০৯:০১ পি.এম
দশমী আসলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর সময়। চার দিনের উৎসব শেষে আনন্দের সঙ্গে বিষাদের সুরও মিশে থাকে। সিঁদুর দিয়ে দেবীকে বরণ করে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানানো—এই প্রথায় প্রতিবছরই অংশগ্রহণ করেন কলকাতার অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। এবারের আয়োজনেও তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন না। ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মল্লিকবাড়ির দুর্গাপূজায় পরিবারের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেছেন তিনি।
মল্লিকবাড়ির দুর্গাপূজা মানেই পারিবারিক ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজনের নিয়ম মেনে দেবীকে বরণ করে বিদায় জানান পরিবারের সদস্যরা। দশমীতে দেবীবরণের পর বাড়ির নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। প্রতিবছরের মতো এবারও সেই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন কোয়েল।
এ বছর দশমীর সাজে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি ও লাল ব্লাউজ বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। মাথায় খোঁপা, সঙ্গে ছিমছাম সোনার গয়না—সব মিলিয়ে তিনি সাবেকি সাজে ধরা দিয়েছেন। সিঁদুর খেলায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায় তাকে।
আরও পড়ুন: বাপ্পারাজকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টে ওমর সানীর স্যালুট
তবে উৎসবের শেষ দিনে মন খারাপও কোয়েলকে ছুঁয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আজ যদিও মন খারাপের পালা। কিন্তু নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে বলব, আসছে বছর আবার হবে! শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সবাই ভালো ও আনন্দে থাকবেন। অন্যদেরও আনন্দে রাখবেন।”
পূজার প্রথম দিন থেকেই মল্লিকবাড়িতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন কোয়েল। প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। পূজার বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। স্বামী নিসপাল সিং রানে এবং দুই সন্তান কবীর ও কাব্যও তার সঙ্গে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক ও তার স্ত্রীও।
দশমীতেও দেখা গেছে সেই পরিচিত পারিবারিক আবহ। ঢাকের বাদ্যের মধ্যে দেবীকে সিঁদুর, পান-সুপারি ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর নারীরা একে অপরের কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর ছুঁইয়ে দেন। আনন্দের পাশাপাশি দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগও তাদের চোখেমুখে ধরা পড়ে।
কোয়েলের কাছে দুর্গাপূজা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং শিকড়ের টানও। অভিনয়ের ব্যস্ততা যতই থাকুক, পূজার দিনগুলো পরিবারের সঙ্গে কাটানো তার কাছে সবসময় বিশেষ। অঞ্জলি থেকে দেবীবরণ—মল্লিকবাড়ির নানা আচার-অনুষ্ঠানে পরিবারের ছোট-বড় সবার উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরো আপন করে তোলে।
আরও পড়ুন: ডি এ তায়েব: ‘সপ্তাহে ৪০ প্রেমের প্রস্তাব, ৪০ বছরে একটিও পাইনি’
এদিকে, নবমীর সন্ধ্যায় মল্লিকবাড়ির পূজায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি কোয়েলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন