ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান শায়খ সুদাইসের


গুজব ও এআইয়ের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান শায়খ সুদাইসের

পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও মানহানি ছড়ানোর বিরুদ্ধে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, কণ্ঠস্বর নকল, প্রতারণা এবং অন্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অযথা ব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গতকাল (৯ অক্টোবর ২০২৬) সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন শায়খ আস-সুদাইস। সৌদি প্রেস এজেন্সির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি মুসলিমদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামের শরিয়াহ ও নৈতিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত। তাই এর যথাযথ ব্যবহার, কল্যাণকর কাজে প্রয়োগ এবং অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এ নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

আরও পড়ুন: পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এতে অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতী আব্দুল মালেক

শায়খ আস-সুদাইস বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে উত্তম চরিত্র, নৈতিকতা ও শুদ্ধ আচরণের শিক্ষা দেয় ইসলাম। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসলামের নৈতিক নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। তিনি পবিত্র কোরআনের এই বাণী উদ্ধৃত করেন, ‘তিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন বিষয় জানেন।’ (সুরা গাফির, আয়াত: ১৯)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বহীন ব্যবহার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। এর মাধ্যমে গুজব, অপবাদ, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে; ক্ষুণ্ন হয় মানুষের সম্মান, অধিকার ও সম্পদ। এ কারণে ভুয়া সংবাদ প্রচারকারী প্ল্যাটফর্ম এবং প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একজন মানুষ যা লেখেন, বলেন, পুনঃপ্রকাশ করেন কিংবা শেয়ার করেন, তার প্রতিটিরই নৈতিক দায় রয়েছে। অসতর্কভাবে বলা একটি কথাও কখনো মানুষের কল্যাণের কারণ হতে পারে, আবার কখনো তা মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি পবিত্র কোরআনের এই আয়াত উদ্ধৃত করেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)

মসজিদুল হারামের এই ইমাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন: হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব

তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও বিকৃত করা, কারও কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলেছেন বা এমন কাজ করেছেন বলে মিথ্যা ভিডিও, ছবি ও বিবৃতি প্রচার করা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ড মানুষের সম্মান ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং সমাজে মিথ্যাচার ছড়ানোর পথ তৈরি করে।

যেকোনো সংবাদ, ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শায়খ আস-সুদাইস। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা তুলে ধরেন, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)

খুতবায় শায়খ আস-সুদাইস মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর চালানো সন্ত্রাসী হামলারও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ইসলামী শরিয়াহ, মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতি এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও প্রথার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়। এগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা জরুরি।

আরও পড়ুন: ‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি-অমিত শাহর লজ্জা হওয়া উচিত: সিপিজের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


মোদি-অমিত শাহর লজ্জা হওয়া উচিত: সিপিজের নিন্দা

ভারতের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিপিজে) তাদের নেতা দীপসহ অন্যান্য নেতাদের আটক করার জন্য নিন্দা প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, ‘মোদি, শাহ, লজ্জা হওয়া উচিত আপনাদের।’

দিল্লিতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে রয়েছে। সিপিজের অভিযোগ, আজ দিল্লিতে একটি বিমান অবতরণের পর সেখান থেকেই দীপকে এবং আন্দোলনের আরো দুই পরিচিত নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে যাচ্ছিলেন।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের উদ্যোগে মশারি বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


কড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের উদ্যোগে মশারি বিতরণ

ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কড়াইল এলাকায় মশারি বিতরণ করেছেন ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮ ঘটিকায় বনানী মডেল হাই স্কুল মাঠে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জনসাধারণের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘এ দেশের মানুষ আজ বড় অসহায়। এখানে যাদের ক্ষমতা আছে, আইন তাদের পক্ষে। আজ আপনার কাছে চাঁদা চাইবে, না দিলে মারধর করা হবে, রড দিয়ে মারধর করে মেরে ফেলবে, অফিস ভাঙচুর করবে। এই শোষক গোষ্ঠী ক্ষমতায় বসে জনগণকে শোষণ করছে। তাই এমন মানুষের হাতে নেতৃত্ব দিতে হবে, যারা আপনাদের সমস্যা বুঝবে এবং তা সমাধান করবে।’

চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসা পায় না। হাসপাতালগুলোতে ঠিকভাবে সেবা দেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই, সেখানের চিকিৎসাব্যবস্থা কত সুন্দর।’

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে জনগণ আর চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের সমর্থন করবে না, ইনশাআল্লাহ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতায় তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে, সেখানে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। এসব পানিতেই এডিস মশা জন্মায়। সুতরাং আমাদের আশপাশে পানি ও ময়লা যেনো না জমে থাকে, সর্তক ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যদি ডেঙ্গু হয়, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।’

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই দেশের জনগণের কল্যাণে বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে যে কাজগুলো করছে, ইনশাআল্লাহ যদি সিটিতে ও সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে, আজ আপনাদের মনে যে ব্যাথা, কষ্ট এবং সমাজে যে বৈষম্য হচ্ছে, অধিকার ভূলন্ঠিত হচ্ছে তা দূর করা হবে। তা আর থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘একবার সৎ যোগ্য ও আল্লাহ ভীরু মানুষকে সিটি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বে বসান, ইনশাআল্লাহ জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারী মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও গুলশান জোনের সহকারী পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ, থানা কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম মোস্তফা কাইয়ুম, মু. জয়নাল আবেদীন, মু. আতিকুল ইসলাম, শাহজাহান সরকার, মাও. আবদুল মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, হাফেজ গোলাম আজম শাহীন প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।

মশারী বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুলশান পশ্চিম থানা আমীর মাও. মাহমুদুর রহমান আজাদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গুলশান পশ্চিম থানা সেক্রেটারী মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।

বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মু. সাইফুল ইসলাম।

একইভাবে বনানী ও ভাষানটেক থানায়ও মশারী বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নববীর জুমার খুতবার সারসংক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


মসজিদে নববীর জুমার খুতবার সারসংক্ষেপ

মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কথাবার্তা। সদয় বাক্য মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং বিবাদ-বিসংবাদ দূর করে। অপরদিকে, কঠোর ও অশালীন কথা মানুষের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম শব্দ বেছে নেওয়া এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে চলার আহ্বান জানান পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. খালিদ আল-মুহান্না।

গতকাল (শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬) মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খুতবায় তিনি তাকওয়ার গুরুত্ব, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম চরিত্র, উত্তম কথার মর্যাদা এবং মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণের ফজিলত তুলে ধরেন।

শায়খ খালিদ আল-মুহান্না বলেন, আল্লাহভীতি এমন এক মহৎ গুণ, যা মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়কে পবিত্র রাখে, প্রকাশ্য আচরণকে সুন্দর করে এবং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। তাকওয়াই প্রকৃত সুখের পথ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বোত্তম পাথেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা লাইলের ৫-৭ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম প্রতিদানকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তার জন্য তিনি সহজ পথ সুগম করে দেন।

মসজিদে নববির ইমাম বলেন, মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহর অন্যতম বড় অনুগ্রহ হলো, তিনি তাদের এমন জীবনাদর্শ দিয়েছেন, যা অনুসরণ করলে মানুষের চরিত্র, কথা ও কাজ সুন্দর হয়ে ওঠে। এই আদর্শের সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁর জীবন ছিল উত্তম আচরণ, মার্জিত কথাবার্তা, কোমলতা ও প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন।

শায়খ আল-মুহান্না বলেন, মহানবী (সা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা, মধুর কথাবার্তা, মনোমুগ্ধকর আচরণ এবং বিচক্ষণতা। তিনি কখনো অকারণে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। বরং মানুষকে সুসংবাদ দিতেন, কোমলভাবে উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনের সময়ও মার্জিত ভাষায় সংশোধন করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) উচ্চকণ্ঠ, অশ্লীলভাষী কিংবা অভদ্র ছিলেন না। তাঁর কথা ও কাজ উভয়ই ছিল পরিপূর্ণ সৌন্দর্য ও মহত্ত্বের প্রতিফলন। তাই তাঁর সুন্নাহ অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, তিনি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও ইতিবাচক শব্দ পছন্দ করতেন। ভালো নাম পছন্দ করতেন এবং মন্দ অর্থবোধক নাম অপছন্দ হলে তা পরিবর্তন করে দিতেন। পবিত্র কোরআনে জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর তাদের পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ২৪)

তিনি ব্যাখ্যা করেন, উত্তম কথার সর্বোচ্চ পর্যায় হলো তাওহিদ ও ইখলাসের বাণী—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এর পাশাপাশি আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা এবং কল্যাণকর জ্ঞানচর্চাও উত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, মানুষের উপকারে আসে, কল্যাণের শিক্ষা দেয় কিংবা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সংশোধনের পরিবেশ সৃষ্টি করে—এমন প্রতিটি কথাই উত্তম কথার মর্যাদা পেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র ও উত্তম বিষয়ই গ্রহণ করেন। তাই একজন মুমিনের কথাবার্তায় সত্যবাদিতা, শালীনতা, আন্তরিকতা ও কল্যাণের প্রতিফলন থাকা উচিত। অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ ভাষা, পরনিন্দা ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য থেকে দূরে থাকাই মুমিনের পরিচয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো বস্তু থাকবে না। আর আল্লাহ অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২০০২)

শায়খ খালিদ আল-মুহান্না মুসলিমদের রাগের সময় নিজেদের সংযত রাখার এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উত্তেজনার মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ফেলে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। তাই রাগের সময় জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং উত্তম শব্দ বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সালাম দেওয়া ও তার উত্তর দেওয়া, উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেওয়া—এসবই উত্তম কথার উদাহরণ। যে কথা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায় এবং মানুষের উপকার করে, তা কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে খাদ্যের মজুত পর্যাপ্ত, রমজানেও সংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ পি.এম


দেশে খাদ্যের মজুত পর্যাপ্ত, রমজানেও সংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানিয়েছেন, দেশে খাদ্যের মজুত চাহিদার তুলনায় বেশি। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে খাদ্যের সংকট নেই এবং আসন্ন রমজান মাসে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে, গুদামগুলোতে জনবলের সংকট বিদ্যমান। এই সংকট মোকাবেলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় প্রধান খাদ্য গুদামঘর বা সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, "দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। যতটুকু চাহিদা রয়েছে, তার চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত আছে। তাই খাদ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। রমজানেও কোনো সংকট হবে না।"

তিনি আরও বলেন, খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি জনগণের কাছে সুলভ মূল্যে পণ্য সরবরাহের আশ্বাসও দেন।

আফরোজা খানম রিতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই পণ্যের দামে পরিবর্তন এসেছে। তবে দেশের মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। জনগণের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও বলেন, খাদ্য মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে খাদ্যগুদামগুলোর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এসব গুদামে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। জনবলসংকট কাটিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রমজান সামনে রেখে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%