০১:৪৯ এম
সাগর একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠার কারণে লেখাপড়ায় প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেনি। কিশোর বয়স থেকেই রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করত।
উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে নিয়মিত ভ্যান চালানোর ফলে দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ম্যানেজার চাকরি ছেড়ে বিদেশ চলে গেলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।
কিছু বছর পর, ওই ম্যানেজার বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আবারও চাকরি নেয় ওই রড-সিমেন্ট দোকানে। বন্ধুত্বের সুবাদে সাগর ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করায়, ম্যানেজার তাকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে ওই দোকান ম্যানেজারের সহযোগিতায় মাত্র ৬ লাখ টাকায় সাগর রাশিয়া পাড়ি দেয়।
আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান
রাশিয়ায় গিয়ে একটি বেকারী দোকানে চাকরি নেয় সে। সেখানে তার বেতন ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। রাশিয়ায় কাজ করার সময় তার পরিচয় হয় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে। ওই দালাল তাকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের মে মাসে বেকারীর চাকরি ছেড়ে দালালের ফাঁদে পা দেয় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেয় ২৪ বছর বয়সী সাগর। এরপর থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তার বোনের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠায়, ‘সাগর আর নেই’! এই খবর পাওয়ার পর সাগরের মা মুর্ছা যান। পরিবারের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মো. সাগর কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাগর ছিল ছোট।
সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, সাগর যখন রাশিয়ার বেকারীর চাকরি ছেড়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা জানায়, তখন তিনি তাকে বারণ করেছিলেন। কারণ সাগর লেখাপড়ায় অযোগ্য। তিনি বলেন, "সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কিভাবে?" দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে। সাগর যুদ্ধে যাওয়ার আগে তার একাউন্টে তিন লাখ টাকা পাঠায়। এরপর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে
শনিবার (১৭ অক্টোবর) তার বন্ধু ম্যাসেজ করেছে সাগর মারা গেছে। রাতে বিস্তারিত জানাবে বলেছে। এখন পর্যন্ত (রাত ১১টা) ফোন করেনি, এবং তারা ফোনের নেটওয়ার্কে পাচ্ছে না।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, ‘আমি সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধার-দেনা করে তাকে বিদেশ পাঠিয়েছি। প্রায় ৪-৫ মাস ধরে ছেলেটার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এখন শুনি আমার ছেলে আর নেই’। এই বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন কবির হোসেন।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
আরও পড়ুন: বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন