০৮:৪৫ পি.এম
পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে কমপক্ষে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। দ্য ডনের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরান জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন মারা গেছে।
লাহোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহতদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে অন্তত আটজন শিশুর বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় লাহোর পুলিশের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ডিআইজিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অবহেলার জন্য দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি কামরান বলেছেন, সম্প্রতি বাড়িটি নির্মাণকারী ঠিকাদারও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন। বাড়িটির কিছু অংশ নির্মাণাধীন ছিল এবং ছাদ ধসে পড়ার সময় শ্রমিকরা কর্মরত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্রের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে তাদের দলের সদস্যরা জানিয়েছেন যে আটকে পড়া শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রেসক্যু ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ ডন নিউজকে বলেন, ‘শিশুদের বয়স খুব কম এবং দুটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছিল। ছাদ ধসে পড়ায় শিশুরা আটকা পড়ে গেছে।’
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া রেসক্যু সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি বাড়ির ঘরের ছাদ হঠাৎ ধসে পড়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে ধসে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ছাদ ধসে মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য পুলিশ ও জেলা সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারিক মাহমুদ বলেছেন, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন কেন্দ্র ছিল এবং এটি এলাকার একটি নারী পরিচালনা করতেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিকটবর্তী লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সেখানে আহত শিশুদের অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন