ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইবিতে নতুন দুই বিভাগ চালুর অনুমোদন পেল ইউজিসি


ইবিতে নতুন দুই বিভাগ চালুর অনুমোদন পেল ইউজিসি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে নতুন দুটি বিভাগ চালুর অনুমতি প্রদান করেছে। এই নতুন বিভাগগুলো হলো ‘তুলনামূলক তাফসীর’ এবং ‘সিরাত আল-নাবাবিয়াহ'। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে উক্ত বিভাগগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে। প্রতিটি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বাধিক ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) ইউজিসির ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়, যেখানে এই অনুমতির কথা উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশন কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো, সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, বিধিবদ্ধ বিধান, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং স্নাতকদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বিভাগ দুটি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। প্রতিটি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বাধিক ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

তবে আপাতত নতুন বিভাগগুলোর শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদ খালি করা হয়নি। শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তীতে পদ খালি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নতুন বিভাগ দুটি চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছিল যে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন বিভাগগুলোর কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে ইউজিসির অনুমোদনের পর এখন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের অধিকার দাবি, দান নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


রোহিঙ্গাদের অধিকার দাবি, দান নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গারা তাদের নিজস্ব জন্মভূমি বা আবাসস্থলকে মিয়ানমারে প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল, সেই অনিশ্চিত পরিবেশে ফিরে যেতে তারা রাজি নয় বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসন একটি বিশ্বাসের বিষয়। রোহিঙ্গারা অধিকার চায়, কোনো দান বা অনুকম্পা নয়।

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঢাবির ক্রিমিনোলজি বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন : রোহিঙ্গা কণ্ঠস্বর ও প্রত্যাবাসন’ শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রচার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ তার বক্তৃতায় ৮১তম ইউএনজিএ-তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের কথা স্মরণ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তিনি যে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছিলেন, তা উল্লেখ করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারের হাতে রয়েছে এবং বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সংকট বজায় রাখতে সক্ষম নয়।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমর্থনের বিবৃতি থেকে কার্যকরী ও অনুমানযোগ্য সহায়তার দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতাকে নতুন স্বাভাবিক হতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ক্রিমিনোলজি বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের সাহসিকতার প্রশংসা পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের সাহসিকতার প্রশংসা পুতিনের

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রদর্শিত ‘সাহসিকতার’ জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রশংসা করেছেন। তিনি তেহরানের প্রতি যেকোনো পরিস্থিতিতে সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ইরানি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ফোনালাপে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কথোপকথনের শুরুতে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রুশ প্রেসিডেন্টকে তাঁর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়।

কথোপকথনে প্রেসিডেন্ট পুতিন উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের চলমান অস্থিরতা ও বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ‘সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’র অধীনে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং চলমান সংকট সমাধানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে রাশিয়া সমর্থন করে। এই প্রক্রিয়ায় মস্কো যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত উল্লেখ করে পুতিন বলেন, “ইরানের আমাদের বন্ধুরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকতে পারে যে রাশিয়া সাহায্য করতে তৈরি।”

ফোনালাপের এক পর্যায়ে বিভিন্ন আক্রমণ ও চাপের মুখে ইরানের সহনশীলতা এবং অবস্থানের জন্য দেশটির ‘সাহসিকতা’র প্রশংসা করেন পুতিন। সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি ঋণের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি ঋণের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারের এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) তার বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি ঋণের বিপরীতে অনুমোদিত ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্ট খোলার এবং পরিচালনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—

সুবিধা ও মুনাফা : এই অনুমোদনের আওতায় খোলা এফসি অ্যাকাউন্টে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের শর্ত অনুযায়ী সুদ বা মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

প্রতিবেদন দাখিল : অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত ‘ফর্ম এলইউ’ অনুযায়ী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (ডিসেম্বর, মার্চ, জুন ও সেপ্টেম্বর শেষে) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে বিদেশি ঋণ ব্যবহারের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

অ্যাকাউন্ট বন্ধ ও রক্ষণাবেক্ষণ : ঋণের অর্থ উত্তোলন ও ব্যবহার সম্পন্ন হওয়ার পর এডি ব্যাংকগুলোকে এফসি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে এফইআইডি-কে তা জানাতে হবে।

তবে, ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য তহবিল সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে, ঋণটি পূর্ণাঙ্গ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট সচল রাখা যাবে। এই ক্ষেত্রে আমদানির অর্থ বাদ দিয়ে রপ্তানি আয় এবং বৈধ উৎস থেকে টাকায় রূপান্তরিত তহবিল এই অ্যাকাউন্টে জমা করা যাবে। তবে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি তহবিল অ্যাকাউন্টে রাখা যাবে না।

প্রযোজ্যতা : বাংলাদেশ ব্যাংকের আইবিএ এবং এসসিএনসিএল কর্তৃক যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের অনুমোদিত বিদেশি ঋণের বিপরীতে এফসি অ্যাকাউন্ট খোলা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সার্কুলারের বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে।

তহবিলের সঠিক ব্যবহার : বিদেশি ঋণের অর্থ কেবল যে উদ্দেশ্যে ঋণ অনুমোদিত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও ঋণ চুক্তির নিয়মকানুন মেনেই ব্যবহার করা হচ্ছে—তা নিশ্চিত করতে হবে এডি ব্যাংকগুলোকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকল গ্রাহক ও ব্যাংকের এডি শাখাগুলোকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানববর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে গবেষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


মানববর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে গবেষকরা

মানববর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল, কয়লা ও তরল সার উৎপাদনের সম্ভাবনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকরা তৈরি করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে এক টন মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লিটার জ্বালানি তেল ও ৪৫ থেকে ৫০ কেজি কয়লা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। একই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য থেকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও জৈব উপাদান পুনরুদ্ধার করে প্রয়োজনীয় পরিশোধনের মাধ্যমে তরল সার উৎপাদন করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষক দলের দাবি, এই প্রযুক্তিতে বর্জ্যের কোনো অংশই ফেলনা থাকে না। ফলে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি ও কৃষি উপকরণ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁরা গবেষণাটিকে ‘শূন্য বর্জ্য প্রযুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে গবেষণাটি ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে একাডেমিক গবেষণা হিসেবে কাজটি চললেও পরে তা আরো কাঠামোবদ্ধ হয়ে ‘স্লাজ টু অয়েল’ প্রকল্পে রূপ নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে।

‘স্লাজ টু অয়েল’ প্রকল্পের গবেষণা পর্যায়ে প্রধান সরকারি অর্থায়নকারী ছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল। প্রকল্পটির বাজেট ছিল প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটিএন এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ‘স্লাজ টু অ্যাসফাল্ট’ ও ‘মাল্টি-স্টেজ কো-এইচটিএল’ নামে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এসব প্রকল্পের মোট বাজেট ছিল প্রায় ৪৩ লাখ টাকা।

বর্তমানে গবেষণাটি ‘বাংলাদেশ বায়োরিফাইনারি ও বায়োক্রুড উদ্ভাবন কেন্দ্র’ নামে আরো বিস্তৃত পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের ১৩৭৩৩ নম্বর উপ-প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমান প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের সঙ্গে প্রায় ৫ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে গবেষণাগার উন্নয়নের জন্য।

এক টন বর্জ্যে কত তেল

গবেষকদের তৈরি প্রযুক্তির মাধ্যমে মানববর্জ্যকে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব অপরিশোধিত তেলে রূপান্তর করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বর্জ্য শুকানোর প্রয়োজন হয় না, ফলে ভেজা মানববর্জ্য সরাসরি প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক টন মানববর্জ্য থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লিটার জ্বালানি তেল পাওয়া সম্ভব। একই পরিমাণ বর্জ্য থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কেজি কয়লাও উৎপাদন করা যায়।

তবে প্রক্রিয়াটি শুধু তেল ও কয়লা উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও কঠিন অংশ আলাদা করার পর যে জলীয় অংশ পাওয়া যায়, সেখান থেকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও বিভিন্ন জৈব উপাদান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় পরিশোধনের পর এসব উপাদান ব্যবহার করে তরল সার উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

অর্থাৎ এক টন মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পর একদিকে জ্বালানি তেল, অন্যদিকে কয়লা এবং জলীয় অংশ থেকে তরল সার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে বর্জ্য হিসেবে আবার নতুন কোনো বড় অংশ ফেলে রাখতে না হয়।

১০০ টাকার নিচে হতে পারে প্রতি লিটার তেলের খরচ।

গবেষকদের প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণেও আশার কথা উঠে এসেছে। বর্তমান পরীক্ষামূলক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো গেলে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের উৎপাদন খরচ ১০০ টাকার নিচে রাখা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত বাণিজ্যিক উৎপাদন খরচ নয়। বড় পরিসরে উৎপাদন, কাঁচামাল সংগ্রহ, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও তাপের চাহিদা, যন্ত্রপাতির ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষামূলক কারখানায় দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনের পর প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

গবেষকদের মতে, দেশের উপযোগী বর্জ্যের প্রায় ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এই প্রযুক্তির আওতায় আনা গেলে জাতীয় জ্বালানি চাহিদার আনুমানিক ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণে অবদান রাখা সম্ভব হতে পারে। এতে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বছরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই হিসাব নির্ভর করবে দেশে কী পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, তার কতটা প্রযুক্তির আওতায় আনা যায় এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে উৎপাদন কতটা দক্ষতার সঙ্গে করা যায় তার ওপর।

পরীক্ষাগার থেকে বড় প্লান্টের পথে

গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম একটি ধারাবাহিক পরীক্ষামূলক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের একটি বাণিজ্যিক মানের কারখানা স্থাপনে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারখানা স্থাপন করা গেলে টানা ১২ থেকে ১৮ মাস প্রযুক্তিটি পরিচালনা করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ, জ্বালানি দক্ষতা, নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব এবং নিয়মিত উৎপাদনের সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।

গবেষকদের পরিকল্পনায় সৌর তাপ ব্যবহার করে প্রক্রিয়াজাতকরণের আগে বর্জ্য উত্তপ্ত করার ব্যবস্থাও যুক্ত করার কথা রয়েছে। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তাপের একটি অংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি চাহিদা আরও কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে পরীক্ষামূলক কারখানার ফলাফলের ভিত্তিতে বড় আকারের বাণিজ্যিক কারখানার নকশা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। সফল হলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্জ্য থেকে সম্পদ

বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়। এসব বর্জ্যের বড় অংশ যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা না গেলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে সেই বর্জ্যকেই কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানববর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল ও কয়লা উৎপাদনের পাশাপাশি এর জলীয় অংশ থেকে কৃষিতে ব্যবহারের উপযোগী তরল সার তৈরির সুযোগ থাকায় একই বর্জ্য থেকে একাধিক পণ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফল হলে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমবে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান, দেশীয় যন্ত্রপাতি ও প্রকৌশল শিল্পের বিকাশ এবং বর্জ্যভিত্তিক নতুন শিল্পখাত তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, পরীক্ষাগার ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সাফল্যকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় পরিসরে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির মান, নিরাপত্তা এবং কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কুয়েটের গবেষকদের উদ্ভাবিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন (এইচটিএল) প্রযুক্তি মানববর্জ্যকে জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের সম্ভাবনাময় দেশীয় উৎসে রূপান্তরের পথ দেখাচ্ছে। দেশীয় মেধা ও প্রকৌশল দক্ষতায় বিকশিত এ প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে অবদান রাখতে পারে। এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক পরীক্ষামূলক কারখানায় উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির মান ও নিরাপত্তা যাচাই করে প্রযুক্তিটিকে বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%