সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৯ এম
ব্যালন ডি’অর বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত। এবারের সেরা কে হবেন এবং কার হাতে উঠবে সোনার বল—এই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে আজ রাতে। ৭০তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে লন্ডনে। এ বছর এই আয়োজন প্যারিসের বাইরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে যা জানা জরুরি
অনুষ্ঠানের তারিখ ও স্থান: আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ২টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কোথায় দেখা যাবে: অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে ডিএজেডএন এবং ব্যালন ডি’অর ওয়েবসাইট।
৭০ বছরের ইতিহাস: ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর উদ্যোগে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বিজয়ী ছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথুস।
লন্ডনে আয়োজনের কারণ: পুরস্কারের প্রথম বিজয়ীকে সম্মান জানাতে এবারের আসরের আয়োজনের জন্য ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
উপস্থাপনায় কারা: এবারের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার থিয়েরি অঁরি এবং ব্রিটিশ ক্রীড়া সাংবাদিক কেট স্কট।
পুরুষদের বিভাগে মনোনয়ন: হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, উসমান দেম্বেলে, লিওনেল মেসি—এই তারকারা রয়েছেন মনোনয়ন তালিকায়।
নারীদের বিভাগেও লড়াই: নারীদের ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস, ইভা পায়োর, ক্যারোলিন গ্রাহাম হানসেন, অ্যালেসিয়া রুশো, খাদিজা শ, পারনিল হার্ডার।
শুধু ব্যালন ডি’অর নয়: বর্ষসেরা তরুণ, বর্ষসেরা গোলকিপার, বর্ষসেরা কোচ, ক্লাবের পাশাপাশি বর্ষসেরা স্ট্রাইকার এবং সক্রেটিস পুরস্কারও (মাঠের বাইরে মানবিক কাজ) প্রদান করা হবে।
গতবারের বিজয়ী: ২০২৫ সালে পুরুষদের বিভাগে উসমান দেম্বেলে এবং নারীদের বিভাগে আইতানা বোনমাতি পুরস্কার জিতেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পরিবর্তে আজ (সোমবার) থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে চলাচল শুরু করবে ৭২১/৭২২ নং মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন। এর ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ পাঁচ জেলার মানুষ প্রথমবারের মতো ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী।
আগে কেবল ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়া সম্ভব ছিল। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুটি ট্রেনই বিরতিহীনভাবে চলাচল করে। কমলাপুর থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি শুধু বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় এবং পরে চট্টগ্রামে গিয়ে থামে। সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সম্প্রসারিত সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে।
ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চালুর খবরটি যাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে ট্রেনটির বর্ধিত চলাচলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং প্রথম দিনের টিকিট মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী দিনগুলোর জন্যও একই অবস্থা দেখা গেছে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার এবং আসন সংখ্যা সাতশর বেশি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে।
ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চালু হওয়ায় নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, পর্যটন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই নতুন রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। নতুন এই রেলসংযোগ পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে একটি রেকে (যেটি যাবে সেটিই ফিরবে) চলাচল করবে বিধায় এটি নির্ধারিত সময়ে চলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রবিবার সপ্তাহিক ছুটি বাদে সপ্তাহের ছয়দিন চলাচলকালে ট্রেনটি ঢাকায় দুই ঘণ্টা ও কক্সবাজারে তিন ঘণ্টা সময় পাবে। লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) বদল, ট্রেন পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো ওই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। চলার পথে বিলম্ব হলে ট্রেনটির নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মহানগরের মতো বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের বদলে জামালপুর নাগাদ বর্ধিত করা হলে ঘটে বিপত্তি। ট্রেনটি প্রতিনিয়তই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বে চলে। এটিও এক রেকে চট্টগ্রাম-জামালপুর পথে আসা-যাওয়া করে।
আখাউড়ার ব্যবসায়ী ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আকিজ কম্পানির একটি প্রোগ্রাম কক্সবাজার যাবেন। আমি মহানগর এক্সপ্রেসে করেই যাব, এটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। আগে চট্টগ্রাম গিয়ে আবার আরেকটি ট্রেন বা বাসে করে কক্সবাজার যেতে হতো।’
শিক্ষক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার যাওয়ার জন্য তিনি ২৭ অক্টোবর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়বেন। এরই মধ্যে টিকিট কেটে ফেলেছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্ত নগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পরিচালনা করা হবে। আন্ত নগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত রুটে যাত্রা উদ্বোধনের প্রাক্কালে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ উপস্থিত থাকবেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেসের আজকের চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটির খালি রেক রবিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়াল জামিরের মধ্যে বিরোধের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২। সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশ মানতে রাজি ছিলেন না সেনাপ্রধান জামির। তিনি এ বিষয়ে আরও আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন। একই সঙ্গে অভিযানের আইনি অনুমোদন রয়েছে এমন একটি লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছিলেন জামির।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, তবে কী ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি চ্যানেলটি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারের নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে এই বিরোধের খবর সামনে এসেছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জরিপকারীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।
চ্যানেল ১২ এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অভিযানটি এমন হতে পারে, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, "এমন সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের ঘটনা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।"
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে আরেকটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে কাজ করতে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধের এই খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার আবারও নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সফল হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প তার পোস্টে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এবং অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের ওপর নৌ অবরোধের কারণে দেশটি তেল পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্বের দুটি স্তরই হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু একজন দক্ষ এবং সাহসী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে তাঁকে ভোট দিয়ে ইরান ইস্যুতে শুরু করা কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রবিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিতে তেল আবিবে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। ছবিটি প্রকাশ করে নেতানিয়াহু সতর্ক করেন, "তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে ইসরায়েলিরা ‘দ্বিতীয় হলোকাস্টের’ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।"
পোস্টে ডানপন্থী কর্মী ইউভাল ব্লুমবার্গের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েল এখন সরাসরি অস্তিত্বের হুমকির মুখে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরো বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে ট্রাম্পের হাতে আরো দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কে আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে দাবি করা হয়। এতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে পারেন—এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে ইসরায়েলের প্রয়োজন।
এদিকে, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলো খুলছে, যা টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে হচ্ছে। আজ থেকেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হবে। তবে কলেজগুলোতে ছুটি এখনও শেষ হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা এবং সরকারের নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির কারণে গত ১৮ অক্টোবর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলোতে ছুটি শুরু হয়েছিল।
এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি শেষ হলেও ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটির কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা ১০ দিন ছুটির সুযোগ পান।
কলেজ খুলছে কবে?
স্কুল ও মাদরাসার ছুটি শেষ হলেও কলেজগুলোর ছুটি এখনো শেষ হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ছুটি আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর ৩০ ও ৩১ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে কলেজগুলোতে যথারীতি ক্লাস শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের আওতায় গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্প খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন হতে পারে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চার দিনের সফরে টোকিও পৌঁছেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বকে জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে সম্মত হতে পারে। এই পরিকল্পনায় জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সুমিতোমো করপোরেশনসহ জাপানের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এসব অঞ্চলের উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে।
যদি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশে উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও শিল্পদক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবেন। বুধবার ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি।
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি করাও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
যদি প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে এর বাস্তব প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ