ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেক্সিকোতে শিক্ষকদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বকাপের আগে


মেক্সিকোতে শিক্ষকদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বকাপের আগে

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু ফুটবল উৎসবের প্রস্তুতির মাঝেই মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্দোলন ও বিক্ষোভে। শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বিশ্বকাপ আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উৎপন্ন করেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ল্যাম্পপোস্ট ব্যবহার করে সরকারি ভবনের দরজা ও স্থাপনায় হামলা চালান। এর একদিন আগে, কট্টরপন্থী শিক্ষক সংগঠন সিএনটিই-এর সদস্যরা বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্থাপন করা কয়েকজন ফুটবলারের বিশাল প্লাস্টিকের মূর্তি ভেঙে ফেলেন। পরে তারা মূর্তিগুলোর জার্সি খুলে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন ঘটনার কারণে আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদেশি দল, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন, সরকার কোনো ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নেবে না। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

শিক্ষকদের দাবি, তাদের বেতন বৃদ্ধি ও পেনশন সংস্কার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করতে হবে। সরকার ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাদের দাবি, বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে।

দাবি পূরণ না হলে আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বড় ধরনের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সিএনটিই’র পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোট, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে।

বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে, আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ সীমিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এই ভোটের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ চলমান সংঘাতের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে এটি যথেষ্ট তাৎপর্য রাখে।

তবে, বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এই ভোটের বাস্তব কার্যকারিতা যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর হবে না। এর কারণ হলো, প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের প্রভাব এখনও ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছে।

বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধক্ষমতা আইন প্রয়োগের পক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই আইন কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টকে বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করার ক্ষমতা দেয়, যদি তিনি কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনা করতে চান।

ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন যে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা বিভিন্ন সময় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন দাবি করে আসছে যে, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযান কংগ্রেসের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

১৯৭৩ সালে প্রণীত ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বিদেশে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আসন্ন ও তাৎক্ষণিক হামলার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।

যদি কংগ্রেস পরবর্তীতে যুদ্ধ অনুমোদন না দেয়, তাহলে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

সমালোচকদের মতে, ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো তাৎক্ষণিক হামলার মুখে ছিল না; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই প্রথম হামলা চালিয়েছিল। তাছাড়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৬০ দিন পরও ট্রাম্প প্রশাসন সেনা প্রত্যাহার করেনি।

বুধবারের ভোটে ২১৫ জন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০৮টি।

এই সাফল্য ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। চারজন রিপাবলিকান সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন, যা ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত ভোটেও মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেন্টাকির থমাস ম্যাসি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দেন পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস রিপাবলিকানদের কিছু অংশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত এর উত্তর ‘না’। প্রতিনিধি পরিষদের পর একই প্রস্তাব সিনেটেও পাস হতে হবে। কিন্তু সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তারা এখনও যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগগুলো আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে সিনেটে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অনুষ্ঠিত ভোটে ৫০ জন পক্ষে এবং ৪৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন। চারজন রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিলেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া যায়নি।

ধরে নেওয়া যাক, সিনেটেও প্রস্তাবটি পাস হলো, তাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটিতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন।

বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যুক্তরাষ্ট্র আদৌ এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আছে কি না।

৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যদিও সেটি অত্যন্ত নাজুক। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধবিরতির ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং তাই ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের অনেক বিধান বর্তমানে প্রযোজ্য নয়।

গত ১ মে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, যুদ্ধবিরতি কার্যত শত্রুতার অবসান ঘটিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানও হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন ধরনের বাধা বজায় রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি কংগ্রেসে শুনানির সময় দাবি করেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।”

কিন্তু সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য জিন শাহিন এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ চলাকালে প্রশাসন কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি এবং জবাবদিহিতা এড়িয়ে গেছে।

তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলা চালাচ্ছিল এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসে হামলা করছিল, তখন প্রশাসন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল যে, তারা ‘সক্রিয় শত্রুতায়’ জড়িত নয়।

এ প্রশ্নের উত্তরও স্পষ্ট নয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন প্রেসিডেন্টের হাতে সেই সুযোগ এখনও রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মে মাসে সিনেটের একটি শুনানিতে বলেন, যুদ্ধক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টকে যে ৬০ দিনের সামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, যুদ্ধবিরতির পর তা নতুনভাবে গণনা শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন মনে করে।

তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট যদি আবার সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ক্ষমতা আমাদের হাতে রয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হলেও এটি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে ঠেকাতে পারবে না। তবে যুদ্ধবিরোধী জনমত এবং কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান চাপ ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু: ঈদের পর প্রথম কাজে ফিরেছিলেন তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু: ঈদের পর প্রথম কাজে ফিরেছিলেন তারা

কক্সবাজারের দরিয়ানগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম ভেটেনারী ও প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল, যেখানে ১৩ শ্রমিক মাটি কাটছিলেন। ঈদের ছুটির শেষে কাজে ফিরে আসার মাত্র চার দিনের মাথায় ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে হঠাৎ করে মাটি ধসে চাপা পড়েন তিন শ্রমিক। সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দুজন শ্রমিকের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি। গুরুতর আহত আরেক শ্রমিককে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কারণে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তা হলো অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার প্রক্রিয়া।

শ্রমিকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য গত দুই মাস ধরে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। ঈদের কারণে কাজ কয়েকদিন বন্ধ ছিল, তারপর সোমবার থেকে আবার কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা। মোট ১৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন তবে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনজন। দুপুরের দিকে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে তাদের ওপর চাপা পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে অন্য শ্রমিকরা চিৎকার করতে থাকেন, এবং তারা দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে মাটিচাপা অবস্থায় তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা যায় যে, দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জাফর আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস এবং অপরজন নাসির আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব।

আহত শ্রমিক মোহাম্মদ শাহজাহান একই উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, ‘ঈদের আগে ৬দিন কাজ করেছি। এরপর ঈদের ছুটি কাটিয়ে আমরা বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন সোমবার থেকে কাজ শুরু করি। বৃহস্পতিবার সকালে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছিলাম। হঠাৎ শুনি পেছন থেকে একপাশের মাটি ধসে পড়েছে এবং কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়ে গেছে। আমরা দ্রুত চিৎকার করে সবাইকে ডাকলাম। অনেকে আগেও আসলেন এবং দ্রুত মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করি।’

শ্রমিক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, ‘কাজ করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে মাটি ধসে পড়ে। তখন অন্তত কয়েকজন একটু দূরে ছিলাম। যারা মাটি কাটছিলেন, তাদের মধ্যে তিনজন মাটিচাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে আরও ১০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আমরা এসে দ্রুত তাদের উদ্ধারে হাত লাগালাম।’

এদিকে, পানি চলাচলের ছড়ার ওপর ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকি এন্টারপ্রাইজ। দুই মাস ধরে প্রকল্পটির কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, পাহাড় ধস নয়, কালভার্ট নির্মাণের সময় মাটি কাটার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইমাম হোসেন উল্লেখ করেন, ‘এখানে মূলত একটি পুরোনো লোহার ছাকুনি (কালভার্ট কাঠামো) পরিবর্তন করে নতুন কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। এটি কোনো পাহাড় কাটার কাজ নয়। কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দ্রুত আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাজটি ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল।’

লাকি এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আব্দুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সড়কের নিচে পুরোনো কালভার্টের পরিবর্তে নতুন একটি কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছিল। এ প্রকল্পের জন্য নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি আমাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। নির্মাণকাজে স্থানীয় এলাকার শ্রমিকরাই নিয়োজিত ছিলেন। কাজ চলাকালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

মাটি ধসের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শ্রমিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা চলে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিস জানায়, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছিল। কাজের একটি পর্যায়ে মাটি ধসে তিন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, কালভার্টের জন্য মাটি কাটার সময় ওপরের অংশ থেকে মাটি ধসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর, এবং তারা মাটিচাপা পড়েন। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণেই ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর প্রতবনিধি

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার
 
 
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ হওয়া কলেজছাত্র মুকরামিন হাসানের (২৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ভাংনামারী ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, ৩ জুন বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে নামেন মুকরামিন হাসান। একপর্যায়ে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৪জুন বৃহস্পতিবার সকালে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েত বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


কুয়েত বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করল ইরান

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটনার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করেছে। ইরান বলছে, এভাবে কুয়েতের কাছ থেকে উত্থাপিত অভিযোগটি, যেটি 'ইরানি ড্রোন হামলা' দাবি করেছে, সেটিকে সরাসরি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা থেকে জানা যায়, ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মহবি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি জনিত কারণে হয়েছে, কোনোভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে নয়।

যদিও ইরানের এই দাবি কুয়েতের সরকারী কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। কুয়েতের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পূর্বে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বুধবার একটি ইরানি ড্রোন বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত করছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিমানবন্দরের ভেতর ও বাইরের দুটি সন্ত্রাসী আক্রমণের মুহূর্ত এবং এর ফলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যও উপস্থিত রয়েছে।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ড্রোন হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%