায়িত্ব যেমন জেলের, তেমনি সেই নদীর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী, তা থেকে মুনাফা অর্জনকারী এবং তার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা সবার।

জেলেদের চোখের ক্লান্তি, তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তা আর নদীর পরিবর্তিত বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সংরক্ষণ শুধু মাছ বাঁচানোর কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং ন্যায়বিচারকে একসঙ্গে রক্ষার অঙ্গীকার।

জেলেকে বাঁচার অধিকার দিন, নদীকে বাঁচার সুযোগ দিন—তবেই ইলিশ বাঁচানোর লড়াই সত্যিকার অর্থে সফল হবে। জেলে বাঁচলে ইলিশ বাঁচবে, নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ।

লেখক: বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

বাংলাদেশের ভক্তরা পাকিস্তানি অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানকে ঢাকায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা আগামী ৬ নভেম্বর চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানা গেছে। তিনি ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’ এবং ‘পাকিস্তানি ওয়েডিং অ্যান্ড ফুড ফেস্টিভ্যাল’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সম্প্রতি ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ ধারাবাহিকে হানিয়া আমিরের সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন বিলাল। সিরিয়ালটি বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সেই জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি ঢাকায় আসছেন এই পাকিস্তানি তারকা।

রাজধানীর গুলশান-১-এর গুলশান শুটিং ক্লাবে ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পাঁচ দিনব্যাপী ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’ ও ‘পাকিস্তানি ওয়েডিং অ্যান্ড ফুড ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হবে।

এই আয়োজনে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, জীবনধারা, বিয়ের সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শিত হবে।

যদিও আয়োজনটি ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে, তবে বিলাল আব্বাস খান ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে আয়োজনে অংশগ্রহণকারী দর্শকেরা তাদের প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।

বিলালের বাংলাদেশ সফরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ সিরিয়ালের দর্শকদের মধ্যে তার এই সফর নিয়ে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এখন ভক্তরা অপেক্ষা করছেন, কবে ঢাকায় এসে তাদের প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাবেন বিলাল আব্বাস খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%