ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ


নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’, যেখানে মেলে দেশের স্বাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রধান কেন্দ্র নিউইয়র্ক। তবে নিউইয়র্কের বাইরে দেশের বিভিন্ন শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কিছু স্থানে দেশি খাবারের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে, আবার কিছু স্থানে মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যবসা ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা বাংলাদেশিদের একটি স্বতন্ত্র পরিবেশ তৈরি করেছে।

এই এলাকাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ বলা না হলেও, বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতির জন্য অনেকেই এসব স্থানকে কথ্যভাবে ‘ছোট বাংলাদেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টন উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান

নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক। বিশেষ করে কন্যান্ট অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের দোকান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কন্যান্ট স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মসলা, সবজি, মাছ, মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টারের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডেট্রয়েট মেট্রো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাংলাদেশি জনসংখ্যার কেন্দ্রগুলোর একটি। ওই সময়ে সেখানে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া

লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা এই এলাকা ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্যও এখানে পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

পিউ রিসার্চের ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোতে প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকা

ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। শুধুমাত্র ওয়াশিংটন শহর নয়, বরং ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে।

এখানে সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনও গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

২০২১–২৩ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া

ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাতেও দীর্ঘদিনের বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

শহর ও আশপাশে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান, হালাল খাবারের ব্যবসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

আটলান্টা, জর্জিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি পরিচিত কেন্দ্র হলো আটলান্টা। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস ও বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এখানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও হালাল মাংসের দোকান রয়েছে। ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, আটলান্টা মেট্রোতে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, এই মেট্রো এলাকায় প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

ব্যবসা, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এখানে বাংলাদেশি খাবার ও দেশি পণ্যের ব্যবসাও গড়ে উঠেছে।

হিউস্টন, টেক্সাস

হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বিশেষত্ব হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও মুদিদোকানে মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ নানা পণ্য পাওয়া যায়।

২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, হিউস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ছিলেন।

মিয়ামি, ফ্লোরিডা

দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের হিসাব অনুযায়ী, এখানে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, হালাল খাবারের দোকান, মুদিদোকান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের কমিউনিটি ধরে রেখেছেন।

বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। ২০১৭–১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, বোস্টন মেট্রো এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করতেন।

জনসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবার ও সংগঠনগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি

নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত একটি কেন্দ্র। ২০১৭–১৯ সালের পিউ রিসার্চের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় এখানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।

এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

শুধু জনসংখ্যার দিক থেকে নয়, কমিউনিটির শক্তি বোঝার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তার বোঝার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জনসংখ্যার হিসাবই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশি ব্যবসা, মুদিদোকান, রেস্তোরাঁ, মসজিদ, ইসলামি শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক কোথায় গড়ে উঠেছে, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিউ রিসার্চের ২০২১–২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিও বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় কেন্দ্র।

অর্থাৎ নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশিরা নিজেদের খাবার, ভাষা, ধর্ম, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনকে ঘিরে আলাদা আলাদা কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এসব এলাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচিত খাবার, দেশি বাজার ও বাংলায় আড্ডার পরিবেশ খুঁজে পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


ধরলা সেতুতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কুড়িগ্রামে ধরলা সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের ধরলা সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাচিচর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে খালিদ (২১) এবং একই এলাকার আফছারের ছেলে ফারুক (২৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খালিদ ও ফারুক মোটরসাইকেলে করে শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তারা ধরলা সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি নৈশকোচ মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। বাসটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের প্রলোভনে ধ'র্ষ'ণে'র অভিযোগ, নাগেশ্বরীতে প্রবাসী যুবক কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


বিয়ের প্রলোভনে ধ

 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আল মামুন (২৮) নামে এক প্রবাসী যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মামলার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আল মামুন নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়গঞ্জ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর-৮।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আরিফা খাতুন (২৫) কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতেরছড়া (মুভিঘর) এলাকার বাসিন্দা। আল মামুন বিদেশে থাকাকালে ওই নারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তার সংসার নষ্ট ও সন্তানকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হলে স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য ওই নারীকে চাপ দেন আল মামুন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর বিয়ের কথা বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট রাতে আল মামুন ওই নারীকে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের আসকরনগর নিউ মার্কেট এলাকার আনিসুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে তিন থেকে চার দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ১৮ আগস্ট ভোরে আল মামুন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর ওই নারী যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই নারী নাগেশ্বরী থানায় মামলা করেন। পরে আল মামুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে তাকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাগেশ্বরী থানার এসআই (নিঃ) এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত আল মামুনকে জেলা হাজতে পাঠিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রমান সহ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ আমিনুল ইসলাম) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


প্রমান সহ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ

মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় হামলার দাবি, মাথায় ৪–৫ সেলাই; থানায় অভিযোগের পরও তদন্তে অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিমলাপাড়া এলাকায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতা করতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যক্তিকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে সেলিম তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগ করে মাদক বিক্রির কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হন সেলিম।

ভুক্তভোগী গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, পরবর্তীতে বাংলাবাজার এলাকায় তাকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে গোপালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাথায় চার থেকে পাঁচটি সেলাই দিতে হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে অভিযোগ করার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর অগ্রগতি তার চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এখানেই শেষ নয়—ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলার ঘটনার পর তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিমলাপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের কারণে কেউ যদি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

প্রশ্ন উঠছে—একজন ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও যদি তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকে, তাহলে একজন ভুক্তভোগী নিরাপত্তা চাইবে কার কাছে?

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগটি কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ মাদকের অভিযোগ হোক কিংবা হামলার অভিযোগ—অভিযুক্তের পরিচয় নয়, প্রমাণই হওয়া উচিত আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বেচ্ছাসেব ক দলের সাখাওয়াত ইসলাম রানার চাঁদাবাজির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


স্বেচ্ছাসেব ক দলের সাখাওয়াত ইসলাম রানার চাঁদাবাজির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

গতকাল ১৭ ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪, নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া শহীদ মিনারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে, যে চাঁদাবাজির অপবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাহার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, যাহা ভিত্তিহীন এবং তাকে হে পণ্য করার লক্ষ্যে এ কাজ করার হয়েছে বলে জানিয়েছেন,
নারায়ণগঞ্জে যেখানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ফুটপাত থেকে সকল প্রকার দোকানপাট উঠিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার প্রদান করেছেন, সেখানে তো আর নতুন করে দোকান বসিয়ে, চাঁদাবাজির প্রশ্নই উঠে না, শহীদ মিনারের যারা ব্যবসা করে আসছেন পূর্বে থেকেই তারা এখানে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করে আসছেন পুনরায় বসার কোন সুযোগই নেই ,কারণ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক সকল ফুটপাতের দোকানদারদের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা করার চেষ্টা করছেন ওখানে সকল উঠিয়ে নেওয়া হবে, তারপর স্বেচ্ছাসেবক দলের শাখাওয়াত ইসলাম রানা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সাথে হাত মিলিয়ে এ কাজ করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবত, তাই এটি একটি ভিত্তিহীন অপপ্রচার এ বিষয়ে নিন্দাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাখাওয়াত ইসলাম রানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%