বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৫ পি.এম
ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার দিল্লির রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান করেছেন তিনি।
ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ তুলে ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, "গত তিন বছর ধরে আমি প্রমাণসহ 'ভোট চুরি' ও নির্বাচনী কারচুপির বিষয়টি তুলে ধরে আসছি। এখন তো খোদ নির্বাচন কমিশনেরই দুজন কমিশনার ভেতরের অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন।" তিনি আরও দাবি করেন, শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনেক ছোট-বড় নেতাও জানেন যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "ভোটার তালিকার ওপর কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিশেষ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।" দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, "সিস্টেমে বড় ধরনের গলদ তৈরি হয়েছে এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে।"
হরিয়ানা, ছত্তিশগড় ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, "এই রাজ্যগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারবিরোধী হাওয়া বা 'অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি' স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের ফলাফলে সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও তার জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে হেরেছিলেন, সেখানে বর্তমানে শাসক দলের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়।"
তিনি জানান, দেশের সব বিরোধী দল একজোট হয়ে ভোট চুরির এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে।
এদিকে, কংগ্রেসের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি কার নির্দেশে ভোটার তালিকায় এই ধরনের "অনিয়ম" ঘটানো হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বনেতারা নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত এবং কূটনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোর কথাও উঠে আসছে আলোচনা টেবিলে।
জাতিসংঘের ইতিহাসে কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে উল্লেখ করা হলো—
ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)
কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে রয়েছে জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ড। ১৯৬০ সালে তিনি তাঁর প্রথম ভাষণে টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময় তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics
নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০)
১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে শুরু করেন। এই অধিবেশন ঘিরে তাঁর জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি তৈরি হয়।
হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬)
২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’
গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন।
নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে একটি বড় বোমার কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং সেখানে একটি লাল কালি দিয়ে সীমারেখা টানেন।
ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)
২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right)
গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)
ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান অধিবেশনের সামনেই একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন।
ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’
সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করেন, তবে জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়।
এসব নাটকীয় ঘটনার পাশাপাশি দীর্ঘ ভাষণ এবং ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।
সূত্র: ওয়াননিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে (২০২৫-২০২৭) বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার ব্যাপারে আশাবাদী দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
মিরপুরে তিনদিনের ক্যাম্প করছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মুশতাক আহমেদ, যেখানে জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ও উঠতি স্পিনারদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আজ অনুশীলন শেষে তিনি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মুশতাক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেন নয়! আমরা এখন দারুণ অবস্থায় আছি। আমরা ভালো খেলা অব্যাহত রাখা এবং বিশ্বাস বজায় রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ, পুরো পথ অতিক্রম করার সঠিক সময় আমাদের কাছে আছে।’
বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচ খেলে ৩টিতে জয়, ২টিতে হার ও ১টি ড্র করে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। এই চক্রে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
গত মাসে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ব্যাট-বল হাতে দাপট দেখিয়ে টাইগাররা ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অসিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে তারা সিরিজ সমতায় শেষ করে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে। ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে মুশতাক বলেন,‘অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে বা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে হারানোর বিশ্বাস থাকলে, জয় অসম্ভব নয়। পাকিস্তানকে আমরা শেষ দুই ম্যাচেই হারিয়েছি। এখন বাংলাদেশ দল হারার ভয় পায় না।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে বাংলাদেশের জন্য আরও ছয়টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। অক্টোবরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি করে টেস্ট খেলবে টাইগাররা।
মুশতাক বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ও হাই পারফরমেন্স প্রোগ্রামের আওতায় থাকা ২০ স্পিনারকে নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অনুশীলনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্পিনারদের টেকনিক ও ভুলত্রুটি নিয়ে কাজ করছেন। তিনটি ক্যামেরার মাধ্যমে তিন দিক থেকে স্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন রেকর্ড করা হচ্ছে।
স্পিনারদের নিয়ে অনুশীলনের বিষয়ে মুশতাক বলেন, ‘আমি মনে করি, বিসিবি ও হাই পারফরমেন্স ইউনিটের এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। আমরা এখানে তিনটি ক্যামেরা দিয়ে সামনে-পেছন ও পাশ থেকে স্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন রেকর্ড করছি। এতে স্পিনারদের অ্যাকশন নিয়ে ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়াও স্থানীয় কোচদের সঙ্গে নিয়েও আমরা কাজ করছি। যাতে তারা স্পিন বিভাগ ও পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারে। আমরা এখানে মূলত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সব স্পিনারের অ্যাকশন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, বর্জ্য এখন সংকটের বিষয় নয়, বরং এটি বর্তমানে একটি বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরে ডুমুরিয়ার শলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তবে, এটি পরিচালনার দায়িত্ব যদি প্রাইভেট সেক্টরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে কিনা সে বিষয়টি ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। যদি তারা সক্ষম না হয়, তাহলে কিভাবে এটি পরিচালনা করা সম্ভব হবে, সে জন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও সভা আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার পেশাদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় কেসিসি ও এসএনভি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করেছে।
গত ১৮ জুলাই কেসিসি ও এসএনভি’র মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে পাইলট কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, পাইলট প্রকল্প সফল হলে ৩১টি ওয়ার্ডে আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
একমুখী কাজ থেকে বের হয়ে সম্মিলিতভাবে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখী কাজ করতে পারলে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় প্রশাসক উল্লেখ করেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কঞ্জারভেন্সী বিভাগের কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। সঞ্চালনা করেন এসএনভি’র কাস্টার কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পটি খুলনাসহ ৪টি সিটি কর্পোরেশন ও ৮টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ও সংশ্লিষ্ট নগর পরিসেবার নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও স্থায়িত্ব উন্নয়নের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল, যা সবসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। একাত্তরেও জামায়াতে ইসলামী ছিল সিদ্ধান্তহীনতায়। জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবে নাকি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে? একাত্তরে জামায়াতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল ছিল। পরবর্তীতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জু স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী মুখে শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা আসলে মুনাফেকি রাজনীতি করে।
রাশেদ খান বলেন, দুইটি ইসলামিক দলের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতাদর্শিক পার্থক্যের কারণে তারা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা যে বিষয়টি বলেছেন, তাদের বলা হয়েছিল সব ইসলামিক ভোট একটি বাক্সে যাবে; কিন্তু পরবর্তীতে তাদের চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে, যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিপরীত মন্তব্যের সাথে সম্পর্কিত।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত আমির সাহেব আসলে একটি রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন এবং তার এই সমালোচনাকে তিনি সাধুবাদ জানান। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী যদি সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করত, তবে সেটিকেও সাধুবাদ জানানো হতো। জামায়াত একদিকে জাতীয় সংসদে বলছে জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট এবং সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে এই সংকট সমাধানে কাজ করছে, অন্যদিকে তারা লংমার্চ করছে। জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। এই লংমার্চের আসল উদ্দেশ্য কী? কেন মাত্র সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে চরম কর্মসূচি?
তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, বাংলাদেশের আশপাশের রাষ্ট্রগুলোতে যদি ডিজেলসহ অন্যান্য তেলের দাম বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় না করে, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১ হাজার গাড়ি নিয়ে রংপুরে যাওয়ার অর্থ কী? এর মানে হচ্ছে, এই জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করা। নতুন কূপ খনন, গ্যাসের সন্ধান এবং নতুন টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে।
আগের তুলনায় লোডশেডিং এখন কম। দিন যত যাবে, জ্বালানি সংকট তত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ