ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশের নতুন রূপ: আবু সাঈদ-মুগ্ধের কথা বললেন ইউজিসি সচিব


বাংলাদেশের নতুন রূপ: আবু সাঈদ-মুগ্ধের কথা বললেন ইউজিসি সচিব

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "এটা আবু সাঈদ-মুগ্ধের বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের পঙ্কিলতা থাকবে না, কোনো জটিলতা থাকবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।"

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের হিট প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা: সচেতনতা, গবেষণা ও পেশাগত সহায়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ইউজিসি সচিব আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে আলোচনায় সাধারণত অবকাঠামো, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, গবেষণাগার, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থাও উচ্চশিক্ষার মানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানসিক সুস্থতা না থাকলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার আগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মৌলিক এআই কোর্সের সুখবর

তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা, একাকিত্ব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগে, তাহলে তার হাতে আধুনিক গবেষণাগার বা উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং, মানসিক সুস্থতাকে শিক্ষার বাইরের কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি।

ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল, সিজিপিএ, গবেষণা, পারিবারিক প্রত্যাশা, আবাসন সমস্যা, চাকরির অনিশ্চয়তা ও সামাজিক তুলনা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা এবং সব সময় অনলাইনে যুক্ত থাকার প্রবণতা।

তিনি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানসিক চাপে থাকা দুর্বলতার পরিচয় নয়। পরামর্শদাতার কাছে গেলে কেউ মানসিকভাবে দুর্বল, এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন সংকোচ ছাড়াই নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা মূল্যায়নে মানসিক সুস্থতা সূচক চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সম্মতি ও নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনার সময় এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ১৬৯০ ইবতেদায়ি শিক্ষকের অনুদান ছাড়ের দাবি জানাল শিক্ষক কল্যাণ কমিটি

ইউজিসি সচিব শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাগত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার, গবেষণাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষার্থী পরামর্শকেন্দ্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা, চিকিৎসামনোবিজ্ঞানী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। গুরুতর মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে সরাসরি ও অনলাইনে পরামর্শ নিতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতার গোপনীয়তা রক্ষা, প্রয়োজনীয় পরবর্তী যোগাযোগ এবং বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতায় বন্ধুদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য বা শিক্ষকের কাছে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তারা প্রথমে বন্ধুর কাছে মনের কথা বলতে পারে। তাই ক্যাম্পাসে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ অন্যকে উপহাস করবে না; বরং বিপদে পড়লে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অন্তর্ভুক্তি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এছাড়া, পরিবারের ভূমিকা তুলে ধরে ইউজিসি সচিব বলেন, সন্তানের কাছ থেকে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রত্যাশা যেন তার ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি না করে। একজন শিক্ষার্থীর মূল্য শুধু তার সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তাকে ভালো ফল করার পাশাপাশি ভালো থাকার গুরুত্বও বোঝাতে হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহ বোর্ডের এসএসসি বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময় ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগের দক্ষতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিকশিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

মাদকাসক্তির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ প্রকল্পের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। প্রকল্পটির সফলতা নির্ভর করবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা এর কার্যক্রম থেকে কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁদের সচেতনতা কতটা বাড়ছে, তার ওপর।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। ভবিষ্যতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ ধরনের আরও প্রকল্প গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা নিয়ে ঢাবিতে সেমিনার ২২ নভেম্বর

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইউজিসি সচিব বলেন, "এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ, এটা মুগ্ধের বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের পঙ্কিলতা থাকবে না, কোনো জটিলতা থাকবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব।" মাদকমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মুগ্ধ চিকিৎসাকেন্দ্রের মনোবিজ্ঞানী মো. আবু তারেক। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ মেডিকেল সেন্টারে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


সংসদ মেডিকেল সেন্টারে ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়ন ও মানসম্মত করার জন্য একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি করতে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবা উন্নয়ন এবং সেবা বিষয়ে পরামর্শ ও তদারকিসংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সভাপতি ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।

এছাড়া, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা সরঞ্জামকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় একটি আধুনিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন এবং ইকো, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, ওপিজি, আরপিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি উন্নত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আশপাশের স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তাবও সভায় উত্থাপন করা হয়।

সভায় অতিরিক্ত সচিবসহ (এফ অ্যান্ড পিআর) সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ পি.এম


নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

 

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ এবং সাঁতার শেখার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের মুক্তারপাড়ায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ‘সচেতন নাগরিক, নেত্রকোনা’। এতে সহযোগিতা করে জেলা প্রশাসন, নেত্রকোনা।

কর্মসূচিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাঁতার শেখার গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলাশয়ের আশপাশে সতর্ক থাকা এবং পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেত্রকোনা জেলার গ্রামাঞ্চলে পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও নদীর আধিক্যের কারণে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি তাদের প্রতি বড়দের সার্বক্ষণিক নজরদারি, জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাঁতার শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও সাঁতার শেখার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে সরকারি প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


বরিশালে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক অভিযান, নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কান্তি শর্মা**


বরিশাল নগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) অলক কান্তি শর্মা।** তাঁর নেতৃত্বে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকস্মিক তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।


পুলিশের এ অভিযানে নগরীর ত্রিশ গোডাউন ও কেডিসি বস্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আকস্মিক এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করার কার্যক্রম চালানো হয়। বিশেষ আভিযানিক দল মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপরতা অব্যাহত রাখে।


বরিশাল নগরীতে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আকস্মিক অভিযান অপরাধ দমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় নয়, সমগ্র বরিশাল মহানগরীজুড়েই মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বরিশাল মহানগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের এ তৎপরতা চলবে।

শনিবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার বিশেষ আভিযানিক দলের এ অভিযান মহানগরজুড়ে চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রমেরই অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলগাছীর উপজেলা বাসীকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন( ওসি) হাবিবুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুলবুল আহম্মেদ বুলু বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


বদলগাছীর উপজেলা বাসীকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন( ওসি) হাবিবুর রহমান

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দূর্গা পূজা মানেই ঢাকের আওয়াজ, প্যান্ডেলের হৈহুল্লোড়, নতুন জামা-কাপড় ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে জমিয়ে আড্ডা এবং এরই সঙ্গে শুরু হয় একে-অপরকে শুভ কামনা ও ভালোবাসায় ভরা দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা। সমাজের অন্যায় অবিচার অশুভ ও অসুরশক্তির দমনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ পূজা হয়ে থাকে। আবহমানকাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা করে আসছে। দুর্গা পূজা উপলক্ষে জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে বদলগাছী উপজেলা বাসীকে শারদীয় দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান।

এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, দূর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাই যেন এ আনন্দ সমানভাগে ভাগাভাগি করে এই প্রত্যাশা আমার।

তিনি শুভেচ্ছা বার্তায় আরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এখানে সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে। কোথাও কোনো অপৃতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে প্রশাসন সব সময় কঠোর অবস্থানে আছেন এবং সচেতন মহলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সকলের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান।

বুলবুল আহম্মেদ ( বুলু)
বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%