ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অ্যানথ্রোপিকের ওপর পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞা বেআইনি: মার্কিন আদালত


অ্যানথ্রোপিকের ওপর পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞা বেআইনি: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেব্রুয়ারির নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। আদালতের এই রায় অনুযায়ী, পেন্টাগনের সমালোচনা করার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক রিটা লিন মন্তব্য করেন, “জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ফাঁকা যুক্তি দেখিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি বা প্রতিশোধ নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা পাওয়া যায় না।”

এএফপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক মামলায় বিবাদী হিসেবে থাকা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওই আদেশে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ এআই মডেল ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল।

আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন

বিচারক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দ্বারা অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তও বাতিল করেছেন। এই ধরনের মর্যাদা সাধারণত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো।

বৃহস্পতিবারের রায়টি মার্চে বিচারকের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ রয়েছে। তবে মার্কিন সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রাখে।

অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, “এই সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল, আদালতের এমন রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এআইকে কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার ওপরই আমরা মনোযোগ রাখছি, যাতে সব আমেরিকান এই প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারেন।”

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে

অ্যানথ্রোপিক মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘ক্লড’ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা বা আমেরিকান নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প অ্যানথ্রোপিকের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অ্যানথ্রোপিক-কে ‘চরম বামপন্থী’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে আখ্যা দেন।

বিচারক বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেন, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ছিল কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা নয়। বরং সরকারের সমালোচনা করায় প্রতিষ্ঠানটির 'ঔদ্ধত্যের' জন্য দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন গোপনীয় ও স্পর্শকাতর ব্যবস্থায় ক্লড ব্যবহার করছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের সময়ও ক্লড ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সামরিক চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে পেন্টাগনের অন্যান্য ঠিকাদারকেও অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

তবে আদালতের এই রায় অ্যানথ্রোপিকের জন্য পুরোপুরি বিজয় নয়। একই দিনে পেন্টাগন আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালার ভিত্তিতে দেওয়া ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতে এ বিষয়ে মামলাটি চলছে এবং এপ্রিল মাসে ওই আদালতের বিচারক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

এ ছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি, বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বারবার সতর্ক করায় হোয়াইট হাউসও তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধান ওয়ারশের বক্তব্যের দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী, নজর ফেডপ্রধান ওয়ারশের বক্তব্যের দিকে

শুক্রবার এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের পূর্বে ঘটে। বিনিয়োগকারীরা তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সুদের হার সম্পর্কে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কোনো ইঙ্গিত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ নেই, যার ফলে সুদের হার নিয়ে বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এনভিডিয়ার শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবার অর্থনীতির দিকে নজর দিতে শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কখন বাড়াবে, আদৌ বাড়াবে কি না—এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত মাসের ফেড বৈঠকে কর্মকর্তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনজন কর্মকর্তা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও তা এখনও ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

দীর্ঘকাল ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার আশঙ্কা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সরকারের জন্য ঋণ নেওয়ার খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ও অর্থনীতিবিদদের বার্ষিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য থেকে নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।

তবে জুলাইয়ের ফেড বৈঠকের পর তাঁর সর্বশেষ বড় বক্তব্যটি ছিল বেশ অস্পষ্ট। এ কারণে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এবারও ওয়ারশ যদি ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে সরাসরি কোনো দিকনির্দেশনা না দেন, তাহলে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত উত্তর পেতে ব্যর্থ হতে পারেন।

কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস মন্তব্য করেন, ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ারশের এটি প্রথম বক্তব্য। তাঁর মতে, এ বক্তব্যটি এ বছরের বাকি সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হতে পারে। কারণ, এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য আপাতত সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমিয়েছে। ফলে ওয়ারশ এখনই সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণা না দিয়েও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ফেডের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইনেস আরও বলেন, ‘একটি কঠিন নীতিগত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়ারশ এই বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। টানা ষষ্ঠ বছর মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এদিকে, ফেডের কর্মকর্তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রয়োজন এখনো রয়েছে কি না এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগের দিনের বড় উত্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক পূর্বাভাসের কারণে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছিল। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অতিরিক্ত উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছিল।

এদিন টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, জাকার্তা ও তাইপের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। অন্যদিকে সিউল, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারে সূচক কমেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও তিনটি প্রধান শেয়ারসূচক বেড়েছিল। তবে এই উত্থান মূলত প্রযুক্তি খাতনির্ভর ছিল। ১১টি প্রধান খাতের মধ্যে শুধু প্রযুক্তি খাতই সেদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার তেলের দাম সামান্য কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই সেখানে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা এখনো কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আনতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান থেকে আসা ফ্লাইটের চাকায় অজ্ঞাত মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


জাপান থেকে আসা ফ্লাইটের চাকায় অজ্ঞাত মরদেহ

একটি বিমানের চাকার অংশে লুকিয়ে ভ্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এটি শুনতে অবাক লাগছে, সম্প্রতি এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। জাপানের টোকিও থেকে ছেড়ে আসা একটি ফ্লাইটের ‘হুইল ওয়েল’ বা চাকার খোপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক অজ্ঞাত মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে, ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ-২) অবতরণ করে। অবতরণের কিছু সময় পর, বিমানের চাকার খোপ খোলার দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মীরা সেখানে একটি সন্দেহজনক তীব্র দুর্গন্ধ পান এবং তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে জিন্স ও সাদা শার্ট পরিহিত ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২০-এর কোঠায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি, তিনি নারী নাকি পুরুষ এবং কোন দেশের নাগরিক। মরদেহের সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ফরেনসিক দল জানিয়েছে, মরদেহটি উদ্ধারের অন্তত ৭২ ঘণ্টারও (তিন দিন) বেশি সময় আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তার সঠিক পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোরদার তদন্ত চলছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


টঙ্গীতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার ১১

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে পুলিশ চারটি মামলার আসামি এবং ওয়ান্টভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি মিজান ওরফে ‘কুত্তা মিজান’ (৩৪)-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করে।

 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান। গ্রেপ্তার হওয়া মিজান হাজী মাজার এলাকার আতাব উদ্দিন ওরফে জানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে এক কেজি হেরোইন, দুই হাজার পাঁচশ পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই সাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘বিশেষ অভিযান-৮১’ চলাকালীন রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে টঙ্গী বাটা গেট সংলগ্ন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম গেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের ফলে মিজানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মিজানের বিরুদ্ধে পূর্বে ২টি মাদক মামলা, ১টি দ্রুত বিচার আইনের মামলা এবং ১টি অন্যান্য মামলাসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। একই অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরো ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এক কেজি হেরোইন যার মূল্য কোটি টাকা এবং ২৫০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে আরো ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলাগুলি দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলেছে। কানাডা তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এই জলভাগটি উত্তর আমেরিকার দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত, এবং ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কানাডাকে নিয়ে তার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকে আরও বাড়িয়েছে। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, "হ্রদটির নাম সবসময়ই লেক অন্টারিও থাকবে।"

দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এসেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে।

হোয়াইট হাউসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "অবিলম্বে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করা হবে।"

এএফপির এক সাংবাদিক জানতে চান, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বদলে একটি মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের জবাব ছিল, "কানাডার কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন। তারা বাজে মানুষ।"

ওভাল অফিসে ট্রাম্পের ডেস্কের পেছনে দুটি মানচিত্র ছিল। একটিতে হ্রদটির ওপর লাল অক্ষরে ‘লেক আমেরিকা’ লেখা ছিল। অন্যটির শিরোনাম ছিল, ‘মেকিং দ্য গ্রেট লেকস ইভেন গ্রেটার’।

কানাডার পাল্টা জবাব

আয়তনের দিক থেকে লেক অন্টারিও পাঁচটি গ্রেট লেকের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।

লেকটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেক্সিকো উপসাগরের নাম একতরফাভাবে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের মতো। ওই সিদ্ধান্তও মেক্সিকো প্রত্যাখ্যান করেছিল।

কার্নি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, "লেকটির নাম প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশ প্রতিষ্ঠারও আগের। নামটি একটি আদিবাসী শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘হ্রদটি সুন্দর, হ্রদটি বড়।’"

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্নি বলেন, "আমরা জানি, আমেরিকা পরিবর্তিত হচ্ছে।"

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কার্নির কঠোর অবস্থান কানাডায় প্রশংসিত হয়েছে।

কানাডার সবচেয়ে বড় শহর টরন্টো লেকটির উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত। সেখানে কানাডীয় ও মার্কিন নাগরিক—দুই দেশের মানুষই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

টরন্টোর পশ্চিমে কিচেনারে বসবাসকারী মার্ক উইকার বলেন, "এটাই ট্রাম্পের স্বভাব। তিনি একজন দাদাগিরি করা মানুষ, উসকানি দেন এবং বিরোধ বাধান।"

আলবার্টা প্রদেশ থেকে টরন্টোতে বেড়াতে আসা জেক মারচুক বলেন, "তিনি শুধু আমাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।"

নিউ জার্সির বাসিন্দা মেগান স্মিথ সরাসরি বলেন, "এতে তাকে শুধু বোকাই মনে হচ্ছে।"

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি ভৌগোলিক নামকরণ ব্যবস্থায় হ্রদটির নামের সব তথ্য পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সব দপ্তরকে হ্রদটির নাম ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে নাম পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, হ্রদটির সবচেয়ে গভীর অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অংশে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ‘হ্রদের পানির মোট আয়তনের বেশিরভাগের দাবি রাখে।’

ইরান যুদ্ধ ও দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার মধ্যে এবং নভেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই তিনি লেকটির নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছিলেন।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী মহাসাগরগুলোর নামও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, "আমাদের একটি উপসাগর আছে এবং একটি হ্রদ আছে। এখন আমাদের শুধু একটি মহাসাগর দরকার। তাই হয়তো আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নামও পরিবর্তন করতে হবে। হয়তো দুটোরই নাম বদলে দেব।"

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প তার বিভিন্ন অস্বাভাবিক ভূখণ্ডগত দাবির কারণে একের পর এক মিত্র দেশকে বিরক্ত করেছেন। এর মধ্যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার দাবিও রয়েছে।

এছাড়া ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপরও দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য করার কথাও বলেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালীকেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনো চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি এমন দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%