ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যাচাই-বাছাই চলছে: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যাচাই-বাছাই চলছে: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রবিবার (২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এই তথ্য দেন। বৈঠকের সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনা হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশের পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি ও এ বিষয়ে কার্যকর এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী। উভয় পক্ষ সম্মত হয় যে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা এবং যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

এ বৈঠকে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগের বিষয়গুলো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উৎপাদন আরও বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস, সামনে নতুন কোটা নির্ধারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


উৎপাদন আরও বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস, সামনে নতুন কোটা নির্ধারণ

 মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এখনও ব্যাহত রয়েছে। তবে সৌদি আরব, রাশিয়াসহ ওপেক প্লাসভুক্ত সাতটি দেশ সেপ্টেম্বরের জন্য তেল উৎপাদন কোটা ফের বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সম্প্রসারিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট (ওপেক প্লাস) দৈনিক উৎপাদন ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওন মন্তব্য করেছেন, গত কয়েক মাস জুড়ে একই হারে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, চলমান উৎপাদন সমন্বয় কর্মসূচির অধীনে সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধি সম্ভবত শেষ ধাপ হিসেবে কাজ করবে।

এই তথ্যটি লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি সরবরাহ করেছে।

২০২২ সালের শেষ অংশ থেকে ২০২৩ সালের প্রথমের দিকে তেলের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ওপেক প্লাস তিনবার উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দৈনিক মোট উৎপাদন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে যায়।

পরে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া, ওমান এবং ১ মে জোট ছেড়ে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। তারা ২০২৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বরে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ওপেক প্লাসের ঘোষিত триটি উৎপাদন হ্রাস প্যাকেজের মধ্যে দ্বিতীয়টির প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই পা হারানো সত্তার খানের পাশে দাঁড়াল মানবিক সংগঠন সদরপুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস এম সাহান, ফরিদপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


দুই পা হারানো সত্তার খানের পাশে দাঁড়াল মানবিক সংগঠন সদরপুর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় দুই পা হারানো এক অসহায় ব্যক্তির স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সামাজিক সংগঠন মানবিক সংগঠন সদরপুর। সংগঠনটির উদ্যোগে পঙ্গু সত্তার খানের জন্য ‘মানবিক স্টোর’ নামে একটি চা ও মুদি দোকান স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সদরপুর উপজেলার নয়রশি নতুন বাজার এলাকায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দোকানটির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানবিক সংগঠন সদরপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সহযোগী উপদেষ্টা বিল্লাল হোসেন, সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সদরপুর উপজেলার চর ব্রাহ্মন্দী গ্রামের বাসিন্দা সত্তার খান একসময় কাঠের ফার্নিচারের ডিজাইনের কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পর্যায়ক্রমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী ও চার কন্যাকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার পরিবারের জীবিকা।

পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য সত্তার খান একটি ছোট চায়ের দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্য তিনি ঋণ বা হাওলাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে কিস্তিতে টাকা উত্তোলন করে দোকান করার চিন্তা করলে বিষয়টি মানবিক সংগঠন সদরপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির নজরে আসে। এরপর সংগঠনটি তার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চা ও মুদি দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সংগঠনের নেতারা জানান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই মানবিক সংগঠন সদরপুরের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সাত বছরে সংগঠনটি বহু অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানালেন উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


ইবিতে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানালেন উপাচার্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, খেলাধুলায় বহুবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী স্টেডিয়াম নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যের সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সুনাম রয়েছে, কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতাও বিদ্যমান। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাধুলায় সাফল্য থাকলেও স্থায়ী স্টেডিয়াম আজ পর্যন্ত গড়ে উঠেনি। তাই তিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতি, সংযোগ সড়কের দুরবস্থা এবং শিক্ষক সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আটটি বিভাগে মাত্র এক থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি শিক্ষক সংকট দূর করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান।

উপাচার্য আরও জানান, আমরা কোনো ধরনের আপস ছাড়াই সর্বোচ্চ যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। এটিই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এবং স্বাতন্ত্র্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন শিক্ষার্থীরাও এই সুনাম ধরে রাখবে এবং সাধারণ মানুষের করের টাকায় অর্জিত শিক্ষার মর্যাদা রক্ষা করবে।

উপাচার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভাষা দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হবে সহজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হবে সহজ

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথটি আরও সহজ হবে। এর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করা। এই নির্মাণকাজের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের সূত্র থেকে জানা গেছে, রাজধানীতে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের সভায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পকে নতুন অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই সভায় মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দুটি সেতু নির্মাণে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় পিপিপি মডেলে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতুর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। পিপিপি নীতিমালা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।

সেতু বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। নির্মাণ কাজ শেষে এটি হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু। এটি দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে বরিশাল স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে।

২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী ৩০ বছরে প্রকল্পটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেতুটি নির্মিত হলে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

সেতু বিভাগ ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, মিয়াগাওয়া এককভাবে অথবা অন্য কোনো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরবর্তী ধাপে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) আহ্বান করা হবে। মূল্যায়ন শেষে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরকার চুক্তি করবে।

বাংলাদেশে মিয়াগাওয়া এর স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেছেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু শুধুমাত্র একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।’

একই সভায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু প্রকল্পকেও বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের নতুন প্রকল্প হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার সড়কপথ প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে আসবে এবং ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপও হ্রাস পাবে।

বৈঠকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও উপস্থাপন করা হয়েছে। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির প্রতিও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সেতু বিভাগ মনে করছে, মেঘনা নদীর ওপর এ সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তন আসবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম বড় অবকাঠামো প্রকল্পে মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়ানো হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার বলেছেন, ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%