বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০২ পি.এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অবস্থিত শতবর্ষী রানীখং সাধুযোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লী থেকে প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটি ঘণ্টা চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধর্মপল্লী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া ঘণ্টাটির মূল্য এক লাখ টাকার বেশি। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের রানীখং সাধুযোসেফের ধর্মপল্লীতে চুরির এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন ধর্মপল্লী কর্তৃপক্ষ।
ধর্মপল্লীর ম্যানেজার পলিনুস রুরাম জানান, রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে প্রার্থনার সময় ঘণ্টা বাজানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারা ঘণ্টাটি খুঁজে পাননি। পরে ঘণ্টাটির সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেও কিছুই পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ঘণ্টাটির ওজন প্রায় ৪০ কেজি এবং মূল্য এক লাখ টাকার বেশি। পাঁচ বছর আগে এটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন চুরির ঘটনায় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ঘণ্টাটি উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শতবর্ষী এই ধর্মপল্লীর ঘণ্টাটি ধর্মীয় কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চোর চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘ধর্মপল্লীটিতে দিনে লোকজন থাকলেও রাতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই। সিসিটিভি ক্যামেরাও সেখানে স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে ধর্মপল্লীর ফাদারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের আজ ১৩ কার্তিক। হেমন্তকাল চলছে। শীতের আগমন সামনে। নদীকেন্দ্রিক প্রকৃতিতে এই সময় নির্মল আকাশের সাথে শান্ত জলরাশির মিলন ঘটে। তবে শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানার সৌন্দর্য বেড়ে গেছে।
প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ঋতুর পালাবদল ঘটে। শরতের পর হেমন্তের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা আসে। নীল আকাশে সাদা মেঘ, নদীর শান্ত জলের প্রবাহ এবং তার বুকে ভেসে থাকা কচুরিপানার সবুজের সমারোহ এখন গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীকে ঘিরে রয়েছে। গ্রামবাংলার এই পরিচিত রূপে প্রকৃতিপ্রেমীরা মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদের কালীগঞ্জের খপয়াঘাট এলাকায় সেখানে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের মতে, হেমন্তের বিকেলের এই দৃশ্য তাদের কাছে প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা অপরূপ ছবি। কোথাও শান্ত জলে ভেসে থাকা কচুরিপানা, কোথাও দলবদ্ধ সবুজ জলজ উদ্ভিদের ভেলা। নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তৃত জনপদ এবং দূরের গাছপালা মিলিয়ে সৃষ্টি করেছে মনোরম দৃশ্য। হেমন্তের এই প্রকৃতি জানিয়ে দিচ্ছে শীত আসতে বেশি দেরি নেই।
বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্তের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বর্ষার জলমগ্ন প্রকৃতি ধীরে ধীরে শুষ্কতার দিকে এগিয়ে যায় এ ঋতুতে। মাঠে মাঠে পাকা ধানের সোনালি আভা, ভোরের শিশিরভেজা ঘাস এবং হালকা শীতের পরশ গ্রামবাংলায় নিয়ে আসে নতুন আবহ। এর প্রভাব নদীকেন্দ্রিক জনপদে সবচেয়ে বেশি পড়ে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে নদীর পাড়ের পরিবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। তবে শীতলক্ষ্যার সৌন্দর্যের আড়ালে নদীটির পরিবেশ ও নাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কচুরিপানার সৌন্দর্য থাকলেও নদীর পানিতে এর বিস্তার জলপ্রবাহ ও নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নদীদূষণ, দখল এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।
নদীর প্রকৃত সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য সুরক্ষায় নিয়মিত পরিচর্যা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন বলে মত দর্শনার্থী ও নদীপারের মানুষের।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিন অরণ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, "প্রকৃতিকে রক্ষায় নদীরক্ষার বিকল্প নেই। শীতলক্ষ্যা নদীর কচুরিপানা স্থায়ীভাবে দূর করতে না পারলে নদীর প্রাণ স্থবির হয়ে পড়বে। তাই নদী রক্ষায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।"
এদিকে, হেমন্তের শুরু থেকেই শীতলক্ষ্যার ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের ফুসকা বিক্রেতা হাবিবা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, "সকালে ক্রেতা তেমন হয় না। তাই দুপুরের পর দোকান খোলেন তিনি। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক দর্শনার্থী নদী দেখতে আসেন। তারা ফুচকা খেতে খেতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন।"
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, "নদী ও নদীর সৌন্দর্য রক্ষায় বর্তমান সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। খুব শিগগির বিষয়টি ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে আশা করি। শীতলক্ষ্যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নাব্যতা রক্ষায় আমরা কাজ করছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জিঞ্জিরাম নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে। ওই দুই শিশু চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের বামনের চরে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজন হলো বামনের চর এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুল্লাহ (৬) এবং অন্যজন নবীন চানের ছেলে নাঈম (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই শিশু বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এক সময় তারা বাড়ির পাশের জিঞ্জিরাম নদীতে নেমে যায় এবং সেখানেই ডুবে মারা যায়। পরে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনার পর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সরকার ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণার ঘটনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ কেলেঙ্কারির মতো প্রতারণার ঘটনায় যদি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে ক্ষতি হয়, তাহলে ভুক্তভোগীকে হারানো অর্থের অন্তত সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলতে যাচ্ছে। তবে, পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে এখনো কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের চূড়ান্ত চলাচলের অনুমতি মেলেনি। এর ফলে জাহাজমালিক এবং দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এবার পরিবেশ সংরক্ষণে টেকনাফ ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট দিয়ে দ্বীপে যেতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। এ বিষয়ে আগামী ৪ নভেম্বর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর মন্তব্য করেন, ‘প্রায় ১০টি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন এখনও পাওয়া যায়নি। সময়মতো জাহাজ চালু করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।’ তিনি আরও জানান, প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। পর্যটকদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য জেটির পন্টুন ও প্ল্যাটফর্ম দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনী জাহান বলেন, ‘আগ্রহী জাহাজগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্নের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার টেকনাফ ঘাট থেকে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। আগামী ৪ নভেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ