১১:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মিশিয়ে এবং জেলি ও ভোজ্যতেল ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এই অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, একটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে এবং নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয় এবং ফরিদপুর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আজ শনিবার এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভলাকুট বিএনপির রাজনীতিতে এখনো আলোচনায় দুই সহোদর আয়ূব ও সোয়াব খান
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরিদপুর উপজেলায় ভেজাল ও নকল দুধ উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিকেল ৩টা থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আড়ালে নজরদারি শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সন্ধ্যার পর ভেজাল দুধ তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে উপজেলার পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়া এলাকায় শামীম হোসেনের প্রতিষ্ঠানে দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১০০ গ্রাম হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উদ্ধার করা হয়। ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে দুধে ভেজাল দেওয়ার অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, স্বপ্ন ডেইরি ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা জেলি ও ভোজ্যতেল ব্যবহার করে নকল দুধ উৎপাদনের চিত্র দেখতে পান। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ছদ্মবেশে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগে কারখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে জেলি, সয়াবিন তেল ও দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ব্লেন্ড মেশিন পাওয়া যায়।
এই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নকল দুধ উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে। অভিযানে জব্দ করা দুই ড্রাম জেলি ও এক ড্রাম পামওয়েল ধ্বংস করা হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আগমনী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়,
অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও জেলি জাতীয় পদার্থের মতো অননুমোদিত উপাদান মেশানো জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুধসহ যেকোনো খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো, নকল পণ্য উৎপাদন কিংবা নিম্নমানের খাদ্য বাজারজাতকরণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে জরিমানা, প্রতিষ্ঠান সিলগালা সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বা বাজারজাতকরণের তথ্য পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিকটস্থ কার্যালয় অথবা জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও স্বার্থ সুরক্ষায় ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে কাঁঠাল চাঁদপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন