ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম


জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের ৫৯তম সরকারপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার প্রথম ভাষণে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবেলায় আগামীকাল (২১ জুলাই ২০২৬) থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

সোমবার (২০ জুলাই) ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রবেশ করে জনগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। বাকিংহাম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকতার পর, বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে বার্নহ্যাম, যিনি উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত, বলেন, ব্রিটেনের মানুষের মধ্যে পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন আশার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূরে রেখে দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এছাড়াও তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বার্নহ্যাম বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না; যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

তাঁর ভাষায়, জনগণের আস্থা অর্জনই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করবেন। তিনি গৃহহীনতা কমানো, আবাসন নির্মাণ, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

অন্যদিকে, দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়েন স্যার কিয়ার স্টারমার। বিদায়ি বক্তব্যে তিনি দেশ ও দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর লেবার পার্টিকে সরকারে ফিরিয়ে আনাকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাথে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে তাঁর সফলতা কামনা করেন।

বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে সেই নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ব্রিটেনের নেতৃত্বে এলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।

আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়, উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর দৃढ़ অবস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দাবিতে ধারাবাহিক ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। সেই সময় থেকেই, রাজনৈতিক মহলে তিনি 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় সরকারকে আরো ক্ষমতায়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ব্রিটেনের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়ন নিয়ে সোচ্চার এই নেতা, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে সেই দর্শন বাস্তবায়নের সুযোগ পেলেন। ফলে, তাঁর নেতৃত্বে লেবার সরকারের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে আরো কার্যকর ভূমিকা দেওয়ার উদ্যোগ জোরালো হতে পারে।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ও আরেকজনের দায়িত্ব গ্রহণ নয়; এটি নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন নেতৃত্বের সূচনা। এখন সকলের নজর থাকবে—উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের আস্থার প্রতীক 'কিং অব দ্য নর্থ' জাতীয় নেতৃত্বেও সেই আস্থা কতটা ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

আরও পড়ুন: সংস্কৃতিও যখন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার: শি চিনপিংয়ের সাংস্কৃতিক তত্ত্বের প্রভাব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুকুরেয়াকে ট্যাটুর প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিলেন দে লা ফুয়েন্তে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


কুকুরেয়াকে ট্যাটুর প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিলেন দে লা ফুয়েন্তে

স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মারক কুকুরেয়া অদ্ভুত এক বাজি ধরেছিলেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে। তিনি বলেছিলেন, যদি স্পেন বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তিনি নিজের গায়ে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখের ট্যাটু আঁকবেন। এমনকি তিনি ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথাও বলেছিলেন।

নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন মেসিদের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় লাভ করেছে। তাই ম্যাচ শেষে হাসি মুখে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, কুকুরেয়াকে তার কথা রাখতে হবে।

৬৫ বছর বয়সী দে লা ফুয়েন্তে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "ট্যাটু করানোর বয়স আমার নেই, তবে আমার খেলোয়াড়রা কথা দিয়ে কথা রাখে। আমি জানি তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। তারা একটা ভুল (প্রতিশ্রুতি) করে ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু তারা তা পালন করবে। আমি তো আর অতটা কুৎসিত নই।"

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ইউরো ২০২৪ এবং বিশ্বকাপ শিরোপাও জয় করেছে। কুকুরেয়া শরীরের কোন অংশে নিজের মুখ দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ হাসিমুখে বলেন, "শاید শরীরের এমন কোনো অংশে যেখানে তা বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে কোনো কথা দিলে তা রাখতেই হয়।"

এখন সমর্থকরা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন, মাঠের লড়াকু এই ডিফেন্ডার কবে নাগাদ কোচের দেওয়া মধুর শাস্তিটি মেনে নেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


ফাইনালে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকেরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় ফেটে পড়েছেন।

বুয়েনস আয়ার্স, আর্জেন্টিনা - ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের হতাহতের সংঘর্ষ ঘটেছে। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই হাজার হাজার সমর্থক শহরের ঐতিহ্যবাহী ওবেলিস্ক স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে একত্রিত হতে শুরু করেন। শহরের প্রতি তাদের উন্মাদনা সহিংসতায় রূপ নেয়। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

সমর্থকেরা একপর্যায়ে দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও কাচের বোতল ছুঁড়তে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ছাড়া রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এই যুক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, এক দাঙ্গা পুলিশ এক আন্দোলনকারীর মাথায় লাথি মারছেন।

এরপর, স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের পর মাঠের ভিতরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার কিছু ফুটবলার স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হন। তাদের স্প্যানিশদের দিকে ঘুসি ও লাথি মারতে দেখা যায়। এমনকি ট্রফি হস্তান্তরের সময় আলবিসেলেস্তেরা স্প্যানিশদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ ধরনের তিক্ত হারের পরও আর্জেন্টিনায় জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। কুসংস্কারের কারণে তিনি নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সশরীরে খেলা দেখতে যাননি। কিন্তু তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা যেদিন চাইবেন, সেদিনেই দেশে জাতীয় ছুটি থাকবে।

অন্যদিকে, বিশ্বজয়ী স্পেন এখনও আনুষ্ঠানিক ছুটির ঘোষণা দেয়নি, তবে সোমবার (২০ জুলাই) মাদ্রিদে একটি বিশাল বিজয় প্যারেডের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ উপস্থিত থেকে বিশ্বজয়ী দলটিকে সংবর্ধনা জানাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্যালিকাকে ২৭ দিন আটকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


শ্যালিকাকে ২৭ দিন আটকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর দুলাভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ির আমলি আদালতের পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) রাতে রামগড় থানা-পুলিশের উদ্যোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সাকিবুল ইসলাম রাজু (২৯)। তিনি রামগড় উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের লামকুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় বোনের স্বামী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সকাল পৌনে ৮টার সময়ে রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদরাসার সামনের এলাকা থেকে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। সেদিন ওই কিশোরী বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায়, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার মা রামগড় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার ২৭ দিন পর প্রযুক্তির সাহায্যে রোববার রামগড়ের সোনাইপুল বাজার এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, তার ভগ্নীপতি প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মাদরাসার সামনের এলাকা থেকে কৌশলে ঢাকার উত্তরায় নিয়ে যান। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি মোবাইল ফোনসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সকল যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ রাখেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগীর মায়ের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো যখন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ বিষয়টি জানান।

সাক্ষাতের শুরুর দিকে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তার দায়িত্ব গ্রহণ করায়।

এ ক্ষেত্রে তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে আগ্রহী এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। তিনি এ অর্জনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়া আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো স্বল্পসময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেন, শ্রমখাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা করে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন, এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। শ্রমখাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন।

এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রমখাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তর, জেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%