ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের পর ইসরাইলের প্রতি মার্কিন বৈরী মনোভাবের শঙ্কা : নেতানিয়াহু


ট্রাম্পের পর ইসরাইলের প্রতি মার্কিন বৈরী মনোভাবের শঙ্কা : নেতানিয়াহু

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরাইলের ভবিষ্যৎ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের সম্মুখীন হতে পারে। তিনি মনে করেন, এর ফলে ইসরাইলের সামরিক সহায়তা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এক অনুষ্ঠানে। তার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় এমন কোনো প্রেসিডেন্ট আসতে পারেন, যিনি ইসরাইলের প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে পরিচালনা করা হবে এবং কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ভাবনা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীদের লাগেজ হারানোর অভিযোগ দাখিলের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবশিষ্ট দুই বছর এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের আন্তর্জাতিক মিত্রের পরিসরও বৃদ্ধি করতে হবে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, এ অঞ্চলের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। এছাড়া, লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনও ইসরাইলের জন্য নতুন মিত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ব্রাজিলের রাজনীতিতে শিগগির বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জোটের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এমন সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে অন্যান্য দেশগুলোর কাছে ইসরাইল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দেশটির কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু আগেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন। গত মে মাসে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের ‘অনন্য সম্পর্ক’ রয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ভারতে ইসরাইলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিসর্জনে শুধু সনাতনীদেরই প্রতিমা ছোঁয়ার নির্দেশ, অস্পৃশ্যতা ফেরানোর অভিযোগ

ইসরাইলের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির পেছনে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে। বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বিশ্লেষকেরা জানান, নেতানিয়াহু এসব মতবিরোধকে নিজের সমর্থকদের কাছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, এনডিটিভি

এমএমআর

আরও পড়ুন: ইতালি নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ না করতে কড়া সতর্কতা জারি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে বদলে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


যে কারণে বদলে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের চিত্র

ইংল্যান্ডের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

তিনি মন্তব্য করেন, “এখন খেলাটা কিছুটা ভিন্ন। বল বড় ভূমিকা রাখছে।”

ম্যাককালাম যে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি হলো রিভার্স সুইং- পুরোনো বলের বাতাসে প্রচলিত সুইংয়ের বিপরীত দিকে বাঁক নেওয়ার কৌশল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের খেলার শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিনায়ক ৩৪ ওভার শেষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, দুটি সাদা বলের মধ্যে কোনটি দিয়ে ইনিংসের বাকি অংশ শেষ করা হবে।

এ পরিবর্তনের ফলে নির্বাচিত বলটি পুরোনো ও রুক্ষ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা রিভার্স সুইংয়ের পুনর্জাগরণ ঘটাচ্ছে। এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরবর্তী বিশ্বকাপের আর এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকায় ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

কী পরিবর্তন হয়েছে?

গত জুলাইয়ে লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে স্যাম কারান শেষের দিকে চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ী করেছিলেন। ইনিংসের শুরুতে যতটা সুইং পেয়েছিলেন, শেষ স্পেলে পুরোনো সাদা বলে তার দ্বিগুণেরও বেশি সুইং পেয়েছেন তিনি।

এক বছর আগে কার্ডিফে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষের দিকে সাকিব মাহমুদ ইনিংসের শুরুর তুলনায় অর্ধেকেরও কম সুইং পেয়েছিলেন।

এগুলো ভিন্ন দিন, ভিন্ন খেলোয়াড় ও ভিন্ন পরিস্থিতির দুটি উদাহরণ। তবে বিশ্বজুড়ে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শেষ ১৬ ওভারে একটি বল ব্যবহারের নিয়মটি বোলারদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, পরিবর্তনটি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে।

নতুন নিয়ম চালুর পর শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল লেংথের বলের অর্ধেকের ক্ষেত্রেই এক ডিগ্রির বেশি সুইং পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম পরিবর্তনের আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।

এ পরিবর্তনের প্রভাব রান দেওয়ার হারেও পড়েছে। নিয়ম পরিবর্তনের আগে শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ইকোনমি রেট ছিল ওভারপ্রতি ৮.৪০ রান। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ৭.৯৫। হ্রাসের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ।

পেসারদের বোলিং গড়ও প্রতি উইকেটে ১৯.২ রান থেকে কমে ১৮.৩ হয়েছে।

মূল কথা হচ্ছে ইনিংসের শেষ দিকে আগের মতো সহজে বড় শট খেলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশী লাভবান ইংল্যান্ড

রিভার্স সুইং কার্যকর হলে পেসাররা সাধারণত বল আরও ফুল লেংথে করেন এবং ইনসুইংয়ের ব্যবহার বাড়ান। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত মাসে হেডিংলির ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কৌশল বিশেষভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগায় শ্রীলঙ্কা। তাদের বোলারদের করা ৬৯ শতাংশ ডেলিভারি ছিল স্টাম্প থেকে ছয় মিটার দূরত্বের মধ্যে বা তার চেয়ে ফুল লেংথে। এর ফলে ১৬ রানের জয় নিশ্চিত করতে পেরেছিল তারা।

তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়ম পরিবর্তন থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইংল্যান্ড। এ বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে দলটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাই নিয়ম পরিবর্তন না হলেও তাদের পরিসংখ্যান ভালো হতে পারত- এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বোলিং গড় ৩৬.৭৬ থেকে কমে ২০.৯১ হয়েছে। একই সময়ে ইকোনমি রেট ৯.৭৮ থেকে নেমে এসেছে ৭.৫৩-এ।

অন্যদিকে, তাদের ব্যাটিং রান রেট কমেনি; বরং ওভারপ্রতি ৮.০৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.১৬।

লিডসে হারের পর ম্যাককালাম খেলোয়াড়দের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করতে বলেন। নতুন নিয়ম তাদের নিজস্ব পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। এতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

এর তিন দিন পর দ্য ওভালে শ্রীলঙ্কার পছন্দের বল নির্বাচনের আগের ১০ ওভারে ১০৪ রানে ২ উইকেট থেকে ২১৪ রানে ২ উইকেটে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

বিশ্বের অন্য দলগুলোর অবস্থা কী?

নিয়ম পরিবর্তনের পর শেষ ওভারগুলোতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের রান তোলার গতি কমেছে।

এই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দিকের রান রেট ওভারপ্রতি ২.৩৯ রান কমেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বোলারদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার আলজারি জোসেফ ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি শেষ দিকে সুইং পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় উন্নতি করেছেন।

জোসেফের গড় সুইং ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে তার বোলিং গড় ২৪.১ থেকে কমে ১৭.৪ হয়েছে।

একইভাবে, এনগিডির সুইং ৬৩.৩ শতাংশ বাড়ার পর তার বোলিং গড় কমে ১৩ হয়েছে। তার ইকোনমি রেটও ৯.৩৪ থেকে নেমে এসেছে ৬-এ।

সুইং পাওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ন্যাথান স্মিথ, পাকিস্তানের নাসিম শাহ এবং বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানেরও। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এর ফলাফল এক রকম হয়নি।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি শেষ ওভারগুলোতে সুইং আদায়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। নিয়ম পরিবর্তনের পর তাঁর গড় সুইং ১.৩ ডিগ্রি। তবে পরিবর্তনের আগেও তিনি ভালো সুইং পেতেন, তখন তাঁর গড় ছিল ১.২ ডিগ্রি।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি সুইং পাচ্ছেন জোফরা আর্চার। তাঁর গড় সুইং ০.৯৭ ডিগ্রি, যা আগের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্বকাপে কী প্রভাব পড়তে পারে

বিশ্বের সব জায়গায় এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটে রিভার্স সুইংয়ের প্রভাব সমানভাবে পড়েনি।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ইংল্যান্ডে। সেখানে ইনিংসের শেষ দিকে বলের সুইং ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশে এই বৃদ্ধি ৩৩ শতাংশ। আগামী দুই সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোতেও আগের তুলনায় শেষ দিকে বলের মুভমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

তবে ইংল্যান্ডের পরবর্তী সফর অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃদ্ধি তুলনামূলক কম। আগামী বছরের বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানেও সুইং বৃদ্ধির প্রভাব কম।

নিয়ম পরিবর্তনের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় মাত্র তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই আগামী শরতে সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন।

নতুন নিয়মের প্রভাব সেখানে খুব বেশি না পড়লেও ইনিংসের শেষ দিকে বলের গতিপথের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ম্যাচগুলো আগে থেকেই বিশ্বের তুলনামূলক এগিয়ে থাকা ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে।

একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে দলগুলো ওভারপ্রতি ৭.৩৫ রান করে তুলেছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। সেখানে রিভার্স সুইং হঠাৎ বেড়ে গেলে দলগুলোকে আগের তুলনায় ইনিংসের শুরুতেই বেশি রান তুলতে হতে পারে।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ইউনিসেফের সঙ্গে নারী ও শিশুদের কল্যাণে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


বাংলাদেশ ইউনিসেফের সঙ্গে নারী ও শিশুদের কল্যাণে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়

বাংলাদেশ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিশুসুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে ইউনিসেফের সঙ্গে আরও কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান।

বৈঠকে নারী ও শিশুর উন্নয়ন এবং কল্যাণে বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শামা ওবায়েদ স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের নারী ও শিশুর উন্নয়ন ও কল্যাণে ইউনিসেফের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "নারী ও শিশুর মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

তিনি সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে।"

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শামা বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং মেয়েদের সীমিত সুযোগসহ এর অন্তর্নিহিত আর্থসামাজিক কারণগুলো মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি, অনলাইন হয়রানিসহ নারীর প্রতি সহিংসতা এবং কিশোর অপরাধের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে শামা নিউইয়র্কে মেটা’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া আরও বিভিন্ন পদক্ষেপও তিনি তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিতেও ইউনিসেফের সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল শিশুমৃত্যু ও শিশুর খর্বাকৃতি হওয়ার হার কমানো, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও জন্মনিবন্ধন বাড়ানো এবং নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, উপপ্রতিনিধি এমানুয়েল আবিরু এবং শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিন ক্যাথরিন। একইসাথে, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক কাজী এহসানুল হকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ: ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ: ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম, এবং তাদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ মানুষ আয়ের সক্ষমতা রাখে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এই কথা বলেন। এই সেমিনারে জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২২০ জন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জিয়া হায়দার বলেন, "শুধু লেখাপড়ায় জিপিএ ৫ পেলেই হবে না, শুদ্ধাচার ও স্বাস্থ্যের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু ছাইদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


রংপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৩

রংপুরে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক ও অপহরণসহ মোট ২৬টি মামলার পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজীব হোসেন সুমন, যিনি ‘মেরিল সুমন’ নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে নগরীর সিও বাজার এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে সোমবার দুপুরে এসআরবি-১৩-এর রংপুর সদর দপ্তরে একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম।

তিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র আইন, চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালান এবং অপহরণসহ ২৬টি গুরুতর মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সে পূর্বে গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এসআরবি-১৩ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করা, বিভিন্ন প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা ও তৎপরতায় সে জড়িত ছিল।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজ থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও গ্যাং কালচার পুরোপুরি নির্মূল করতে এসআরবি-১৩ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%