ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির


নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, আরব দলগুলো ভোট ‘চুরি’ করেছে এবং এর পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি। এই ঘটনার পর লিকুদ অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো, যেমন—রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট, রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে কনেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯টি আসন অর্জনের পথে রয়েছে। আরব দলগুলোর এই অভাবনীয় উত্থান ইসরায়েলি রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে নেতানিয়াহুর ব্লকের পাশাপাশি তার বিরোধী দলগুলোও এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, তারা পুলিশ, শিন বেত (অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) কাছে শত শত সাক্ষ্য-প্রমাণ জমা দিয়েছে। দলটির উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—হাজার হাজার খামে নগদ অর্থ এবং নির্দিষ্ট দলের (রাম) ব্যালট স্লিপ বিতরণ। ভোটগ্রহণ কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক সহিংসতা, গোপন বুথের আড়ালে একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে প্রবেশ এবং জাল ভোটদান। মোট খামের সংখ্যা এবং মোট ভোটারদের সংখ্যার মধ্যে গরমিল, অবৈধ ভোটার মোবিলাইজেশন বা দলবদ্ধ করার সফটওয়্যারের অপব্যবহার।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

এসব গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে লিকুদ পার্টি তাৎক্ষণিকভাবে একটি “পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত” এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন লিকুদ পার্টির এসব অভিযোগ শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা চলমান নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতির দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর এই রেকর্ড সাফল্য এবং লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে উত্থাপিত জালিয়াতির অভিযোগ ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নেসেট (সংসদ) নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন দক্ষিণপন্থী ও অতি-ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে যথেষ্ট দূরে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী ‘পরিবর্তন ব্লক’ (Change Bloc)-ও জাদুকরী সংখ্যা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগামী দিনে ইসরায়েলের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তার তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট উপস্থাপন করেছেন।

১. পরিবর্তন ব্লক এবং আরব দলগুলোর জোট

নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে চলেছে ইসরায়েলের আরব দলগুলো। অতীতে কট্টর ডানপন্থী বা কেন্দ্র ডানপন্থী দলগুলো আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধার তীব্র বিরোধিতা করলেও বর্তমান সমীকরণে সরকার গঠনে তারা মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের প্রধান ইয়োহান প্লেসনারের মতে, এটি গাণিতিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি বিকল্প হতে পারে। তবে অক্টোবর ৭-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইহুদি জনগণের মধ্যে ইসলামপন্থী দলের সাথে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিকল্পও টেবিলে রয়েছে।

২. জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন

আরেকটি সম্ভাব্য পথ হলো আদর্শগত বিরোধ ভুলে গিয়ে মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠন করা। নেতানিয়াহু তার জোটের সঙ্গীদের সাথে নিয়ে পরিবর্তন ব্লকের কোনো একটি দলকে নিজের দিকে টেনে ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। অন্যদিকে পরিবর্তন ব্লকের পক্ষ থেকেও একটি ‘বাস্তবভিত্তিক ঐক্যের সরকার’ গঠনের চাপ থাকতে পারে, যেখানে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী চরম ডানপন্থী বা সামরিক বিল নিয়ে বিরোধিতাকারী অতি-ডানপন্থী কোনো দলের সদস্যদের বাইরে রাখা হতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে হটিয়ে পরিবর্তন আনাই যাদের মূল স্লোগান ছিল, সেই জোটের ভোটারদের কাছে এই ধরনের সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

৩. আরেকটি নতুন নির্বাচন

চলমান নির্বাচনে ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি (৭৭.৭%) দেখা গেলেও কোনো ব্লকের পক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তৃতীয় আরেকটি নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে একাধিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। বর্তমানের গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কঠোর অবস্থানের কারণে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কোন দল বা জোট সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণ করতে কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাসও লেগে যেতে পারে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা

কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। তবে, প্রস্তাবটি সম্পর্কে তেহরান ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, কাতার কেবল কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ প্রদান করেছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার মতে, কাতারের খসড়ায় দুই পক্ষের উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য সাত দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নে কয়েকটি দেশ গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

তবে, ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পর্যায় থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত আগে পূরণ করতে হবে। ইরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এদিকে, যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগকে লক্ষ্য করে আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান।

সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার কাতার বলেছে, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।

এই সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের পূর্ববর্তী পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছিল। একই সঙ্গে, ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইও নতুন করে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি ট্রাম্পের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ পি.এম


স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬৮ জনে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউরোপজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো প্রদেশের উর্দার কাছে দ্রুতগতির রেলপথে সংঘর্ষটি ঘটে। এই রেলপথটি মাদ্রিদকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিলের সঙ্গে যুক্ত করে।

দুর্ঘটনার ফলে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাস্থল কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে সতর্ক করেছেন যে গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে জানানো হয়েছিল যে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও বহু মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, আহতদের ওই অঞ্চলের কয়েকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে জানান, ট্রেন দুটি একই দিকে যাচ্ছিল। এ সময় একটি ট্রেন থেমে থাকা অন্য ট্রেনটির পেছনে ধাক্কা দেয়, যার ফলে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলোর মধ্যে একটি স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত এভিই দ্রুতগতির ট্রেন, যা মাদ্রিদ থেকে সেভিল যাচ্ছিল। অপর ট্রেনটি বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও পরিচালিত। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাইনচ্যুত একটি বগির ধ্বংসাবশেষ ঢালু জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। পাদিয়া জানিয়েছেন, রেনফের ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন।

সংবাদমাধ্যম এল পাইসকে উদ্ধৃত করে জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরিওর ট্রেনের দুটি বগি রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

টিভিইকে গার্সিয়া বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি থেকে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল উচ্চগতির সংঘর্ষ। তাই আমরা একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি।’

মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রাজধানী থেকেও জরুরি চিকিৎসা দল ও দমকলকর্মীদের পাঠানো হচ্ছে।

স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে। দুর্ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ তদন্ত দল পাঠিয়েছে দেশটির সিভিল গার্ড।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করার সময় তিনি পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এবং আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট গার্সিয়া-পাখের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

সানচেজ বলেন, ‘টলেডোতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার খবরে আমি মর্মাহত। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার সহমর্মিতা ও সমর্থন রইল।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনও দুর্ঘটনার খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ ইউরোপ আপনাদের সঙ্গে শোক পালন করছে।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁও স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

মাত্র নয় মাস আগে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ৪৫ জন নিহত হন।

আদামুজ শহরের কাছে ওই দুর্ঘটনাটি ছিল ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালে দেশটিতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের রান অতিক্রম করেছে। স্বাগতিকদের ৩২৯ রানের জবাবে, দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেটে ৩৩০ রান। এর ফলে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ১ রানের লিড অর্জন করেছে। জশ ইংলিস ৮৫ রান এবং অ্যালেক্স কেরি ৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ১৪৫ রান।

দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে ভালো শুরু এনে দেন ম্যাট রেনশ ও ট্রাভিস হেড। প্রথম উইকেটে দুজন মিলে ৫৮ রান যোগ করেন। ৪১ রান করা হেডকে দিনের প্রথম বলেই ফেরান সিমন হারমার। পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে বলটি নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার। এরপর মার্নাস লাবুশেনও ব্যর্থ হন। হারমারের বলে এই ব্যাটার শূন্য রানে এইডেন মার্করামের হাতে স্লিপে ক্যাচ দেন।

দুই উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের হাল ধরেন রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১২৬ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে আবার শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। রেনশ ৭৪ রান করেন, আর গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। এরপর দ্রুত দুজনকেই ফিরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরান মার্কো ইয়ানসেন। রেনশ রায়ান রিকেলটনের হাতে ক্যাচ দেন, আর গ্রিনের ব্যাটের কানা লেগে বল যায় হারমারের হাতে। ইয়ানসেন দুটি উইকেটই নেন।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি ইংলিস ও কেরি। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ১৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি অস্ট্রেলিয়াকে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর অতিক্রম করতে সাহায্য করেনি, বরং তৃতীয় দিনের শুরুতে বড় লিড নেওয়ার সুযোগও তৈরি করেছে। ইংলিস ১১১ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন, আর কেরি ৫১ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

এর আগে প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক ৬ উইকেট নেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে অলআউট হয়। মার্কেস অ্যাকারম্যান ৯৫, এইডেন মার্করাম ৭৮, মার্কো ইয়ানসেন ৫২ এবং ডেভিড বেডিংহ্যাম ৫০ রান করেন। স্টার্ক ১৬.৩ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন, নাথান লায়ন ২টি উইকেট নেন।

দুই ম্যাচ শেষে সিরিজ ১-১ সমতায় রয়েছে। ডারবানে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়ী হয়েছিল, আর গকেবেরহায় দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জয় পায়। ফলে নিউল্যান্ডসের এই ম্যাচটি সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%