১১:১৩ এম
নাইজারের রাজধানী নিয়ামের বিভিন্ন স্থানে শনিবার ভোরে (২৯ আগষ্ট) গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রয়টার্সের দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ৩ ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত
একটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, ‘সন্ত্রাসীরা’ নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।
সাহেল রাষ্ট্র জোটের সংসদের ডেপুটি বানা ওয়াগানা ইব্রাহিম ফেসবুকে দাবি করেছেন, হামলাকারীরা নিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা বেস ১০১-কে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন: আম্বানির শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ইব্রাহিম বলেন, ‘বেস ১০১-এর ওপর আরেকটি হামলা হয়েছে। আবারও আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।’ তবে নিরাপত্তা সূত্র এবং ইব্রাহিমের দাবিগুলো রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
কয়েকজন হামলাকারীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং অন্যরা পালিয়ে গেছে। রয়টার্সের দ্বিতীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৩ মিনিটের দিকে নিয়ামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নাইজারের সামরিক সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: রোমে বোরকা নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী কোটা নির্ধারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
পশ্চিম আফ্রিকার খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ নাইজারে ইউরেনিয়াম, তেল ও সোনার উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে।
ক্ষমতা দখলের পর জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানির নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তারা মালি ও বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে মিলে সাহেল রাষ্ট্র জোট গঠন করেছে। এই তিন দেশ পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: কৌশলগত ভারসাম্য নষ্টের চেষ্টা নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও নাইজার, মালি ও বুর্কিনা ফাসোতে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এখনও চলছে। নাইজারে এই নতুন অস্থিরতা এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন দেশটির সামরিক সরকার ইউরেনিয়াম খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করছে।
ফ্রান্সের ওরানো কম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পর সম্প্রতি দেশটির সরকার ইউরেনিয়াম শিল্পে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে জারি করা এক ডিক্রি অনুযায়ী, ওরানো ও গোভিএক্সের সাবেক ইউরেনিয়াম পারমিট রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পুনরায় বরাদ্দ করা হয়েছে।
সামরিক সরকার ২০২৪ সালের দিকে ওরানোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আগে নাইজার ইউরোপের পারমাণবিক জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল।
পূর্ণ সক্ষমতায় নাইজার থেকে ওরানোর ইউরেনিয়াম সরবরাহ কম্পানিটির মোট সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছাত। চলতি বছরের মার্চে নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং জানুয়ারিতে নিয়ামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৃথক হামলায় অন্তত ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এফবিআইয়ের অভিযান, বড় জালিয়াতির তদন্ত চলছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন