ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে অনুরোধ কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের


ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে অনুরোধ কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের

ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : সাইবেরিয়ার ওমস্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন।

শনিবার, সাইবেরিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন এবং আজভ সাগরের তীরে একটি পর্যটন কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের এসব হামলায় মস্কোর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি শহরে একজন এবং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দুইজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভুট্টাবাহী একটি কার্গো জাহাজে রুশ হামলার পর দুই নাবিক নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, দখলকৃত ইউক্রেনে রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজভ সাগরের তীরে পর্যটন কেন্দ্রে ইউক্রেনের হামলায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভ জানাচ্ছে, ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে রুশ হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ : ইশরাক হোসেন

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, চলমান যুদ্ধের চার বছর পেরিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে।

মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেন শনিবার রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যেখানে দূরবর্তী স্থানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাইবেরিয়ার তিউমেন অঞ্চলের গভর্নর জানান, এখানে একটি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন জানিয়েছে, ড্রোন হামলার হুমকির কারণে ইউরাল অঞ্চলের ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে একটি সর্ব-রাশিয়ান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাইবেরিয়ায় হামলার জন্য দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কিয়েভ কিরভ অঞ্চলের একটি সামরিক কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে। এর আগের দিনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইশরাক কাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্পষ্ট: আখতার হোসেন

কিয়েভ বলছে, তাদের পাল্টা হামলার লক্ষ্য হচ্ছে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং ক্রেমলিনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইরান যুদ্ধ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা

লোহিত সাগরের দুটি প্রধান সৌদি তেল বন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল শনিবারের এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক বিপজ্জনক ধাপে রূপ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরের ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল লোহিত সাগরেও। এতে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম লাগাম ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১২৮ ডলারে পৌঁছেছিল। আর ২০০৮ সালে তা সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সুরাহা না হলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, তারা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জিজানের চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার এলাকা থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এশিয়াভিত্তিক তেলের ব্যবসায়ীরা জিজানের জ্বালানি মজুতাগারের ক্ষতির তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে সৌদির প্রধান তেল রপ্তানিকারক বন্দর ইয়ানবু লক্ষ্য করে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদির তেল সরবরাহের প্রধান বিকল্প পথ।

হুতি হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতিদের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মারিব, আল-জফ এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী হোদেইদাহর টেলিকম অবকাঠামো, কামারান দ্বীপ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী।

ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে চলা অস্ত্রবিরতি ভেঙে দুই পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, সৌদি আরব এ যুদ্ধে জড়ালে তাদের সব তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

লোহিত সাগরে প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রতিদিনের পারাপার ঝুঁকিতে থাকার কারণে বিশ্ববাজারে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, আপাতত ইরানে কোনো বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না। তিনি জানান, সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ চলছে।

টানা ১৩ দিন ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পর গত শুক্রবার রাতে ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বড় হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন বাহিনী প্রয়োজন হলে প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান হুমকিতে ভয় পায় না এবং চাপের মুখে নতি স্বীকার করে না।

মার্কিন আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর দিয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পার হয়ে আসতে পারে। বর্তমানে সৌদির ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে।

জেপি মর্গানের বৈশ্বিক পণ্যসামগ্রী কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা বলেছেন, সৌদি আরব চাইলে সুয়েজ খাল দিয়ে তেল পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সমস্যা হলো তাদের বড় তেলের ট্যাঙ্কারগুলো গভীরতার কারণে আটকে যেতে পারে। যদি তারা ছোট ট্যাঙ্কারে করে পাঠায়, তাহলেও নৌযানগুলোর গন্তব্যে পৌঁছাতে আট সপ্তাহ সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানকে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার কোন উপায়ও নেই কারণ এতে বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে না। এতদিন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমূল্যের প্রিমিয়াম নিচ্ছিল, কিন্তু এখন তারা ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজকে বীমা সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বৈশ্বিক তেলের বাজার লাগামছাড়া হওয়ার শঙ্কা রয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়াও গত মাসের শুরুর দিকে বাহরাইন ও কুয়েত ইরানের ভেতরে গোপনে হামলা চালিয়েছে। ইয়াহু নিউজের খবর অনুযায়ী, ওই হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতাগারকে আঘাত হানা হয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্র দুটি তুলনামূলকভাবে ছোট বিমানবাহিনী পরিচালনা করে, তবে তাদের হাতে মার্কিন ও ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান থাকার কারণে হামলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ায় জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ায় জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্ব গঠন

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (জেএইচএএএ) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেটি শনিবার টুংগ্যাবি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভায় গঠিত হয়।

সভায় সংগঠনের বিগত এক বছরের কার্যক্রমের পর্যালোচনা, বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, আর্থিক বিবরণী অনুমোদন এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এই প্রতিবেদনে গত বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম উল্লেখ করা হয়, যার পাশাপাশি আর্থিক হিসাব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরপর উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিতে প্রতিবেদনটি অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলে কাজল রায় সভাপতি, ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা সহ-সভাপতি, গৌতম দাস (মিঠু) সাধারণ সম্পাদক এবং মলয় সাহা কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হন।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নিকেশ নাগ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, ড. সজল রায় ও আকাশ কর।

নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. সমীর সরকার। তিনি সহকারী নির্বাচন কমিশনার পঙ্কজ বাড়ৈর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা নবনির্বাচিত কমিটিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল সংগঠন হিসেবে প্রবাসী জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।

পাশাপাশি সংগঠনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সংগঠনের উন্নয়নে সব সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং একটি আরও সমৃদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাস্পিয়ান সাগরে প্রাণঘাতী জাহাজ হামলা, ইউক্রেনকে দায়ী করল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


কাস্পিয়ান সাগরে প্রাণঘাতী জাহাজ হামলা, ইউক্রেনকে দায়ী করল তেহরান

ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : ইরান শনিবার ইউক্রেনকে দায়ী করেছে কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে একজন নাবিককে হত্যা এবং অপর একজনকে আহত করার জন্য। তেহরান একই সাথে এ ঘটনার জবাব দেওয়ার জন্যও সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।

এই অভিযোগের সুত্রপাত ঘটেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণার পর, যেখানে তিনি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজে দূরপাল্লার হামলার কথা জানান। ইরানের এই অভিযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সংঘাত সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শনিবার সকালে ওই হামলার ফলে জাহাজটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত ও অপর একজন আহত হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি।’

উল্লেখ্য, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ‘খুবই শক্তিশালী সাফল্য’ অর্জন করেছে। এতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অপরদিকে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সব মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে, যেগুলো ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এ ‘বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদ জানাতে।

ইরনা আরও জানাচ্ছে যে, এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এ হামলার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘কঠোর জবাব’ দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী চীন, সমঝোতার উদ্যোগ সামিটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী চীন, সমঝোতার উদ্যোগ সামিটের

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে একটিতে ত্রুটি বোঝার কারণে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার কাজে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আলোচনা চলছে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই) এবং দেশের সামিট গ্রুপের সঙ্গে।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের ব্যাপারে সিএনইইর একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহেই তারা জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এই সময়ে সামিট গ্রুপও বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহালের জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে জোর তৎপরতা চলছে।

সূত্র জানায়, তৃতীয় এফএসআরইউ নিয়ে আগের চুক্তি বাতিলের পর সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে সামিট গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি বাতিল ঘটনার পর তারা হাইকোর্টে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সামিটের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, বিএনপি সরকার চাইলে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব। তবে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে এখনো তেমন আগ্রহ প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় গত চার বছর ধরে তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সামিটের চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি সৌদি আরামকোর সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি জুলাইয়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ১২টি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই প্রক্রিয়াও বাতিল হয়ে গেছে।

এদিকে সিএনইইর প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং সামিটের সমঝোতার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, চীনের সিএমসি গ্রুপের মাধ্যমে সিএনইই বাংলাদেশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের এক শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহী বলে জানা যায়। খুব শিগগিরই সিএনইই জ্বালানি বিভাগের কাছে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে। ওই উপস্থাপনায় জ্বালানি বিভাগের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত থাকবেন। এরপর পরিষ্কার হবে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্পে অংশ নিতে চায়। তবে আরএফপি প্রক্রিয়া বাতিলের পর সরাসরি এ উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি মাসে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সরকার চাইলে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা আবারও তৃতীয় এফএসআরইউ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহাল করা হলে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে নতুন টার্মিনাল চালু হবে। সমঝোতার হলে তারা হাইকোর্টে চলমান মামলাও প্রত্যাহার করে নেবে।

২০২৪ সালের ৩০ মার্চ বিশেষ আইনের অধীনে সামিটকে তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বরে টার্মিনালটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেট্রোবাংলা সেই চুক্তি বাতিল করে। পরে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায় সামিট গ্রুপ।

গত ১৩ জুলাই মামলার শুনানিতে সামিট আদালতের কাছে পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ চাইলেও হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী আগস্টের মাঝামাঝি নির্ধারিত রয়েছে।

সামিট এলএনজি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আলম সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আদালতের বাইরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে মামলার কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সামিটের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত জানতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, সামিট গ্রুপ অতীত সরকারের সময় জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। তাদের ভাষ্য, বিশেষ আইনের অধীনে একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ নানা সুবিধা পেয়েছিল সামিট। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করলেও ব্যবসা পরিচালনা করছে বাংলাদেশে। এসব কারণে বর্তমান সরকারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই বলে তারা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরামকোর সঙ্গে এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তখন চুক্তি করতে রাজি হয়নি। পরে বুয়েটের উপাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে। কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আরামকো প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিপরীতে কঠোর শর্ত দিয়েছে। ১৮ মাসে প্রকল্প শেষ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা ৩০ মাস সময় লাগবে বলে জানায়। এই কারণে আরামকোর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে নতুন করে জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সুপারিশ করা হয়।

এক্ষেত্রে, গত মাসে জ্বালানি বিভাগ ওমান, সৌদি আরব, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে আরএফপি পাঠায়। একই সঙ্গে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোকেও চিঠি দেওয়া হয়। তবে পরে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। বর্তমানে চীনের সিএনইইর সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আসে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ অবস্থায় একটি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

এদিকে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য সরকারের কাছে ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দেওয়ার চার বছর পরেও গ্যাস সংযোগ পায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%