শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে যে, হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সমমনা সাত দলের নতুন জোট গঠনের পর ‘১১ দলীয় ঐক্য ভেঙে গেছে’ বা ‘দলগুলো বেরিয়ে গেছে’ বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ১১টি দল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তারা থাকবে।
শুক্রবার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, যারা কওমি ধারার সাত দলের বৈঠক বা অন্যান্য জোটে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা আজও ১১ দলের প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের এই সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, জোট অটুট রয়েছে এবং এতে কোনো ফাটল ধরেনি। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা নিয়েই ১১ দল সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার জনগণের গণরায়কে উপেক্ষা করে সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত করছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। উল্টো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যাচার করছে তারা।
প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এখন দুর্নীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়, তবে সরকারের পরিণতি খারাপ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে ইরানের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী সহযোগিতা স্থগিত করার দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ-সালেহ জোকার এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্রসহ প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে আমি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যদি কোনো দেশ মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয় ইরানে হামলার জন্য, তাহলে সেই দেশকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে এবং এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক হুমকির সর্বশেষ উদাহরণ হলো আইনপ্রণেতা সালেহ জোকারের এই বক্তব্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, "অনেক আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমরা তাদের একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়েছি, আর প্রয়োজনে আরও কিছুটা এগোতে পারি।"
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন জনগণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, কেউ কেউ তার পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ হয়তো করছেন না। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।"
ট্রাম্প আরও বলেন, "এর জন্য মূল্য দিতে হবে, যা আমি শুরুতেই জানতাম। কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না।"
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তবে এসব পরিকল্পনায় ট্রাম্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের কি পরমাণু অস্ত্র আছে?
প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে কোনো নিশ্চিত পারমাণবিক বোমা নেই। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।
ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করেছে। এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি, তবে এটি নিজে থেকে পারমাণবিক বোমা নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শন ও নজরদারি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
খামেনির পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী ফতোয়া পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে। দেশটির কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হাসান নাতাজ ও আহমদ নাদেরিসহ কয়েকজন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জারি করা পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী ধর্মীয় ফতোয়া পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রকে প্রতিরোধের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত কি না, তা নিয়ে তেহরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনা চলছে।
খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহারকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনার দাবি দেশটির পারমাণবিক নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে কয়েকজন আইনপ্রণেতার এই দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়। দেশটির নেতৃত্ব ফতোয়া পরিবর্তন বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, সিআরএস রিপোর্ট ও েএপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেছেন, “শেখ হাসিনা শুধু এই ডিসেম্বরে নয়, আরও অনেক ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না।”
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর কালাগাছিয়া এলাকার এ.সি. নর্থ কালাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খোকন তালুকদার বলেন, শেখ হাসিনা যে অপকর্ম করেছেন এবং যেসব মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, সেসব পরিবারের সদস্য ও দেশের মানুষ তাঁকে আর দেশে ফিরতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, এক শ্রেণির মানুষ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ তারেক রহমানকে ভালোবেসে বিজয়ী করেছে। তারেক রহমানের হাতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র নিরাপদ এবং নির্যাতিত মানুষের অভিভাবক হিসেবে তিনি দেশের মানুষের পাশে রয়েছেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আশায় যারা আবারও অরাজকতা সৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করছে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াত বিভিন্নভাবে ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাদের সেই পরিকল্পনা ও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে জান্নাতের টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল দলটি। এ কারণে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেয়নি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদ হোসেন, জয়কলি পাবলিকেশনসের পরিচালক অজয় কৃষ্ণ সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গাউস-উর রহমানসহ অন্যরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও অতিথিরা অংশ নেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মৃতিচারণা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদরের গয়েশপুর এলাকায় মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন তরুণ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৯ টার দিকে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জালালপুর বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন, সদর উপজেলা গয়েশপুর এলাকার জালালপুর নতুন পাড়ার মোজাফফরের ছেলে সেলিম (৪৫) এবং অপরজন নয়ন মিয়া (২০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জালালপুর থেকে গয়েশপুর যাওয়ার পথে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। একই সময় আরও দু’জন আহত হন, যাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গয়েশপুর থেকে জালালপুরের এই সড়কটি অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এই সড়কে ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন যানবাহন ও তরুণ বাইকারদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ। এ ঘটনায় হোটেলটির ম্যানেজার আতাউর রহমানকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির। এর আগে বুধবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। তিনি ওই আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের সন্তান। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
এসআরবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি-৮। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, "ভেদরগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
প্রসঙ্গত, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বাড়ি অবস্থিত। সেখানে বেড়াতে এসে রোববার রাতে তিনি স্ত্রীকে সর্বশেষ মুঠোফোনে কল করেন। এ সময় এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান তিনি। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সোমবার তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে স্ত্রীকে কল করে আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমে দুই হাজার টাকা এবং পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কালিয়াকৈর থানায় জানানো হলে পুলিশ মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।
পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় আসেন। পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ