০৪:২৪ পি.এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এর বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী এআই চিপ এখন যুদ্ধক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ঘাতক রোবট’ ইতোমধ্যেই বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
নিউইয়র্ক থেকে জাতিসংঘ জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্রথম ‘জাতিসংঘ গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য এআই প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি হতে হবে ‘বৈশ্বিক আস্থার উপযোগী’। যেখানে নিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে, যাতে তারা ডিজিটাল কারসাজি ও অপব্যবহার থেকে সুরক্ষিত থাকে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকও একই আহ্বান জানিয়ে বলেন, এআইয়ের ‘অশুভ’ দিক মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডিপফেক কনটেন্টের ৯৯ শতাংশই যৌন প্রকৃতির এবং এর ৯৬ শতাংশ নারী ও কিশোরীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।
গুতেরেস বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব এআই ডেটা সেন্টারকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এআই ‘আমাদের সবার ভবিষ্যতের কেন্দ্রবিন্দুতে’ অবস্থান করছে। তবে এমন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে ‘যন্ত্র তথ্য দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে এবং জবাবদিহি করবে মানুষ।’
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৭ সালেই তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। এরপর গত তিন বছরে এআই অর্থনীতি ও সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ভাবেই।
এই প্রেক্ষাপটে এআই নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সোমবার জেনেভায় প্রথম ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’ আয়োজন করে। এতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিল্পীরাও অংশ নেন। পরবর্তী বৈশ্বিক সংলাপ ২০২৭ সালের মে মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ দূত আমানদীপ সিং গিল বলেন, ‘এআই এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি কয়েকজনের হাতে গড়ে ওঠা উচিত নয়। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।’
এআইবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োশুয়া বেনজিও বলেন, প্রযুক্তিটির উন্নয়নের গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অত্যাধুনিক এআই মডেল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে এবং কখন তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটিও বুঝতে সক্ষম।
তার ভাষায়, ‘এটি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও এটি বাস্তব সম্ভাবনা। এটি এমনভাবে বিশ্বকে বদলে দিতে পারে, যার পরিণতি আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।’
সূত্র: এএফপি
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন