সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণের জন্য সরকার একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় একনেকের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মেট্রোরেল করিডোরটি ঢাকার এক প্রান্তের গাবতলী থেকে শুরু হয়ে অন্য প্রান্তের দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। মাঝপথে ট্রেনটি টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টকে যুক্ত করবে।
ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমমুখী যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি, এই লাইনটি এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন) এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গেও সরাসরি ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা নিশ্চিত করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে এবং বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে আসবে।
প্রকল্পটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, সাউদার্ন রুটের প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কয়েক দফায় ব্যয় ও নকশা পর্যালোচনার পর প্রকল্পটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই লাইনটি সম্পূর্ণ চালু হলে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে এবং ঢাকার দুই প্রান্তের যাত্রীরা দ্রুত ও সুশৃঙ্খল যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) প্রথমবারের মতো সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করেছে ভোলা-ঢাকা নৌরুটে। ভোলার ইলিশা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত যাত্রার জন্য সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সার্ভিসের ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি কমবে।
রাজধানীর সঙ্গে দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার যোগাযোগ সহজতর করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামাল নামে ফেরি দুটির উদ্বোধন করেন।
পূর্বে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুট ব্যবহার করে রাজধানীতে পৌঁছাতে যানবাহনগুলোর সময় লাগত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। শুষ্ক মৌসুমে এই সময় বেড়ে যেত দুই থেকে তিন গুণ। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা বলছেন, ইলিশা-কাঁচপুর রুট চালু হওয়ায় তাদের সময় ও খরচ দুটিই কমবে।
বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাওছার আহাম্মেদ খান বলেন, ‘এখন আপাতত ১৪টা ট্রাক এবং ৫-৭টা ছোট গাড়ি আমরা পারাপার করছি। কাঁচপুরে হওয়ার সুবিধাটা হচ্ছে, ঢাকা শহরের দিনের বেলা কোনো ট্রাক ঢুকতে পারে না। যানজট তৈরি হয়, যে কারণে কাঁচপুরে হলে যেকোনো জায়গা পণ্য আনলোড করতে পারবে।’
এদিকে, ফেরির যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আরো বিস্তারিত আলোচনা করছি। সেবার মান কিভাবে বাড়ানো যায়, ফেরির সংখ্যা কিভাবে বাড়ানো যায়, কিভাবে শৃঙ্খলা আনা যায়, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা যায়, সে ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ এবং অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেপ্তার সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২) টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। তাদের বিয়ের বয়স ১৭ বছর।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে খাবার চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সুমন পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। এরপর রাত ১টার দিকে স্ত্রীর কক্ষে ঢুকে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর সুমন বাড়িতেই ছিলেন। পরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালাচ্ছিল। পরে ঢাকার দিকে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে শনিবার ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এর আগে স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছিলেন তিনি।
মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সুমন সরকারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্কের (সিজেডইএন) রিজিওনাল ক্লাস্টার মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে এই কর্মশালাভিত্তিক সভার আয়োজন করা হয়।
ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ) একাডেমি এবং সিজেন বাংলাদেশের সহায়তায় এই অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়। এতে রাবি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের গবেষণার অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং রিসার্চ কনসেপ্ট নোট তৈরিতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৭ ও ২৮ নভেম্বর ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (আইইউবি) অনুষ্ঠেয় ১১তম সিজেন নেটওয়ার্কিং কনফারেন্সে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল। তিনি সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, শর্ট-ফর্ম ভিডিওর ব্যবহার ও ভুল তথ্যের মতো বিষয়গুলোকে সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) উপ-উপাচার্য ও সিজেন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. জুড ডব্লিউ আর জেনিলো। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রাবিতে ‘রাজশাহী ডিক্লারেশন’-এর মধ্য দিয়ে সিজেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ গবেষণা বাড়ানোই এ নেটওয়ার্কের লক্ষ্য।
সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিহুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইয়ুম। তারা অ্যাবস্ট্রাক্ট লেখার কাঠামো, শব্দ সীমা ও গবেষণার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরে শিক্ষার্থীদের ২৫০ শব্দের অ্যাবস্ট্রাক্ট লেখার অনুশীলন করানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক আমেনা খাতুন। বিকেল ৩টায় মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ