বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই, এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে, প্রত্যাবাসনের পর তাদের পুনরায় শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে না হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা মিয়ানমারের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। তহবিল সংকটের কারণে ক্যাম্পে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ও সেবামূলক কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যা রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সংকটের সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে জাহরাত আদিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন এস কে আজিজুল বারী, সৈয়দ আল নোমান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি ও ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম। এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, শরণার্থীদের জীবনযাপন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলের ক্যাম্প-৬-এর রোহিঙ্গা হেরিটেজ সেন্টার, ক্যাম্প-৯-এর তুর্কি হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৪-এ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এছাড়া ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা যুবক ও নারীদের সঙ্গে মত বিনিময়েরও কর্মসূচি রাখা হয়।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে প্রত্যাবাসনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে, প্রত্যাবাসন টেকসই করতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্যাভান সুলিভান নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন। যদিও ব্যক্তিগত হতাশার রাতেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৭ বছর বয়সী প্রতিভা মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইতিহাস গড়েছেন। শিকাগো ফায়ারকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন টানা অষ্টম জয় অর্জন করেছে তাঁর অ্যাসিস্টের মাধ্যমে।
সোলজার ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম গোলটি সুলিভান ব্রুনো দামিয়ানিকে দিয়ে করান। এই অ্যাসিস্টের ফলে ২০২৬ মৌসুমে তাঁর গোল-ইনভলভমেন্ট ২১টিতে পৌঁছেছে—যার মধ্যে রয়েছে ৭ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট। ফলে, এক মৌসুমে কোনো কিশোর ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোল-ইনভলভমেন্টের রেকর্ডটি তিনি নিজের করে নিয়েছেন।
ফিলাডেলফিয়ার পূর্ববর্তী ম্যাচে, সুলিভান ডিয়েগো ফাগুন্দেজের ২০১৩ সালের ২০ গোল-ইনভলভমেন্টের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। এবার শিকাগোর বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে সেটিকে ছাড়িয়ে যান তিনি।
তবে, রেকর্ড গড়ার পরও সুলিভান নিজের পারফরম্যান্সে খুশি নন। তিনি ম্যাচে চারটি শট নিয়েও গোল করতে পারেননি। তাঁর পাসিং সাফল্য ছিল ৭৫ শতাংশ—৪৭টি পাসের মধ্যে ২৮টি সফল ছিল। ম্যাচ শেষে, এই কিশোর নিজের পারফরম্যান্সকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
সুলিভান জানান, তিনি রেকর্ড বা পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। জয় পেয়ে খুশি হলেও, নিজের খেলা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করতে চান। ম্যাচের ভিডিও দেখে কোথায় উন্নতি করা প্রয়োজন, সেটি খুঁজে বের করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইউনিয়নের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ রায়ান রিখটার সুলিভানের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক ছিলেন। তাঁর মতে, প্রতি সপ্তাহেই সুলিভানের জন্য নতুন কোনো অর্জন সামনে আসছে। গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব রাখার পাশাপাশি, তাঁর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতাও প্রশংসিত হয়েছে।
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন টানা আট জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় প্লে-অফ জায়গার বাইরে থাকা দলগুলোর চেয়ে তারা নয় পয়েন্ট এগিয়ে। নিয়মিত মৌসুমে আর পাঁচটি ম্যাচ বাকি থাকায়, রাউন্ড-ওয়ানে জায়গা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সাত পয়েন্ট প্রয়োজন তাদের। চার পয়েন্ট পেলেই ওয়াইল্ড-কার্ড নিশ্চিত হয়ে যাবে।
এদিকে, ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে সেন্ট লুইস সিটি। একই সঙ্গে, নিয়মিত মৌসুমে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এমএলএসের সর্বকালের রেকর্ডে আরও একটি নাম যুক্ত করেছে তারা।
এর আগে কলম্বাস ক্রু (২০০৪-০৫), এফসি ডালাস (২০১০) ও ইন্টার মায়ামি (২০২৪-২৫) নিয়মিত মৌসুমে ১৯ ম্যাচের অপরাজিত ধারা গড়েছিল। ফলে, সেন্ট লুইসের অর্জন এখন তাদের সঙ্গে যৌথভাবে এমএলএসের সর্বোচ্চ।
তবে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সেন্ট লুইসের টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এককভাবে এমএলএসের সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক রেড বুলসের গড়া ২০ ম্যাচের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসআরবি কর্তৃক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩) তাদের গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পরীক্ষাটি স্থগিত করে এবং ১৬ অক্টোবর নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই নিয়োগ পরীক্ষায় ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা তৈরির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এ অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরের জন্য সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন।
তিনি সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারি গড়ে তুলতে তিনটি প্রস্তাব দেন। প্রথমত, ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দেন। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণ বাড়াতে আরো বেশি সরাসরি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃতীয়ত, সদস্যদেশগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনিময় জোরদার করা এবং আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিরাপদ, উন্মুক্ত ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসর গড়ে তুলতে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এ বছর আজারবাইজানের সভাপতিত্বে ‘শক্তিশালী সিআইসিএ : এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিপাদ্য এশিয়ার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোকে তুলে ধরেছে।
এদিকে, সিআইসিএ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই আঞ্চলিক ফোরামে লাও পিডিআরের যোগদানের মাধ্যমে সদস্যদেশের সংখ্যা ২৯-এ পৌঁছেছে। সম্মেলনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সিআইসিএর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের দায়িত্বও অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগও অনুমোদিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্পখাতে শ্রমিকের তীব্র ঘাটতি মেটানোর জন্য নিবন্ধিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থীর তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নোংরা, বিপজ্জনক ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রগুলোতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্য রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে নিবন্ধিত কর্মক্ষম শরণার্থীদের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে শ্রমশক্তি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তবে সাইফুদ্দীন উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবটি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে এবং কার্যকর করা হয়নি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, পাসির গুডাংয়ের একটি পাম অয়েল বাগানে ১০০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ থেকে নতুন কর্মী আনার পরিবর্তে দেশের ভেতরে থাকা নিবন্ধিত শরণার্থীদের দিয়ে সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এতে বিদেশের ওপর শ্রম-নির্ভরশীলতা কমবে এবং নিয়োগকর্তাদের কর্মী আনার ব্যয়ও অনেকটাই কমে যাবে।
দেশের ৩ডি খাতগুলোতে স্থানীয় মালয়েশীয়দের আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে সরকার। গত আগস্টে 'মাইফিউচারজবস' ওয়েবসাইটে হাজার হাজার শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৩৫২ জন মালয়েশীয় আবেদন করেছেন।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতির মূল পাঁচটি খাত- উৎপাদন, বাগান, কৃষি, নির্মাণ এবং সেবা খাতে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সার্বিক শ্রমিকের জোগান অত্যন্ত জরুরি। সরকার ঘোষিত ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনার আওতায় মোট ১.৭ কোটি শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (প্রায় ১৭ লাখ) বিদেশি কর্মী নিয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই আইনি সীমার মধ্যে থেকে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের দক্ষ ও নিবন্ধিত শ্রমশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশীয় নাগরিকদের প্রথম অগ্রাধিকার প্রদান সাপেক্ষে বিকল্প হিসেবে এই নীতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে সরকারের এই প্রস্তাবিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থা। তবে নর্থ সাউথ ইনিশিয়েটিভ-এর নির্বাহী পরিচালক আদ্রিয়ান পেরেরা মন্তব্য করেছেন, শরণার্থীদের কেবল শ্রমসাধ্য বা ৩ডি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা অনুচিত।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নীতি অনুসরণ করে ন্যূনতম মজুরি, বীমা সুবিধা এবং তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. সৈয়দ হুসেইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শরণার্থীদের কাজের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন, তবে সর্বাগ্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ