০২:৩৫ পি.এম
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং বাজারজাতকরণকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড আঞ্চলিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’ (উইকেয়ার) ফেস-১-এর আওতায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এই প্রকল্পের অধীনে জেলায় মোট ৭টি বাজার, প্রায় ৯২.৭৭ কিলোমিটার সড়ক এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জীবননগর উপজেলার ‘সিডব্লিউ-১০’ প্যাকেজের আওতায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক, ১টি সেতু, ৩৪টি কালভার্ট এবং ১টি গ্রোথ সেন্টার মার্কেটের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় উথলী আরঅ্যান্ডএইচ মোল্লাবাড়ী-আন্দুলবাড়ীয়া জিসি সড়কের ৬.৭৭ কিলোমিটার এবং বাঁকা আরঅ্যান্ডএইচ আন্দুলবাড়ীয়া জিসি সড়কের ৯.৭ কিলোমিটার সড়ক দৃশ্যমান রূপ পেয়েছে। পূর্বে যেখানে সড়কগুলো মাত্র ১০ ফুট প্রশস্ত ছিল, সেখানে তা ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কে উন্নীত করা হয়েছে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোড মার্কিং এবং আধুনিক আইল্যান্ড সংযোগ করা হয়েছে, যা যানবাহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করছে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে পানসি নৌকা বাইচ উৎসবের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম এ মুহিত
এদিকে, আন্দুলবাড়ীয়া গ্রোথ সেন্টার মার্কেটটিকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও পরিবেশবান্ধবভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে স্লটার হাউস (কসাইখানা), বর্জ্য ব্যবস্থার জন্য কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক টয়লেট, অফিস ভবন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ এবং সোলার লাইটিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্জ্য থেকে সার তৈরি, রাতের নিরাপত্তা এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জীবননগর উপজেলায় প্রায় ১.৯৮ লাখ মানুষের বসবাস, যেখানে কৃষক পরিবার রয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি। এই এলাকা ড্রাগন, পেয়ারা, মাল্টাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফলের বাণিজ্যিক চাষের জন্য সুপরিচিত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক বাজার কাঠামোর ফলে এসব কৃষিপণ্য ও মাছ দ্রুত আড়তে পৌঁছাতে পারছে, ফলে পরিবহন সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে।
চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজের সময় স্থানীয় শ্রমিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছে এবং আধুনিক বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এসেছে। অবকাঠামোর গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই সিডব্লিউ-১০ প্যাকেজটি একটি সমন্বিত রূপান্তর এনেছে। যোগাযোগ ও অবকাঠামোর এই সুফল পর্যায়ক্রমে আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়ে পুরো জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজশাহীতে অফিসিয়াল ক্যাপ ও টিশার্ট উপহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন