০২:৩৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের চাপ ও তদারকি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে, দেশটির বহু খ্যাতনামা অধ্যাপক ও গবেষক কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি ৬৪ জন বিশ্বমানের শিক্ষাবিদ ও গবেষককে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
কানাডা সরকার আগামী আট বছরে এসব গবেষকদের জন্য ৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করবে। এই গবেষকদের মধ্যে ৪৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে আসছেন।
নতুন গবেষকরা চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণা পরিচালনা করবেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানি আইনপ্রণেতার
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নীতির সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান না মিললে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও গবেষণা অনুদান বন্ধের হুমকি ও পদক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গনে গবেষণার স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলানি জোলি বলেন, "কিছু দেশ যখন গবেষণার বাজেট কমাচ্ছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে সরে যাচ্ছে, তখন কানাডা বিজ্ঞানে আরও বেশি বিনিয়োগ করছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে রেখে কানাডার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কানাডা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।" কানাডায় এসব অধ্যাপক ও গবেষক যোগ দিচ্ছেন বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গবেষকদের আকৃষ্ট করতে কানাডা ‘গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট+ রিসার্চ ট্যালেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশটি বিশ্বমানের গবেষকদের জন্য মোট ১৭০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বিশেষ তহবিল গঠন করেছে।
আরও পড়ুন: সামান্তা শারমিনের পদাবনতি: পুনর্গঠিত এনসিপিতে কার স্থান কোথায়?
কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নতুন গবেষকদের স্বাগত জানিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ৯ জন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ৬ জন মার্কিন গবেষককে তাদের অনুষদে যুক্ত করেছে।
ইউবিসির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ড. বেনোয়া-আঁতোয়ান বেকন বলেন, "এসব গবেষকের গবেষণা মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মেলানি উডিনও কানাডার এই সরকারি সহায়তাকে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আসা গবেষকদের কয়েকজন নিজেদের সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ বায়োলজি গবেষক ফিলিপ জামোর বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিবেশে আমি নিজের সেরা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারছি না।" বিশ্বসেরা তরুণ গবেষকদের দলে নেওয়া এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশে কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুন: ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশি
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় আমহার্স্ট থেকে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়া ডিজিটাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ইথান জাকারম্যানও গবেষণা ও মুক্ত চিন্তার পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, "গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার ওপর চাপ বাড়ার সময়ে এমন গবেষণাকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ।"
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক অঙ্গনে নীতিগত কড়াকড়ি ও অনিশ্চয়তার কারণে যে মেধাপাচারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কানাডা সেটিকে নিজেদের গবেষণা খাত শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি,
আরও পড়ুন: ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমুদ্রসৈকত বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন