ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ


আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ।

দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে নতুন এই ঋণ কর্মসূচি শুরুর জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি অনুমোদনের পর দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে এখন আরও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং নতুন ও ধারাবাহিক সংস্কার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই অনুরোধ সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করবে এবং নতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

আইএমএফের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে, এটি নির্ভর করবে বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কর্মসূচিভিত্তিক শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতির উপর। এই জন্য আইএমএফের নীতিমালা অনুসারে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

আইভো ক্রিজনার বলেন, আইএমএফের কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন। এই সফরে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। পাশাপাশি অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সংস্কার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মূল্যায়ন করা হবে।

আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আরও জানান, সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে নতুন মিশন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে থাকবে আইএমএফ।

এর আগে, ২০২২ সালের ২৪ জুলাইয়ে জরুরি ভিত্তিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা ও বাজেট সহায়তার জন্য ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ঋণের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ঋণ কর্মসূচির আকার ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। সে হিসাবে এখনও ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

ঈদের আগে, ২১ মে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, নতুন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর। এই সময়কালে অগ্রাধিকার ভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ঋণ কর্মসূচির আকার হতে পারে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে রাশিয়ার অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে রাশিয়ার অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে রাশিয়া।

দেশটির পক্ষে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কিরিল লগভিনভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে এক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

বুধবার (৩ জুন) দেওয়া এই অভিনন্দন বার্তায় ড. খলিলুর রহমানের পেশাগত গুণাবলি এবং কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তার যোগ্য নেতৃত্বে একটি কার্যকর এবং সফল সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সম্পন্ন হবে বলে রাশিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

কিরিল লগভিনভ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে তার উচ্চ পেশাদারিত্ব এবং ব্যাপক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা আসন্ন সেশনে সাধারণ পরিষদের সফল ও দক্ষ কার্যকারিতার চাবিকাঠি হবে। আজ যখন বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর ওপর আস্থা গুরুতরভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য সাধারণ পরিষদের নির্বাচিত স্পিকারের আহ্বান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’

রুশ কর্মকর্তা আরও বলেন, সব সদস্যরাষ্ট্রের সহযোগিতা ও সমান অংশগ্রহণের নীতিতে সাধারণ সভার কাজ সংগঠিত করার যে অভিপ্রায় খলিলুর রহমান ব্যক্ত করেছেন, তাকে রাশিয়া ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সনদের নীতিগুলো নিঃশর্তভাবে মেনে চলার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বমঞ্চে এই সংস্থার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ভূমিকা শক্তিশালী করার মনোভাবকে রুশ পক্ষ সমর্থন করে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বাংলাদেশের বর্ধিত মনোযোগকেও স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হবু সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন কিরিল লগভিনভ।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক জয় লাভ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একটি গোপন ব্যালট নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকোরিসকে পরাজিত করেন। কাস্টিং হওয়া ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পান ৯৯টি ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাকোরিস পান ৯১টি ভোট। নির্বাচনে কোনো ভোট বাতিল হয়নি এবং কেউ ভোটদান থেকে বিরতও ছিলেন না।

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশন শুরু হলে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এর দুই সপ্তাহ পর বিশ্ব নেতারা বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনা সভায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমবেত হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ বিষয়ে আইন কী বলছে, জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


বাবা-মায়ের ভরণপোষণ বিষয়ে আইন কী বলছে, জেনে নিন

সন্তানের জন্য বাবারা-মায়েরা নিজেদের স্বপ্ন, সময় এবং সামর্থ্যের শেষটুকুও উজাড় করে দেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের জীবনেই দেখা দিতে পারে উল্টো চিত্র। যে মানুষগুলো একসময় সন্তানকে পথ চলতে শিখিয়েছেন, বার্ধক্যে সেই মানুষগুলো হয়ে পড়ে অবহেলিত। কেউ একাকী জীবনযাপন করেন, আবার কেউ সন্তানদের সঙ্গে থেকেও প্রয়োজনীয় যত্ন পান না। এমন বাস্তবতায় বাবা-মায়ের ভরণপোষণকে বাংলাদেশ শুধুমাত্র নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই নয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

এ কারণেই ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’। যদিও এই আইনটি কার্যকর রয়েছে, তবুও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অনেকের জন্য স্পষ্ট ধারণা নেই।

আইনের আওতাধীন, প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব হল তার মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। যদি একাধিক সন্তান থাকে, তাহলে সবাইকে পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং মা-বাবার শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতায়ও আইন গুরুত্ব দিয়েছে। সন্তানেরা নিয়মিত মা-বাবার খোঁজখবর রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং যথাযথ পরিচর্যার ব্যবস্থা করতেও বাধ্য থাকবে। আইন অনুযায়ী, মা-বাবাকে নিয়মিত সঙ্গ দিতে হবে, যা সন্তানের দায়িত্বের একটি অংশ।

বাবা-মাকে কি বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো যাবে?

অনেকের ধারণা, মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা করে দিলে তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আইন সে কথা বলছে না। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী, কোন সন্তান তার মা-বাবাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করতে পারবেন না। যদি মা-বাবা তা না চান, তবে তাঁদের আলাদা করাও যাবে না।

বিশেষ পরিস্থিতিতে, যখন কোন সন্তান বাস্তব কারণে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে অক্ষম হন, তখন সরকারি বা বেসরকারি পরিচালিত পরিচর্যাকেন্দ্রে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিধিমালার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

অনেক মা-বাবা সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করে আলাদা বাস করেন। সেক্ষেত্রে সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, মা-বাবা যদি আলাদাভাবে থাকেন তবে প্রত্যেক সন্তানকে তার আয় অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য দিতে হবে।

শুধু সন্তান নয়, সন্তানের স্ত্রী, সন্তান কিংবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, তবে তাঁদেরও আইনের আওতায় অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আইন না মানলে শাস্তির ব্যবস্থা

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমানিত হলে সন্তানের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। তবে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালত সাধারণত বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া অভিযোগ আমলে নেবে না।

যদি কোন সন্তান জীবিত না থাকে

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা’ প্রণয়ন করেছে। সেখানে উল্লেখ আছে, যদি কোন মা-বাবার জীবিত সন্তান না থাকে অথবা ভরণপোষণের মতো কেউ না থাকে, তাহলে পিতা-মাতা ভরণপোষণ কমিটি তাঁদের জন্য পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম।

অসহায় মা-বাবার সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান এবং দেশি-বিদেশি সহায়তায় একটি বিশেষ ভরণপোষণ তহবিল গঠনের কথাও বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

আইন শাস্তির ভয় জাগাতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা কিংবা দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারে না। তারপরও বাস্তবতা হলো, অনেক প্রবীণ মানুষ যখন নিজেদের সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলিত হন, তখন তাদের অধিকার রক্ষায় আইনের প্রয়োজন হয়। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশে রয়েছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরের লিচুর বাজার জমে উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


দিনাজপুরের লিচুর বাজার জমে উঠেছে

দেশের ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে বর্তমানে লিচুর বেচাকেনা পুরোদমে চলছে। জেলার বিভিন্ন বাগান ও বাজারে লিচুর বেদানা, মাদ্রাজি, চায়না-৩ এবং বোম্বাই জাতের ব্যাপক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা সরাসরি বাগান ও আড়ত থেকে লিচু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে একটি আনন্দের হাসি ফুটেছে। তবে পাইকারদের মতে, আগের বছরের তুলনায় এবারের লিচুর দাম কিছুটা কম হচ্ছে।

দিনাজপুরের কালিতলা, পুলহাট, সিকদারহাট, মহব্বতপুর, উলিপুর, মাসিমপুর ও আউলিয়াপুর এলাকার বাজারগুলোতে এখন লিচুর বেচাকেনা সীমাহীন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ঐসব এলাকা থেকে লিচু কিনে নিজ নিজ অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বাগানগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ, আঁটি তৈরি এবং পরিবহনের জন্য প্যাকেটজাত করার কাজ করছেন।

দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর শহরের কালিতলা নিউ মার্কেটে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি লেগেই থাকে। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচুর উপস্থিতি সর্বাধিক দেখা যাচ্ছে। বাজারে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় সড়কের পাশে সারি সারি ভ্যান ও ইজিবাইকে লিচু মজুত রাখা হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি হাজার মাদ্রাজি লিচু এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেদানা জাতের লিচুর দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা, চায়না-৩ জাতের লিচুর দাম সাত থেকে আট হাজার টাকা এবং বোম্বাই জাতের লিচুর দাম দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার সিকদার গ্রামের বাগান মালিক আকরাম আলী জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বাজারমূল্যও সন্তোষজনক এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাগান থেকেই সরাসরি লিচু বিক্রি হচ্ছে।

মহব্বতপুর এলাকার চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনছেন। সংগ্রহের পর সেগুলো যত্নসহকারে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

একজন ক্রেতা জানান, তিনি বেদানা লিচু শতপ্রতি ৫০০ টাকা এবং চায়না-৩ জাতের লিচু শতপ্রতি ৮০০ টাকায় কিনেছেন। গত বছর তিনি একই পরিমাণ লিচুর জন্য যথাক্রমে ৮০০ ও ১২০০ টাকা গুনতে হয়েছিল, ফলে এ বছরের দাম নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

এক আড়তদারের ভাষ্য, দিনাজপুরে উৎপাদিত মোট লিচুর প্রায় ৮০ শতাংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বাকি ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে বর্তমানে পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজার ৪১৮টি লিচুর বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বোম্বাই জাতের চাষ হয়েছে তিন হাজার ১৭০ হেক্টরে, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টরে, চায়না-৩ ৮০২ হেক্টরে, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টরে, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টরে এবং মোজাফফরপুরী এক হেক্টর জমিতে। এছাড়া জেলার বসতবাড়ি ও বাগান মিলিয়ে প্রায় সাত লাখ লিচুগাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক কারণে এ বছর ফলন কিছুটা কম হলেও লিচুর মান অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আকার, আকৃতি ও রঙের দিক থেকেও ফলগুলো আকর্ষণীয়। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাজার চাঙা হচ্ছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চাষিরা আরও ভালো দাম পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় হতাহত ৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় হতাহত ৬৪

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৭ জনের জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা আলজাজিরা জানায়, বুধবার ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হামলার পরপরই জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

কুয়েত সরকার হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তবে হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%