০১:২১ এম
বাংলাদেশের বোলিং এবং ব্যাটিং উভয় ক্ষেত্রেই শুরুটা ছিল সন্তোষজনক। তবে, সেই ভালো শুরু ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। ক্রেগ আরভিন ব্যাটিংয়ে এবং ব্র্যাড ইভান্স বোলিংয়ে টাইগারদের হাত থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে নেন। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে মাত্র ১২৫ রানের ব্যবধানে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফলে, হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচনা করল টাইগাররা।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে পরাজিত করেছে জিম্বাবুয়ে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেন আরভিন। বাংলাদেশ যখন জবাব দিতে নামে, তখন তারা ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায়। কোনো ব্যাটারই ফিফটি করতে পারেননি। দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি ৪৬ রান করেন।
টস হেরে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল অসাধারণ। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। পাওয়ার প্লেতে তিনি একাই ৩ উইকেট তুলে নেন। ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়েকে টেনে তোলেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। দুজনেই ফিফটির দেখা পান, যার ফলে জিম্বাবুয়ে আড়াইশ' ছাড়ানো সংগ্রহ পেতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: ব্যর্থতার আবর্তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিডসের সঙ্গে ১-১ ড্র
ইনিংসের প্রথম ওভারটাই ছিল উইকেট-মেইডেন। ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে ব্রায়ান বেনেটকে এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন। আরেক ওপেনার বেন কারানকেও ফেরান তাসকিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলেও এলবিডব্লিউ হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১১ বল থেকে ৬ রান করেছেন এই ওপেনার। তিনে নামা তাফাদজওয়া সিগাও তাসকিনের শিকার হন। দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপ বাড়লেও ভালো শুরু করেছিলেন সিগা, কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ বলে করেছেন ১৬ রান।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন দেখেশুনে খেলতে শুরু করেন। তাদের এই জুটি সফল হয় এবং তারা মিলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রান তোলেন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন সাইফ হাসান। ৮১ রান করে ফিরে যান টেলর।
এরপর আরভিনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরি হাতছাড়া করা এই ব্যাটারকে ফেরান শরিফুল। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯৩ রান। এরপর সিকান্দার রাজা এবং ব্র্যাড ইভান্স দ্রুত ফিরে গেলে আবারও বাংলাদেশ চাপ সৃষ্টি করে। তবে শেষদিকে দারুণ ব্যাটিং করেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরি। দুজনে সমান ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এতে জিম্বাবুয়ে আড়াইশ' ছাড়ানো সংগ্রহ পায়।
বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, আর শরিফুল এবং সাইফ হাসান দুটো করে উইকেট পান।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি-বাগড়ার মাঝেই ত্রাস ছড়ালেন বোল্যান্ড
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভালো। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটাতে পারছিলেন না। শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলের ৪৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭ বলে ৯ রান করেন সৌম্য।
ওপেনিং জুটির পর বাংলাদেশ আর তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ইনিংসের দশম ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তানজিদ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে ফিরে যান তিনি।
আরেক ওপেনার বেন কারানকেও ফেরান তাসকিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে তাসকিনের বলে লেগ বিফোর হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১১ বল থেকে ৬ রান করেছেন এই ওপেনার। তিনে নামা তাফাদজওয়া সিগাও তাসকিনের শিকার হন। দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপ বাড়লেও ভালো শুরু করেছিলেন সিগা। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ বলে করেছেন ১৬ রান।
তানজিদ ফেরার মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ব্রাড ইভান্স। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৯ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় এবং সাইফ হাসান। দলীয় ৯৭ রানে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন হৃদয়। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হন রাজা। ২১ বলে ১৩ রান করে আউট হন হৃদয়।
আরও পড়ুন: সরকার তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তা করবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
হৃদয় আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ধ্বস শুরু হয়। মাত্র ৩২ রানের ব্যবধানে পরের ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা। শুরুটা মোসাদ্দেক হোসেনের এলবিডব্লিউ দিয়ে। মাসাকাদজার বল হালকা ছোঁয়ায় লেগ সাইডে ঠেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন। বল গিয়ে লাগে মোসাদ্দেকের প্যাডে। আম্পায়ার সরাসরি আউটের ইশারা করেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মোসাদ্দেক।
মোসাদ্দেকের বিদায়ের পর ফেরেন উইকেটে খানিকটা থিতু হওয়া সাইফ হাসানও। মাসাকাদজার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ। দলের বিপদে ভরসা হতে পারেননি নুরুল হাসান সোহানও। ইভান্সের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। শরিফুল ইসলামও ৪ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি।
১২৯ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন রিশাদ হোসেন। তবে সেই জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৩৩ বলে ২৩ রান করেন রিশাদ হোসেন। ১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইভান্স। সিকান্দার রাজা এবং মাসাকাদজা দুটো করে উইকেট নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জোডারের স্বপ্ন ভেঙে সাংহাই মাস্টার্সের শিরোপা জিতলেন ফকিনা
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে- ২৭১/৮ (বেনেট ০, কারান ৬, সিগা ১৬, টেইলর ৮১, আরভিন ৯৩, রাজা ৪, মাধেভেরে ১৭, ইভান্স ৫, নিয়ামহুরি ২১*, মাসাকাদজা ২১*; তাসকিন ৩/৪৪, শরিফুল ২/৪৭, সাইফ ২/১৭)
বাংলাদেশ- ১৭২/১০ (তানজিদ ৪৬, সৌম্য ৯, শান্ত ৪, সাইফ ২৬, হৃদয় ১৩, মোসাদ্দেক ১১, সোহান ৫, রিশাদ ২৩, শরিফুল ০, তাসকিন ১৬*, মুস্তাফিজ ৬; ইভান্স ৪/৪৫, রাজা ২/২৮, মাসাকাদজা ২/১৮)
আরও পড়ুন: টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন