মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪১ এম
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশজুড়ে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে, যা ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য কারসাজি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং সরবরাহে অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৪২টি জেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলস্বরূপ, ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের জন্য ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এদিন অধিদপ্তরের ৫৬টি টিম একযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি কার্যক্রম চালিয়েছে।
অভিযানের সময় ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ওজন ও পরিমাপের যথার্থতা যাচাই করা হয়। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মতো অনিয়ম প্রতিরোধে।
বিশেষভাবে ফলের বাজারে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্যে ফল বিক্রি এবং পণ্যের মান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত কিংবা পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং মোড়কজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার রশিদ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা অন্য কোনো প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোল করার পর উদযাপন করা স্বাভাবিক। অনেক সময় সেই উদযাপন বুনো হয়ে উঠতে পারে। সর্বশেষ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে গোল করার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তেমনই একটি বাঁধভাঙা উদযাপন করেছিলেন। উচ্ছ্বাসের মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দেন।
কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। জুড বেলিংহামের পাসে গোল করার আগে আক্রমণ বিল্ড আপের সময় ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন। ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল হওয়ার পর শাস্তি হিসেবে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা ব্রাজিলিয়ান তারকাকে লাল কার্ড দেখান।
ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একই অপরাধে একজনকে লাল কার্ড এবং অপরজনকে হলুদ কার্ড দেখানোর কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কাও এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
চলুন বিস্তারিত জানা যাক। ১৮ মাস আগে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল মায়োর্কা-লেগানেসের ম্যাচে। সেদিন ছিল ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল। লা লিগার গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ক্লেমঁ নেউয়ের চুল টেনে ধরেছিলেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার দানি রদ্রিগেস। রেফারি আলেহান্দ্রো মুনিজ রুইজ ঘটনাটি দেখলেও তাকে লাল কার্ড নয়, বরং হলুদ কার্ড দেখান।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদ-ভিয়ারিয়াল ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটে। এবার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস। গোল করার আগে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন। পরে ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস গোল বাতিল করেন এবং সরাসরি ভিনিকে লাল কার্ড দেখান। এই ম্যাচে ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন মুনিজ রুইজ। তার হস্তক্ষেপে ভিডিও দেখে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তাই ১-০ গোলের জয়ের পরও বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
রিয়াল দীর্ঘদিন ধরেই রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসছে। এমন ঘটনার পর পুরোনো রেকর্ড খুঁজে রেফারির সমালোচনা করা হচ্ছে। দুই ম্যাচেই মুনিজ রুইজ উপস্থিত থাকায় সমালোচনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। রিয়াল সমর্থকরা দাবি করছেন রেফারি দ্বিচারিতা করছেন।
২০২০ সালের ২৮ নভেম্বরের এক ম্যাচের সিদ্ধান্তও রিয়ালের বিপক্ষে গেছে। নিজেদের বক্সে মার্সেলোর চুল টেনে ধরেছিলেন আলাভেসের এক ডিফেন্ডার। রিয়ালের খেলোয়াড়রা তখন লাল কার্ড ও পেনাল্টির দাবি করেছিলেন। কিন্তু রেফারি আদ্রিয়ান করডেরো ভেগা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ভিএআরও কোনো ফাউল নিয়ে পর্যালোচনা করেনি। সেদিন রিয়াল ২-১ গোলে হেরেছিল।
তবে চুল টানার কারণে লাল কার্ড দেখানোর নিয়ম নেই। শাস্তি দেওয়ার আগে ফাউলের তীব্রতা বুঝতে হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ১২ নম্বর আইনে বলা হয়েছে, বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে যদি কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জোরপূর্বক প্রতিপক্ষের কারো চুল টানেন, তবে সেটি উগ্র বা সহিংস আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। তখন সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন রেফারি।
অন্যদিকে, যদি চুল টানার ঘটনা বল দখলের স্বাভাবিক লড়াইয়ের অংশ হয়, অথবা তার তীব্রতা ও আঘাত করার উদ্দেশ্য কম থাকে, তবে রেফারি সেটিকে উগ্র আচরণ হিসেবে বিবেচনা নাও করতে পারেন। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য করে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড বা সতর্কবার্তা দিতে পারেন রেফারি।
তিনটি ঘটনার তুলনা করলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রতিবারই প্রতিপক্ষের চুল টানার অভিযোগ থাকলেও শাস্তির ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও হলুদ কার্ড, কোথাও সরাসরি লাল কার্ড, আবার কোথাও কোনো শাস্তিই হয়নি। এই পার্থক্যই রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হলিউডের অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন জীবনের সূচনায় সমর্থন জানালেন। ‘স্পাইডার-ম্যান’ খ্যাত এই তারকা নিজেই তার প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের বিয়ের অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
নবদম্পতির প্রথম চুম্বনের মুহূর্তেও টোবি উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কিছু ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেনিফার ১০ অক্টোবর হাওয়াইয়ের ফোর সিজনস রিসোর্ট লানাইয়ে ব্যবসায়ী জিয়োফ্রি ওগুনলেসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়োফ্রি নাইজেরিয়ার প্রভাবশালী আইনজীবী আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, টোবি ও জেনিফারের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সংসার শুরু করলেন জেনিফার।
জেনিফারের বিয়েতে হলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন র্যাচেল জো, কোর্টনি কক্স, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও তার প্রেমিকা ভিত্তোরিয়া চেরেত্তি। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোস।
টোবি ম্যাগুয়ার ও জেনিফার মেয়ার ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা আসে। পরে ২০২০ সালে জেনিফার বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এই সাবেক দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।
বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তন স্ত্রীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টোবির উপস্থিতি এবং বিয়ের আয়োজনে তার বিশেষ ভূমিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হলেও সাবেক সঙ্গীর বিশেষ দিনে তার পাশে থাকার বিষয়টি অনেকের নজর কেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় ঘটেছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে ফালু মিয়া (৪৬) নামের এক গ্যারেজকর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সামনে ঢাকাগামী এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় জনগণ তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. সজিবুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
এসআই সজিবুর রহমান জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে, তৎক্ষণিকভাবে কোন গাড়ির ধাক্কায় ফালু মিয়া নিহত হয়েছেন, তা জানা সম্ভব হয়নি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফালু মিয়া একটি গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে কর্মরত ছিলেন। রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন।
তিনি জুরাইন আলমবাগ এলাকায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার বাবার নাম আব্দুল মতিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর জন্য আর কিছু মাস বাকি রয়েছে। কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু করেনি বেশিরভাগ প্রেস। মাধ্যমিক স্তরের বই সরবরাহের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। রবিবার পর্যন্ত এ স্তরের মাত্র ২০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বই ছাপার কাজের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার সক্ষমতা বিবেচনায় ২৬টি প্রেসকে নজরদারিতে রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। ১১৩টি প্রেসে চলছে এসব বই ছাপানোর কার্যক্রম। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে কয়েকটি প্রেসের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এসব প্রেসের মধ্যে কিছু প্রেসের ক্ষেত্রে নভেম্বর তো দূরের কথা, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
এনসিটিবি চিহ্নিত প্রেসগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা চাওয়ার পাশাপাশি কিছু প্রেসের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারও নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দু-চারজন দুষ্ট সব জায়গায়ই থাকে। আমাদের এখানেও আছে। তবে সরকারের একাধিক সংস্থাসহ আমরা সেইসব প্রেস খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের টিম নিয়মিত তদারকির কাজ করছে। তবে প্রাথমিকের বইয়ের কাজ আগে শেষ করতে বলায় মাধ্যমিকটা কিছুটা পিছিয়ে আছে। প্রাথমিকের কাজ শেষ হয়ে গেলে মাধ্যমিকের বইয়ের কাজ দ্রুত এগোবে। আশা করছি, আমরা নির্দিষ্ট সময়েই বইয়ের কাজ শেষ করতে পারব।’
ইন্সপেকশন এজেন্টগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৫৪.৩৯ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকের ৮৬.২১ শতাংশ, প্রথম শ্রেণির ৭৭.৫৪ শতাংশ, দ্বিতীয় শ্রেণির ৭৫.৬২ শতাংশ, তৃতীয় শ্রেণির ৬৪.৯৪ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৩৪.৬৯ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ২৭.২৪ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ইবতেদায়ির বই সরবরাহের হার ৫৪.২২ শতাংশ।
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ শ্রেণির ৪৪.০৩ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণির ২৭.৯৭ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ৮.২৬ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বই সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজ করছে একই প্রেসের অনেকে। ফলে যে স্তরের বই আগে শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, প্রেসগুলো সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের কার্যাদেশ তুলনামূলকভাবে পরে হওয়ায় বেশিরভাগ প্রেস এখনো ছাপার কাজ শুরু করেনি।
এনসিটিবির শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির তারিখ থেকে বই ছাপানোর জন্য প্রতিটি প্রেস ৭০ দিন সময় পায়। প্রাথমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই ৯ অক্টোবরের মধ্যে এবং শতভাগ ৯ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই সরবরাহের সময়সীমা ৩ নভেম্বর এবং শতভাগ বই সরবরাহের সময়সীমা ৩ ডিসেম্বর।
বেশি কাজ পাওয়া প্রেসগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির পরিদর্শক দল প্রেসগুলোতে নিয়মিত তদারকি করছে। বইয়ের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি ছাপার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনও দিচ্ছে তারা।
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘আমরা চাই না আগের মতো ফেব্রুয়ারি-মার্চে শিক্ষার্থীরা বই পাক। আমরা চাই সঠিক মানের বই যেন ডিসেম্বরের মধ্যেই স্কুলগুলোতে পৌঁছে যায়। কিছু মুদ্রণকারী ইচ্ছা করেই ছাপায় দেরি করছেন। আবার কেউ সক্ষমতার অনেক বেশি কাজ পেয়েছেন।’
তিনি বলেন, শেষ সময়ে বই সরবরাহের চাপ তৈরি হলে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবিকে আগেই সতর্ক থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ