০৪:০৬ পি.এম
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে রয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময় ও অনুমতি সাপেক্ষে অতি দ্রুত এই স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, শান্তি সুদূরপরাহত
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা, ব্যাপকতা ও এর মূল তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পকে আরো নিখুঁত ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও আইনি পরিমার্জন আনা হয়েছে।
জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্ব ও ব্যয়সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর পরিচালনায় স্থায়ী জনবল কাঠামো ও সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইনি অনুমতি ও বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও স্পিরিট মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখতে এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে আমাদের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।’
আরও পড়ুন: “অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”
ডা. জাহেদ উর রহমান আরো বলেন, ‘১৫ জুলাই আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগের মিছিলকে তরান্বিত করে।’
তিনি এই ল্যান্ডমার্ক দিনগুলোর চেতনা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অনুষ্ঠানমালার প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।
আরও পড়ুন: ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন