রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার বলিভিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় শতাধিক কোকা চাষি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন।
এএফপির প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলিভিয়ার কোচাবাম্বা থেকে এই খবরটি জানায়।
জুন মাসে, কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তিনি এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। শুক্রবারের বিক্ষোভ এই পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই আদিবাসী এবং তারা পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানান। ওই ডিক্রির অধীনে কৃষকসহ অধিক পরিমাণে ডিজেল ক্রয়ের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৮০ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৫০ সেন্টে উন্নীত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য দেশে জ্বালানি পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পাচারের ফলে বলিভিয়ায় জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টানতে টানতে চিৎকার করে বলেন, ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই!’
৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে জানান, দাম বৃদ্ধির ফলে ‘সবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেনি।
বুধবার সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয়।
তাদের প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি আগের দামেই, অর্থাৎ প্রতি লিটার ৮০ সেন্টে কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই ছাড়েও বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হননি।
গত বছর, আন্দিজ অঞ্চলের দেশ বলিভিয়ায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় পাজ ক্ষমতায় আসেন। তখন দেশটিতে জ্বালানি ও ডলারের তীব্র সংকট চলছিল।
ক্ষমতায় এসে, তার প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। এই ভর্তুকির কারণে বলিভিয়ার মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে দেশের কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি এখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক।
মোরালেস শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিজ্ঞাপনের বাজার থেকে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জানুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত পিএসএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে পিসিবি এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুর্নামেন্টের মিডিয়া স্বত্বাধিকারী ওয়ালি টেকনোলজিস আগামী বছরের শুরুতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, রমজানের পর এপ্রিল-মে মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেট তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এই কারণে, ওই সময়ে পিএসএল আয়োজন করলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তবে সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে কিছু উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। যে সময়েই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হোক, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওয়ালি টেকনোলজিসের বিজ্ঞাপন বাজেট নিয়ে মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, পিএসএলের আটটি দল কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিল থেকে সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পেয়ে থাকে।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পিএসএলের প্রথম নয়টি আসর ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে গত দুই মৌসুমে টুর্নামেন্টটি এপ্রিল-মে মাসে আয়োজন করতে হয়েছে। এর ফলে পিএসএলকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর আইপিএলের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে হয়েছে।
আইপিএলের সময় পিএসএল আয়োজনের একটি সুবিধা ছিল খেলোয়াড়দের সহজলভ্যতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তুলনামূলক কম থাকায় বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হয়। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে অংশ না নেওয়ায় পিএসএলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়েও বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয় না।
অন্যদিকে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজন করা হলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ চলবে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াতে এসব লিগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে পিএসএলকে।
জানুয়ারিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে আবহাওয়াও পিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পাঞ্জাবে এ সময় প্রচণ্ড শীতের পাশাপাশি কুয়াশার কারণে ম্যাচ আয়োজন ও দৃশ্যমানতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিএসএলের চারটি প্রধান ভেন্যুর মধ্যে লাহোর, মুলতান, রাওয়ালপিন্ডি ও পাঞ্জাবে অবস্থিত।
এ কারণে করাচি থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। শীতকালে করাচির আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় হওয়ায় সেখানে শুরু করে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হলে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পাঞ্জাব ও পেশোয়ারে আয়োজনের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নির্ধারিত নেই। অক্টোবর-নভেম্বরে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের পর মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের।
ওয়ালি টেকনোলজিস ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বের মালিক। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২০২৬ সালের আসরের আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বত্বও ছিল। এ ছাড়া চলতি বছর পিএসএলে যুক্ত হওয়া দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির একটির মালিকানাও ওয়ালি টেকনোলজিসের হাতে রয়েছে।
এদিকে পিএসএলকে শুধুমাত্র ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও গভর্নিং কাউন্সিল আলোচনা করেছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধনশীল ই-স্পোর্টস খাতে প্রবেশের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পিএসএলের প্রতি দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ই-স্পোর্টসের মতো নতুন খাতে পিএসএলের সম্পৃক্ততা তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করেছে গভর্নিং কাউন্সিল। এর মাধ্যমে দল ও সম্প্রচারকারীদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে পিসিবির।
তবে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, আবহাওয়া, সম্প্রচার আয় ও লজিস্টিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: ক্রিকইনফো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় দুই টন মাছের পোনা অবমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এবং রাজস্ব খাতের আওতায়, আজ রোববার নাটোর পুলিশ লাইন্স পুকুরে ২৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকতা মো. ওমর আলী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম।
পুলিশ সুপার মন্তব্য করেন, "সকল জলাশয়গুলো পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় নিয়ে আসা হলে দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা খুব সহজেই সম্ভব হবে।"
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাসসকে জানান, জেলা মৎস্য বিভাগের নেয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চলতি অর্থ বছরে অবমুক্ত করা হচ্ছে এসব পোনা। তিনি বলেন, "এ উদ্যোগ আগামীতে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। গড়ে উঠবে বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী জাতি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনার ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন মানুষ আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ভবন ধসের খবর পায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্মী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির পর্যালোচনা এবং ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে।
তবে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে ভবন ধসে কেউ আটকা পড়েছেন বা আহত হয়েছেন কি না।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের ডিভিশনাল অফিসার রামগোপাল মীনা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে (
এএনআই জানিয়েছেন, পিয়ারেলাল রোডের জুয়েলার্স এলাকায় ওই ভবনে ধসের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, সেখানে ভবনটি ভাঙার কাজ চলছিল।
ভবনটি অনেক পুরোনো এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা শহরের জেইতুন মহল্লায় ইসরায়েলি হামলার ফলে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সম্প্রতি উদ্ধার করা ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই জানাজাটি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত হয়, যেখানে নিহতদের স্বজন, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ হাজারো ফিলিস্তিনি অংশগ্রহণ করেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে একটি স্থানে মরদেহ ও দেহাবশেষগুলোকে ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়ে রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা, যারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য প্রদান করেন। জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ ও দেহাবশেষগুলো জেইতুন এলাকার আল-আহলি কবরস্থানে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের উদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতরা রহিম, বালাউই, মালাকা, কানবুর ও সালমি পরিবারের সদস্য। প্রায় আড়াই বছর আগে ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালালে তারা নিহত হন বলে জানা গেছে।
ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক খননযন্ত্র ও জরাজীর্ণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, দাফন করা মরদেহ ও দেহাবশেষের সংখ্যা অনুযায়ী রবিবারের এই জানাজা ফিলিস্তিনি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে আগস্টের শুরুতে গাজা শহরের সাবরা এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ ফিলিস্তিনির জন্যও একই ধরনের জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল।
উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজা শহর এবং ছিটমহলটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে মোট ৮০০ ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে। ওই পর্যায়ে ৫০০ ঘণ্টা কাজ করে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আনুমানিক ৫৫৯ জনের মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে।
গাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার পর গাজায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হন। একই সময়ে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ