ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামা অনিশ্চিত লিটনের


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামা অনিশ্চিত লিটনের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে না পারার পর লিটন কুমার দাস বর্তমানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সিরিজেও নেই চোটের কারণে। পরে জানা যায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকা সত্ত্বেও চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় তার একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গেল রবিবার অভিজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন ওডিআই দলটি হারারের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও তিনি মিস করার পরিস্থিতিতে আছেন। সম্প্রতিতে লিটন তার চোট পাওয়া স্থানে স্ক্যান করিয়েছেন।

তবে ফল আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছে। সাদা বলের সিরিজের জন্য যেহেতু জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে, কিন্তু লিটন দেশেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি জানা গেছে, তিনি ১ জুলাই জিম্বাবুয়ে যাবেন এবং ওয়ানডে সিরিজটি আগামী ৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় বাঁ পায়ে চোট পান লিটন। সে ঘটনার পর তিনি মাঠ থেকে উঠে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলের প্রয়োজনেই আবার মাঠে ফিরে আসেন এবং মিরপুরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন। কিন্তু তার চোট রয়ে গেছে এবং তিনি এখনও এই চোট নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪

তাসকিন-মিমের সঙ্গে এক টেবিলে ওয়ালটনের ২৪ ভাগ্যবান ক্রেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


তাসকিন-মিমের সঙ্গে এক টেবিলে ওয়ালটনের ২৪ ভাগ্যবান ক্রেতা

জাতীয় দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ ও ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে এক জমকালো ডিনারে আনন্দঘন সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন ওয়ালটনের ২৪ জন ক্রেতা। এই সুবিধা তাঁদেরকে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর আওতায় দেওয়া হয়েছে, যা দেশজুড়ে চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ২৪ এ ‘নেক্সট লেভেল ডিল’ অফারটি ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি ফ্যান কেনার সময় গ্রাহকদের জন্য ১০ লাখ টাকা নগদ পাওয়ার সুবিধা প্রদান করে। আরও রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে ডিনার করার সুযোগ। এই সুযোগে সিজন-২৪ এ ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসি কেনার মাধ্যমে ২৪ জন ক্রেতা লাভবান হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ জনকে থাইল্যান্ড ভ্রমণের ট্রাভেল কুপনও দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টেন্টালে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ ২৪ জন গ্রাহকের সম্মানে এক জমকালো ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে গ্রাহকরা ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মাতে।

এ সময় ওয়ালটন হাই-টেকের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং সিনিয়র এডিশনাল এক্সিকিউটভি ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিনার অনুষ্ঠানে চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ বলেন, "জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে ডিনারসহ আনন্দঘন এই মুহূর্ত গ্রাহকদের জীবনে একটি সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। ওয়ালটন পণ্যের গ্রাহকদের জন্য এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও চলমান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।"

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর মেয়াদ ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এই ক্যাম্পেইন চলাকালে ইতোমধ্যে ৬ জন ক্রেতা ওয়ালটন ফ্রিজ এবং এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হওয়া অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন।

এই সৌভাগ্যবান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন, ভালুকার খোকন মিয়া, রাজধানীর মাহমুদুল হাসান, নাটোরের গৃহবধূ আফরোজা বেগম, বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার।

মিলিয়নিয়ারের পাশাপাশি তাসকিন এবং মিমের সঙ্গে ডিনারের সুযোগ পেয়েছেন ২৪ জন। এছাড়াও, এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ভাউচারসহ আর্জেন্টিনার ফ্যান জার্সি ফ্রি পেয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে সমাপনী বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অন্যান্য বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে শুল্ক এবং কর কমানোর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন।

প্রস্তাবিত বাজেট পাসের পূর্বে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব, এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেন। এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক ব্যয়ের ফর্দ নিয়ে সংসদ সদস্যদের আলোচনার পর তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছে। বাজেট আলোচনার সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং করদাতা-বান্ধব করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

করদাতাদের স্বস্তি প্রদানে তিনি ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন এবং জানান যে, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষের জন্য ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাবও দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধানের ব্যাপারে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, এমন কিন্তু জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ায় করদাতাদের হয়রানি হ্রাসের জন্য এই বিধান চালু করা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে সার্বিকভাবে দেখছেন। তাই অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিধান প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও, করের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধনের এবং সম্পত্তি নামজারি করার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কথা তিনি উল্লেখ করেন এবং এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধও জানান।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ করকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব তিনি দেন। তবে এর জন্য শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, কর-সুবিধার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন করা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের করমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বেতনের আয়ও করমুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।

চিংড়িশিল্পের প্রসার এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করার ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসেছে।

এছাড়াও স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত।

পাশাপাশি পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিট, রোল প্রোডাক্টের অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


কুড়িগ্রামে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ২০ গ্রাম প্লাবিত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ রবিবার বিকেলে ভেঙে পড়ে। ঘটনাটির ছবি সোমবার দুপুরে তোলা হয়েছে। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। বর্তমানে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদ পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও শাকসবজিসহ ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, এ তথ্য কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো সংস্কার না করায় রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি ঢুকতে দেখা গেছে। এতে ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। দুধকুমার নদ বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানান, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য রওনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, উজানের ঢলে প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন রোধে জেলার প্রত্যেক উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়ে তিস্তাপাড়ে আনন্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়ে তিস্তাপাড়ে আনন্দ

 

জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার দেখা দিয়েছে। সেই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের মাঝে স্বস্তি এসেছে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিস্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার হতে শুরু করলে তিস্তা নদীর দুই পাড়ের মানুষ আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সারা বছর যেন কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ পান, সেই জন্য সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তিস্তা প্রসঙ্গে ঘোষণা করেন, “জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।”

তিনি স্পষ্টত জানিয়ে দেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি এবং তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর। উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের দুটি বড় কনসার্ন হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ ভবন থেকে মুঠোফোনে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত পরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরী করতে হবে।” জাতীয় বাজেটে যেহেতু তিস্তা নিয়ে কোনো বরাদ্দ নেই, তাই দ্রুত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামছুজামান সামু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।” খরা মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার এবং বর্ষায় দুইকূল প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য দেখতে হবে না।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে রয়েছে।” মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকের বৈঠকে পাশ করে কাজ শুরু করতে হবে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, কাউনিয়া উপজেলার আসাদুজ্জামানসহ অনেকেই আনন্দ প্রত্যাশা করে বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী শত শত মানুষকে নিঃশ্ব করে দেয়।” মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ঘুচবে।

জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি পাওয়া যায় ৮০০ থেকে এক হাজার কিউসেক। তখন তিস্তার চারিপাশে দেখা যায় ধুধু বালুচর। পানির অভাবে তিস্তা নদীর আশেপাশের এলাকায় পানি অনেক নীচে নেমে যাচ্ছে। পানির অভাবে অকোজো হয়ে পড়ার উপক্রম দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প। ভারত তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা প্রকল্পে প্রতিবছরই পানির ঘাটতি দেখা দেয়। আবার বর্ষাকালে বিপদসীমা অতিক্রম করলে পানি প্রবাহ বেড়ে যায় ৪ লাখ কিউসেকে। প্রবল পানির তোড়ে ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি গেট রাতদিন খুলে রেখেও পানি সরাতে কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুকনো এবং বর্ষা, দুই মৌসুমেই তিস্তা অববাহিকার মানুষের সময় কাটছে দীর্ঘশ্বাসে। শুকনো মৌসুমে ভারতে পানির ওপর নির্ভরতা থাকায় তিস্তা অববাহিকার ৫ জেলা নীলফামরী, লালমনির হাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়। তিস্তা নিয়ে সরকারের মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুকনো মৌসুমে ভারতে কাছে পানির জন্য হাত পাততে হবে না। এছাড়া তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রায় ১২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব খালে পানি ধরে রাখতে পারলে সারা বছর ধরে এই পানি ব্যবহার করা যাবে। নদীতে বারো মাস পানি থাকলে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। সেই সাথে পাল্টে যাবে দেশের চেহারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%