০৯:৩৯ পি.এম
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি সিলগালা গোডাউন থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ বালাইনাশক (কীটনাশক) উধাও হওয়ার ঘটনায় তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ তদন্ত কার্যক্রমটি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত দলের উদ্যোগে পরিচালিত হয়। গোডাউনসহ আশপাশের কয়েকটি গোডাউন ও প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করে তদন্ত দল তথ্য সংগ্রহ করেছে।
বিসিকের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) মোহাম্মদ আরিফুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিসিকের মহাব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন ও সারোয়ার হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ জুন সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি গোডাউনে সরকার নিষিদ্ধ এসিআই কম্পানির ‘বিফার ৫ জি’ কীটনাশক গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রশাসন অভিযান চালায়। এ সময় ট্রাকে তোলা এবং গোডাউনে রাখা ১ ও ২ কেজির প্যাকেটের মোট ৯৯ মেট্রিক টন কীটনাশক জব্দ করা হয়। পরে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযানে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহিনা বেগম, সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণসহ র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসিআই কোম্পানির সৈয়দপুর উপজেলা ডিলার মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারকে আটক করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে চ্যাম্পিয়ন দ্বীপ স্পোর্টিং রয়েলস, জমজমাট আয়োজনে শেষ হলো ফুটসাল টুর্নামেন্ট–২০২৬
এ ঘটনায় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান ওই গোডাউনে থাকা নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করতে গেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে গোডাউনে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, সেখানে জব্দ করা কীটনাশকের কোনো অস্তিত্ব নেই। গোডাউনের মেঝেতে পড়ে ছিল শুধু ১২৩টি ছেঁড়াফাটা এক কেজির প্যাকেট।
আদালতের নথিতে থাকা হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯৯ হাজার প্যাকেট কীটনাশক সেখানে থাকার কথা থাকলেও তা না পাওয়ায় ধ্বংস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গোডাউনে মেঝেতে পড়ে থাকা প্যাকেটগুলো বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে গোডাউনটি পুনরায় তালাবদ্ধ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গোডাউনে জব্দ করা বালাইনাশক না থাকায় বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার তদন্ত দল সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে এসে দিনব্যাপী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিসিক পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল হক জানান, ‘আমরা সার্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং সরাসরি সবকিছু দেখেছি। এসব পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটি মূলত বিসিকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত। তাই এখনই সবকিছু খুলে বলা যাবে না।’
এ সময় নীলফামারীর উপপরিচালক নুরেল হক, সৈয়দপুর শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, সৈয়দপুর থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণ ও এসআই মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: চরফ্যাশন রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন