০১:০৮ এম
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), যা আন্তর্জাতিক গবেষণা ডাটাবেজ ‘স্কোপাস’ (Scopus)-এর ইনডেক্সড গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যার দিক থেকে প্রথম। যবিপ্রবির গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ১৩৭৪ টি, যা এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রমাণিত।
স্কোপাসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধানের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষে রিসার্চ হাবে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। তালিকায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
দেশের মোট ১৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই শীর্ষ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যবিপ্রবির অবস্থান ১৬তম, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তৃতীয়।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাঁচ কলেজের শিক্ষার্থীরা সবাই ফেল
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কোর পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট গবেষণা প্রকাশনায় ৬০ শতাংশ, মোট উদ্ধৃতিতে ২০ শতাংশ, প্রতি প্রকাশনায় গড় উদ্ধৃতিতে ১০ শতাংশ, গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্সে ৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যবিপ্রবির গবেষকদের মোট ১৩৭৪টি গবেষণা প্রকাশনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব গবেষণাপত্র মোট ১৮ হাজার ৬১৯ বার উদ্ধৃত (সাইটেশন) হয়েছে। গবেষণাপত্রে গড় উদ্ধৃতির সংখ্যা ১৩.৬ এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের হার ৫৮.৬ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক এইচ-ইনডেক্স ৫৬।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইয়ারুল কবীর এ বিষয়ে বলেন, "আমাদের শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও গবেষণার প্রতি আন্তরিকতার কারণেই স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ অর্জনের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
তিনি আরও বলেন, "গবেষণার অগ্রগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমরা আশাবাদী, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে আগামীতে যবিপ্রবি গবেষণায় আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।"
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে এইচএসসিতে পাসের হার ৫৬.৬৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ শিক্ষার্থী
উল্লেখ্য, স্কোপাস হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যভান্ডার, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণাপত্র, বই ও সম্মেলনে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এলসেভিয়ার পরিচালিত এই তথ্যভান্ডারে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ, লেখক, প্রকাশনার বিবরণ এবং সেগুলো অন্য গবেষণায় কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তার তথ্য পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের এই র্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্কোপাসে সূচিবদ্ধ ইংরেজি ভাষার গবেষণাপত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন