১০:৩৬ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা শুরু করবে ওয়াশিংটন।
একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে বেসামরিক অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।”
আরও পড়ুন: জামায়াতের বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ৩০ নেতাকর্মী
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সেই অধিকার রয়েছে বলে আমি মনে করি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে চলা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য কয়েক মাস ধরে কাজ করছে তার প্রশাসন।
তিনি বলেন, “আমি কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের এই চুক্তিতে সই করা উচিত। এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”
আরও পড়ুন: দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ
তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটা শুধু টালবাহানা আর টালবাহানা। তারা আসলে কী করছে, আমি জানি না।”
বেসামরিক অবকাঠামোও হতে পারে লক্ষ্যবস্তু। পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু কিংবা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কি না।
এ প্রশ্নের সরাসরি নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনও চুক্তিতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত হতাশ।
তিনি বলেন, “তারা শুধু সময় নিচ্ছে, আর বলছে-'ঠিক আছে, তাদের আরও কয়েক দিন সময় দেওয়া যাক।’ তারা সময়ক্ষেপণ করছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।”
আরও পড়ুন: সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত রিকশাচালক
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে হামলা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যদিও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
আরও পড়ুন: লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এক দিকে তিনি চুক্তির কথা বলছেন, অন্য দিকে নতুন সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নতুন করে হামলা শুরু করে এবং সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আরও কঠোর হতে পারে।
সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন