০৩:১১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেব্রুয়ারির নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। আদালতের এই রায় অনুযায়ী, পেন্টাগনের সমালোচনা করার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক রিটা লিন মন্তব্য করেন, “জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ফাঁকা যুক্তি দেখিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি বা প্রতিশোধ নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা পাওয়া যায় না।”
এএফপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক মামলায় বিবাদী হিসেবে থাকা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওই আদেশে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ এআই মডেল ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল।
আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন
বিচারক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দ্বারা অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তও বাতিল করেছেন। এই ধরনের মর্যাদা সাধারণত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো।
বৃহস্পতিবারের রায়টি মার্চে বিচারকের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ রয়েছে। তবে মার্কিন সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রাখে।
অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, “এই সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল, আদালতের এমন রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এআইকে কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার ওপরই আমরা মনোযোগ রাখছি, যাতে সব আমেরিকান এই প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারেন।”
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে
অ্যানথ্রোপিক মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘ক্লড’ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা বা আমেরিকান নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প অ্যানথ্রোপিকের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অ্যানথ্রোপিক-কে ‘চরম বামপন্থী’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে আখ্যা দেন।
বিচারক বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেন, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ছিল কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা নয়। বরং সরকারের সমালোচনা করায় প্রতিষ্ঠানটির 'ঔদ্ধত্যের' জন্য দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন গোপনীয় ও স্পর্শকাতর ব্যবস্থায় ক্লড ব্যবহার করছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের সময়ও ক্লড ব্যবহার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?
মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সামরিক চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে পেন্টাগনের অন্যান্য ঠিকাদারকেও অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে আদালতের এই রায় অ্যানথ্রোপিকের জন্য পুরোপুরি বিজয় নয়। একই দিনে পেন্টাগন আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালার ভিত্তিতে দেওয়া ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতে এ বিষয়ে মামলাটি চলছে এবং এপ্রিল মাসে ওই আদালতের বিচারক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি, বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বারবার সতর্ক করায় হোয়াইট হাউসও তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন