মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৩ পি.এম
টাঙ্গাইল নাগরপুরে তালাক দেওয়ার জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এক স্বামী। স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুনের পর ঘাতক স্বামী নিজের গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শাশুড়িও, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে বুধবার রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম নিলুফা আক্তার মিলু (৪০)। অভিযুক্ত স্বামী হযরত আলী একই উপজেলার দহর পাচুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় নিহত নিলুফার মা চেনবানু গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে হযরত আলীর সঙ্গে নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। দীর্ঘদিন এই অশান্তি সহ্য করার পর, অবশেষে এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে ডিভোর্স বা তালাক দেন নিলুফা। এই তালাকের খবর পেয়েই প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হযরত আলী।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন হযরত। সেখানে নিলুফাকে দেখামাত্রই তিনি এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মারা যান নিলুফা। এ সময় মেয়ের চিৎকারে মা চেনবানু বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্ত্রীকে হত্যা এবং শাশুড়িকে আহত করার পর ঘাতক হযরত নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেট ও গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হযরত আলী ও তাঁর শাশুড়ি চেনবানুকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘকালীন প্রতিনিধিত্বের অভাব দূর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র একটি শর্তাধীন বিষয় নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আফ্রিকাকে আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে, মেনুতে নয়।’
ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আফ্রিকাকে নিরাপত্তা পরিষদে তার যথাযথ স্থান দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিনিধিত্বের অভাব দূর করা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, আফ্রিকাকে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ন্যায্যতার প্রশ্ন নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলমান রয়েছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যে বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়।
এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, "আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।"
এছাড়া, নোটিশে আরও বলা হয়, "অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।"
এদিকে, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের কারখানায় জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে তাজিকিস্তানের সংসদের স্পিকার ফয়েজালি ইদিজোদার সঙ্গে। এ বৈঠকটি তাজিকিস্তানের সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনকে আরও গভীর ও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম এমপি, ডা. মো. মাহবুবুর রহমান এমপি এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান।
এছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাজিকিস্তানে নিযুক্ত (অনাবাসিক) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদল তাজিকিস্তান সফর করছে এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় অংশগ্রহণের জন্য।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে এবং এ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
প্রতিনিধিদলটি তাজিকিস্তানের স্পিকারকে বাংলাদেশে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের বিষয়ে অবহিত করে।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে পাট, বস্ত্র, ওষুধ, জনশক্তি রপ্তানি ও পর্যটন খাতের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান পার্লামেন্টারি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।
তাজিকিস্তান সংসদের স্পিকার ফয়েজালি ইদিজোদা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সাফল্য কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ পার্লামেন্টারি গ্রুপ গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
তাজিকিস্তানের স্পিকার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে সুবিধাজনক সময়ে তাজিকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান সম্পর্কের পরিধি আরও বহুমুখী ও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্রের জন্য। যদিও দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না, অভিযোগ উঠেছে যে নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। উমেদার রূপণ দাশ আদালতে জানিয়েছেন যে পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের সময় সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন যে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন।
জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন জানান, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কৌশলে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম বলেছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ গ্রহণের সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
এদিকে, উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ