০১:৩৪ পি.এম
পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও মানহানি ছড়ানোর বিরুদ্ধে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল, প্রতারণা এবং অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অযথা ব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গতকাল (৯ অক্টোবর ২০২৬) সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন শায়খ আস-সুদাইস। সৌদি প্রেস এজেন্সির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি মুসলিমদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের শরিয়াহ ও নৈতিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত। তাই এর যথাযথ ব্যবহার, কল্যাণকর কাজে প্রয়োগ এবং অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এ নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
আরও পড়ুন: পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এতে অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতী আব্দুল মালেক
শায়খ আস-সুদাইস বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে উত্তম চরিত্র, নৈতিকতা ও শুদ্ধ আচরণের শিক্ষা দেয় ইসলাম। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসলামের নৈতিক নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। তিনি পবিত্র কোরআনের এই বাণী উদ্ধৃত করেন, ‘তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন বিষয় জানেন।’ (সুরা গাফির, আয়াত: ১৯)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বহীন ব্যবহার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। এর মাধ্যমে গুজব, অপবাদ, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে; ক্ষুণ্ন হয় মানুষের সম্মান, অধিকার ও সম্পদ। এ কারণে ভুয়া সংবাদ প্রচারকারী প্ল্যাটফর্ম এবং প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একজন মানুষ যা লেখেন, বলেন, পুনঃপ্রকাশ করেন কিংবা শেয়ার করেন, তার প্রতিটিরই নৈতিক দায় রয়েছে। অসতর্কভাবে বলা একটি কথাও কখনো মানুষের কল্যাণের কারণ হতে পারে, আবার কখনো তা মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি পবিত্র কোরআনের এই আয়াত উদ্ধৃত করেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)
মসজিদুল হারামের এই ইমাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেন।
আরও পড়ুন: হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও বিকৃত করা, কারও কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলেছেন বা এমন কাজ করেছেন বলে মিথ্যা ভিডিও, ছবি ও বিবৃতি প্রচার করা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ড মানুষের সম্মান ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং সমাজে মিথ্যাচার ছড়ানোর পথ তৈরি করে।
যেকোনো সংবাদ, ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শায়খ আস-সুদাইস। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা তুলে ধরেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)
খুতবায় শায়খ আস-সুদাইস মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর চালানো সন্ত্রাসী হামলারও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ইসলামী শরিয়াহ, মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতি এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও প্রথার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়। এগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা জরুরি।
আরও পড়ুন: ‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন