শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ২০০২ সালের পর থেকে ভারতের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে জয়লাভ করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।
বর্তমানে ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিততে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন সামি।
তিনি উল্লেখ করেন, "সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এবার আমরা ভারত সফরে এসেছি। ২৪ বছর ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চাই।"
সর্বশেষ ২০০২ সালে ভারতের মাটিতে সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর থেকে ভারতের মাটিতে সাতটি ওয়ানডে সিরিজ খেলে ক্যারিবীয়রা প্রতিটি সিরিজেই পরাজিত হয়েছে।
২০২২ সালে ভারতের মাটিতে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অংশগ্রহণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে তারা হোয়াইটওয়াশ হয়।
এবারের ভারত সফরে অতীতের রেকর্ড মুছে ফেলতে চান কোচ সামি। তিনি বলেন, "২৪ বছর ধরে আমরা ভারতে কোনো সিরিজ জিততে পারিনি। তাই এবারের ভারত সফর আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি, বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সামর্থ্য আছে। আশা করছি, এই দলটি এবার ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিততে সক্ষম হবে।"
ভারতীয় কন্ডিশনকে তিনি কোনো সমস্যা মনে করছেন না। সামির মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান দলটির সকল খেলোয়াড়েরই ভারতের কন্ডিশনের খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, "এই দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই আইপিএলে খেলেছে। ভারতের কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা আছে। তাই আমরা ভারতের কন্ডিশন নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। আমরা যদি তিন বিভাগে আমাদের সেরা পারফরমেন্স করতে পারি, তাহলে সাফল্য আসবে।"
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কারণে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এখনও মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন
নিখোঁজদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি খুঁজে পাওয়া গেছে, কিন্তু নিখোঁজদের খোঁজ এখনও মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন- হেলালউদ্দিন (৫৪), তার ছেলে সজির হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং ছেলে সামিন হোসেন (৫)। তারা কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চেষ্টা চালান, কিন্তু নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করেন। শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ট্রলারের সন্ধান মিললেও নিখোঁজদের খোঁজ মেলেনি। তবে ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ও নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে বিয়ে বাড়িতে যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত এবং বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অন্যদিকে, নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
আমান সিমেন্ট কম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হয়ে যান।
বিয়ের কনে সাজিয়া আক্তারের চাচা আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রলারডুবিতে তাদের ৪ আত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া তার ফুফাতো বোন রায়েশা বেগম পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, অন্ধকারের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও নিখোঁজদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান চলছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকাল থেকে তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) লেবাননের প্রতিনিধি সালাম কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বা লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনের অধিকারের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভর করছে।
সালাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী স্থায়িত্ব না থাকলে লেবাননেও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। আর যতদিন এই সংস্থা (জাতিসংঘ) বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনে ব্যর্থ থাকবে, ততদিন এই অঞ্চলে কোনো শান্তি আসবে না—কমও নয়, বেশিও নয়।"
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থা 'আনরোয়া' (UNRWA)-র তহবিল বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন সালাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটিকে দুর্বল করা হলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করা যাবে না।
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে 'ভিটো' (Veto) ক্ষমতার ব্যবহারে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান সালাম। গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে একাধিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার ভিটো দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
লেবানন সরকারের একক সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সালাম স্পষ্ট জানান, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার কেবল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ত্র থাকবে শুধুই সরকারের হাতে।
তিনি আরও বলেন, "১৯৪৯ সালের সাধারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পর্যন্ত লেবাননের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা আমাদের সকল বন্দির মুক্তি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ এবং নিজ নিজ গ্রামে নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চাই।"
প্রসঙ্গতঃ ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের শর্তে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণের একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত উদ্যোগটি বর্তমানে অনেকটাই থমকে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর এবং উপজেলা শহরগুলোতে যানজট সমস্যা বর্তমানে একটি মারাত্মক দৈনন্দিন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জেলা এবং উপজেলা শহরের প্রতিটি সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সবসময় যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের ব্যক্তিরা এসব রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি এবং সময়ের অপচয়ের শিকার হচ্ছেন। যেখানে ১৫ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে সময় লাগছে অর্ধঘণ্টা। যানজটের কারণে অর্ধঘণ্টার পথ যেতে সময় আরও বেশি লাগছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর যানজটের মূল কারণ হলো—ফুটপাত দখল করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দোকানপাট এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান। বর্ষায় রাস্তার বেহাল দশার সঙ্গে গাড়ি, ট্রাক এবং প্রাইভেট গাড়ি মেইন রাস্তায় যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার্কিং করে রাখা, সিএনজিচালিত এবং ব্যাটারিচালিত অটো-ইজিবাইক রাস্তার ওপর থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা, অনেক উপজেলা সদরে ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় আইন অমান্য করা এবং চালকদের প্রতিযোগিতামূলক চলাচল, অদক্ষ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের চলাচল প্রধান সড়কপথকে বিষিয়ে তুলেছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্কুলের সম্মুখস্থ রাস্তা, মোড়, শেরপুর জেলা শহরের কলেজমোড়, খরমপুর মোড়, নিউমার্কেট, থানামোড়, গোয়ালপট্টি মোড়, হাসপাতাল রোড এবং খোয়ারপাড়-শাপলা চত্বর এলাকায় অবৈধ পার্কিং এবং ইজিবাইক চলাচল এখন ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেকোনো মোড় এলাকায় সিএনজি স্টেশন ও ঢাকা-যাত্রীবাহী বাসের বিভিন্ন কাউন্টার রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সারাদিন অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে বারবার আলোচনা সত্ত্বেও থানা মোড় ও ধানহাটি মোড়ে পুলিশ না থাকায় সড়কে চলাচলকারী হাটুরেদের সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো দৃষ্টি নেই।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেছেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধানহাটি মোড় ও কলেজ মোড়ে পুলিশ থাকার কথা। আচ্ছা, আলাপ করে দেখা যাক কী করা যায়।”
শেরপুর জেলা শহরের বাসিন্দারা জানান, থানা মোড়ের রাস্তার বাম পার্শ্বে অবস্থিত তোতার অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে সোবাহান স্যানিটারির দোকানের সামনে পর্যন্ত দীর্ঘ স্ট্যান্ড তৈরি হয়ে ২৪ ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নিষিদ্ধ নছিমন-ভটভটি শহরের ভেতর দিয়ে চলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
এক ট্রাফিক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, শহরের যানজট নিরসনে ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বড় ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
অপরদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ইজিবাইক-অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা শহরে প্রবেশ ও নাবালক চালকদের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো শহরের যানজট বাড়ার অন্যতম কারণ। জেলায় ৫২টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা একযোগে ইজিবাইক-অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান করছে। বর্তমানে জেলায় আনুমানিক ৪০-৫০ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক-অটোরিকশা চলাচল করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ইজিবাইক-অটোরিকশার চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না হলে যানজট থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। শেরপুর জেলা ও উপজেলা শহরের এই যানজট সমস্যা এখন জেলা ও উপজেলা শহরবাসীর জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, নবী (সা.) এর সিরাত ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আল্লাহর পর নবী (সা.) কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা উচিত। নবীর নাম উচ্চারণ করলেই ঈমানের একটি অংশ প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, নবী (সা.) খাতামুন নাবিয়্যিন, অর্থাৎ তিনিই শেষ নবী। খতিব আরো বলেন, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা মোহাম্মদ (সা.) এর প্রতি অবতীর্ণ সকল বিষয়কে হক মনে করে ঈমান এনেছে, তাদের আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে শরীয়তের নেয়ামত প্রদান করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ নাম হলো মোহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। ফেরেশতাগণ, সমস্ত মাখলুকাত এবং যুগে যুগে নবীগণ নবী (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। নবী (সা.) আল্লাহর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন, এ কারণেই তাঁর আরেক নাম আহমাদ।
আল্লাহ রাসূল (সা.) কে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে কুফর ও শিরক দূর করে দুনিয়ায় দ্বীনের আলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। খতিব বলেন, নবী (সা.) এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করা সমাজে দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারকে নির্মূল করবে। তিনি বলেন, কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.) জমিনে আসবেন। তবে তিনি ইঞ্জিল কিতাবের বার্তা নিয়ে আসবেন না। তিনি আখেরি নবী (সা.) এর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবেন। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানোর অপচেষ্টা করছে। খতমে নবুওয়্যাতের আকিদা ঈমানের আকিদা। খতিব বলেন, নবী (সা.) তওবার ডাক দিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিদিন তওবা করতেন। নবী (সা.) বলেছেন, "তোমাদের জন্য তওবার দরজা ও রহমতের দরজা খোলা রয়েছে।" আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করতে হবে। সকল প্রকার পাপাচার ও গুনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে। তাকওয়া অবলম্বন করতে পারলে আল্লাহ ইস্তেগফারের জীবন ও তওবার জীবন দান করবেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মুফতি মো. মোরশেদ আলম সালেহী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ রাসূল এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠতম পথপ্রদর্শক। তাঁর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শুধুমাত্র একটি জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নন; তাঁর আগমন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭। নবীজির মর্যাদার আরেকটি দিক হলো, আল্লাহ তাআলা নিজেই তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি আমল করেন এবং ফেরেশতাকুলসহ সকল মুমিন-মুমিনাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ কর।" সূরা আল-আহযাব: ৫৬। এছাড়া আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।" আল-ইনশিরাহ: ০৪। সহিহ হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আমি আদমসন্তানের নেতা হব। সর্বপ্রথম আমার কবর উন্মুক্ত হবে, আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশ করব এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।" সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৭৮। নবীজির আজমত উপলব্ধি করা মানে শুধু তাঁর প্রশংসা করা নয়; বরং তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা, যথাযথ তাজিম ও সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করা। রাসূল (সা.) এর চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই নবীপ্রেমের প্রকৃত দাবি হলো—তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠানো এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে তাঁর মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
নবীজির (সা.) আজমত আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করুক এবং তাঁর ভালোবাসায় আমাদের জীবন আলোকিত হোক।
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মজুদদারি, অবৈধ মুনাফা ও অপচয় রোধ করতে পারলেই দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করা সম্ভব। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজির সকল পথ রুদ্ধ করা শর্ত। রাজা-প্রজা, শাসক-শাসিত, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সর্বসাধারণ সকলকেই তাকওয়া, আমানতদারি এবং ব্যবহারে সংযমী পন্থা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় পণ্য অযথা মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মিথ্যা বলে দাম বাড়ানো, ওজনে কম দেওয়া, অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো সম্পূর্ণ হারাম। তদ্রূপ বিনা প্রয়োজনে বেশি পণ্য কিনে জমিয়ে রাখা, গুজব শুনে আতঙ্কিত হয়ে বাজার খালি করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে অন্যের সংকট সৃষ্টি করা ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও প্রয়োজনীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। অনুরূপ বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে মসজিদ-মাদরাসা, দোকানপাট, অফিস-আদালতসহ সব ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনোরকম অপচয় করা যাবে না। সার্বিক ক্ষেত্রে মনিটরিংসহ সংকট দূরীকরণে বৈধ পন্থায় নতুন নতুন উপায়ান্তর বের করার জন্য দক্ষ অভিজ্ঞ কৌশলীদের গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়াও ইসলামের নির্দেশনা। সাথে সাথে মহান রবের কাছে পেছনের ভুলত্রুটি, অন্যায়-অবিচার ও গুনাহ থেকে পানাহ চেয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ ও দোয়া অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। কারণ এটা মহান আল্লাহর বান্দার প্রতি এক মহান পরীক্ষা। এই মহান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই বান্দা সফলকাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, "আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।"— সূরা আল-বাকারা: ১৫৫। অন্যত্র তিনি বলেন, "ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়; যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নিলে পূর্ণ নেয়, কিন্তু তাদেরকে মেপে বা ওজন করে দিলে কম দেয়।" সূরা মুতাফফিফীন: ১-৩। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, "তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।" সূরা আল-ইসরা: ২৬-২৭। তিনি আরও বলেন, "তোমরা খাও, পান করো; কিন্তু অপচয় করো না।" সূরা আল-আ‘রাফ: ৩১। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যে ব্যক্তি মজুদদারি করে, সে অপরাধী।" সহিহ মুসলিম। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।"— সূরা নূহ: ১০-১২। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরকে এ জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, যার বাংলা রূপ, হে আল্লাহ! আমাদের বাজার, রিজিক ও সম্পদে বরকত দিন। আমাদেরকে মূল্যবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করুন। টাটকা, প্রশস্ত, পবিত্র ও হালাল রিজিক দান করুন। আমাদের অন্তরসমূহে ঐক্য সৃষ্টি করুন এবং আমাদের থেকে বিপদ, মূল্যবৃদ্ধি ও মহামারি দূর করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে উপরোক্ত বিধান পালন করা ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দোয়া পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। ঢাকাস্থ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ আজ জুমার পূর্ব বয়ানে বলেন, ঈমান শুধু মুখে কালিমা উচ্চারণের নাম নয়, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর হুকুমের সামনে আন্তরিকভাবে আত্মসমর্পণ করার নাম। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর বিধানই সর্বোচ্চ। নিজের পছন্দ, প্রবৃত্তি, স্বার্থ কিংবা সীমিত বুদ্ধির চেয়ে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই একজন মুমিন সর্বদা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মানসিকতা লালন করে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পরিচয় দিতে ইরশাদ করেন—"তাদের কথা হলো, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।" সূরা আন-নূর: ৫১।
খতিব বলেন, একজন মুমিন আল্লাহর বিধানকে নিজের পছন্দের ওপর স্থান দেয় এবং এর হেকমত জানা না থাকলেও তার হুকুম মেনে নেয়। যেমন একজন রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিজের ইচ্ছার চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না।" সূরা আল-আহযাব: ৩৬।
খতিব বলেন, মানুষের মতামত ভুল হতে পারে, তাই কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে মুমিন কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যায় এবং এই বিষয়ে সমাধান পাওয়ার পর মুমিন নিঃসংকোচে তা মেনে নেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" সূরা নিসা: ৫৯। অন্যত্র ইরশাদ করেন—"তারা আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিজেদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা পাবে না এবং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করবে।" সূরা নিসা: ৬৫। অর্থাৎ শুধু বাহ্যিকভাবে কোনো হুকুম পালন করাই যথেষ্ট নয়, অন্তর থেকেও আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য থাকতে হয়। খতিব আরও বলেন, সব মানুষ সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয় না। যেমন অসুস্থ হলে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যায়, তেমনি জটিল শরয়ি বিষয়ে সাধারণ মুমিনের কর্তব্য হলো যোগ্য আলেমের কাছে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো।" সূরা নাহল: ৪৩। পরিশেষে খতিব বলেন, মুমিনের জীবন একটি বাক্যে প্রকাশ করা যায়—"আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।" এ আত্মসমর্পণই ঈমানের সৌন্দর্য এবং একজন মুমিন বান্দার প্রকৃত পরিচয়। ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব সাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী খুতবার পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলাম ধর্মে নসিহত বা উপদেশ গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুমিনের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে সুগম করতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন সময় অত্যন্ত মূল্যবান ও জীবনঘনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এমনই একটি অনুপম ও সর্বজনগ্রাহ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে, যেখানে তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট এমন কিছু চিরন্তন উপদেশের আবেদন করেছিলেন যা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি। হজরত আবু জর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: এক:- "আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া (ভয় ও সচেতনতা) অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি, কারণ এটি তোমার সমস্ত কাজের সৌন্দর্য ও অলংকারস্বরূপ।" পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমনভাবে ভয় করা উচিত, ঠিক তেমনিভাবে ভয় করো এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, "আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির কোনো না কোনো পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাই করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)। হাদিসে হযরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ইরশাদ করেছেন: "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো; আর কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ ভালো কাজ করো, যা পূর্বের মন্দকে মিটিয়ে দেবে; এবং মানুষের সাথে সুন্দর ও সদ্ব্যবহার করো।" (সুনান আত-তিরমিজি: ১৯৮৭)
আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: দুই: "তোমার জন্য আবশ্যক হলো কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর জিকির (স্মরণ) করা, কারণ এটি আকাশে তোমার স্মরণের মাধ্যম এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য আলোর স্বরূপ।" হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যার অন্তরে কুরআন নেই তা বিরান ঘরের ন্যায়। আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: তোমার জন্য আবশ্যক হলো অধিক সময় চুপ থাকা (অনর্থক কথা পরিহার করা), কারণ এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে এবং দ্বীনের কাজে তোমাকে সহায়তা করে।" হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যে চুপ থাকে সে নাজাত পায়। তিনি বললেন: তুমি অধিক হাসি থেকে দূরে থাকো, কারণ তা অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং চেহারার নূর (উজ্জ্বলতা) কেড়ে নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ