বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তামাক পণ্যের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের বিপণন এবং সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। এ সময় সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামসের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মাহিন মালিক বক্তব্য রাখেন।
আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার তাদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নতুন ধরনের তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিপণন তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের ব্যবহার ও সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।
খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিক্রির ক্ষেত্রে বয়স যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারীদের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ব্যবহার করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ রাব্বি (ইহুদি ধর্মীয় নেতা)। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা উচিত নয়।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পণ্য আমদানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করার এই প্রক্রিয়া মূলত 'জাতিগত নিধন' (এথনিক ক্লিনজিং)-এর সামিল।
যদিও যুক্তরাজ্যের চিফ রাব্বি স্যার এফ্রাইম মির্ভিস সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, এই পদক্ষেপ তাদের আরও উসকে দিতে পারে যারা "ইহুদিদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ঘৃণা ব্যবহার করে।"
তবে অন্যান্য রাব্বি, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রগতিশীল ধারার নেতারা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের এই পরিকল্পনাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা অন্যান্য ইহুদি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতাকে তারা চেপে না যান বা উপেক্ষা না করেন।
মাসোরতি জুডাইজম-এর প্রবীণ রাব্বি জোনাথন উইটেনবার্গ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন: "পশ্চিম তীরে আজ যা ঘটছে তা হলো 'হিলুল হাশেম'—অর্থাৎ ঈশ্বরের পবিত্র নামের চরম অবমাননা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।" তিনি আরও যোগ করেন, "শান্তিতে বাঁচতে চাওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিস্থিতি। এমনকি এটি ইসরায়েলের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও ভয়াবহ।"
উইটেনবার্গ আরও বলেন: "আমাদের অবশ্যই প্রতিবাদ জানাতে হবে। মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং স্বয়ং ইসরায়েল ও ইহুদি ধর্মের স্বার্থেই আমাদের কথা বলতে হবে। আমরা মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারি না।" সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সাথে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম 'উম্ম আল-খাইর' সফর করে নিজের চোখে সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন রাব্বি উইটেনবার্গ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সঠিক সময়।"
এদিকে বুধবার প্রকাশিত 'ইউগভ'-এর এক তাৎক্ষণিক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৫২ ভাগ উত্তরদাতা ব্রিটিশ সরকারের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন, যেখানে মাত্র ১৭ ভাগ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন।
বুধবার 'প্রাইম মিনিস্টার্স কোশ্চেনস' (পিএমকিউ) সেশনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কমন্সে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, "আজকের এই কঠিন ও বিপজ্জনক বিশ্বে ব্রিটেনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। ব্রিটেনকে নেতৃত্বের ভূমিকা দেখাতে হবে এবং সব ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" নিউ লন্ডন সিনাগগের রাব্বি জেরেমি গর্ডন, যিনি সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তিনি বলেন: "চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের সমর্থকদের সামনে নিশ্চুপ থাকা, নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করা কিংবা তাদের তুষ্ট করার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ ভুল।"
তিনি আরও বলেন, "এসব বসতি স্থাপনকারীদের কৌশলই হলো—বিশ্বের ভালো মানুষ বা ইহুদিরা তাদের সমস্ত অবৈধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নমনীয়ভাবে দেখবে অথবা এড়িয়ে যাবে।" লন্ডনের কিংসটন লিবারেল সিনাগগের রাব্বি লেভ টেলরও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা জারি করে "সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।"
বিতর্কিত 'ই-ওয়ান' করিডোরে ইসরায়েলের নতুন করে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিল। উল্লেখ্য, ই-ওয়ান এলাকায় নতুন কোনো নির্মাণকাজ শুরু হলে তা পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ফলে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ভৌগোলিক সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডে নির্মিত সমস্ত ইসরায়েলি বসতি সম্পূর্ণ অবৈধ—যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) কর্তৃক পুনর্নুমোদিত হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ডের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলেও, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের আরও ১১টি দেশ যুক্তরাজ্যের এই পথ অনুসরণ করে একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি প্রথমে ইসরায়েলের সাথে কথা বলে তাদের মনোভাব জানতে চান।
টেক্সাসে একটি রিপাবলিকান কনভেনশনে যাওয়ার পথে ইউকে-র বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন: "আমি বিষয়টি দেখেছি এবং আমি শিগগিরই ইসরায়েলের সাথে কথা বলব। তারা কী ভাবছে তা আমি আগে জেনে নিতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "সেখানে ঠিক কী ঘটছে তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি, কিন্তু আমি জানতে চাই হঠাৎ করে কেন যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিল?"
তবে জানা গেছে, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের সাথে এক ফোনালাপে যখন তাকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল, তখন ট্রাম্প এর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আপত্তি জানাননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানিয়েছেন, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আজ সকালে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) আরও জানান, এই বরাদ্দের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ পৃথিবীর সবার জন্য এক শাশ্বত আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন অনিন্দ্য ও অনুপম চরিত্রের অধিকারী। একজন আদর্শ মানুষের প্রয়োজনীয় সব ইতিবাচক গুণ তাঁর পুণ্যময় চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সবাইকে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিরা তাদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত পেয়েছেন- এমন নজির নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে সেই নজির স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ২০২৩ সালে যেখানে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তা কমিয়ে এ বছর মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় আনা সম্ভব হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া চাই। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।’
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি চরম সংকটে পড়েছিলেন। ওই সময়ই তার হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এটিকে আল্লাহর অশেষ রহমত হিসেবে দেখেন তিনি। পরবর্তীতে দুবাই বিমানবন্দরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার হলেও মহান আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় বিশ্বাসের শক্তিতে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্তি পান বলে উল্লেখ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর আওতায় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন আক্তারের প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে ধর্মমন্ত্রী তাকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি অন্য ১১ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে মাসিক সম্মানি ও কল্যাণ ভাতা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, "সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করেছেন। আমরা সৌভাগ্যবান যে আমরা তাঁর উম্মত। রাসুল (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি দিক মানবজীবনের জন্য উত্তম আদর্শ।"
তিনি বলেন, "মহানবী (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করতে পারলে ইহকাল ও পরকালে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।" ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, "মানুষের সব কর্ম ও চলার পথে আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে।"
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, "কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে মানুষের জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে সঠিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করা সম্ভব।"
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, "পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা আদর্শ জীবনচরিত হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনচরিত। তাঁর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ।"
উপাচার্য বলেন, "ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে জানা এবং তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা।" তিনি আরও বলেন, "মহানবী (সা.) সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য ‘রাহমাতাল্লিল আলামিন’। তাই তাঁকে ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান, মসজিদ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ