ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী


জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অকার্যকর করে রাখার ফলস্বরূপ দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার এই সংকট কাটিয়ে দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক উত্তরদান পর্বে প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার রূপরেখা উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে স্থায়ীভাবে নিরসন করে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পথসভা

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নতুন গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তুলতে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্যাক্ট)-এর আওতায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সামুদ্রিক এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ক্ষমতা আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে।

এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কিংবা পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হলেন জাহাঙ্গীর আলম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তা সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জনমনে আগ্রহ তৈরি ও এ খাতের দ্রুত প্রসারে ২০২৬ সালের ৮ জুন তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সব প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং অতিরিক্ত অগ্রীম আয়করসহ সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক মডেল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার স্থাপন করবেন, তাদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.১৫ টাকা দরে কিনে নেবে। বর্তমান গড়ে প্রতি ইউনিট ৬ থেকে ৭ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে এই বাল্ক রেট ও সরকারি প্রণোদনার ফলে উদ্যোক্তারা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম) নিট মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের অংশ হিসেবে সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সোলার প্যানেল বসাতে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রুফটপ সোলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। শুনানি শেষে, হাইকোর্ট ওই নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, আদালত নির্মাণকাজটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং সমুদ্র সৈকতকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।

বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন।

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর হাসান। সরকারের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবী রিজওয়ানা আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হলেও সেখানে চলমান নির্মাণকাজের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেই। একটি থোক ধরনের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাস্তা, মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উল্লেখ থাকলেও, কোন জায়গায় কোন রাস্তা নির্মাণ করা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরও আপত্তি জানিয়েছে। তারা যে কয়েকটি রাস্তা নির্মাণের কথা বলেছিল, তার মধ্যে চলমান রাস্তাটি রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কারণ ছাড়পত্রে রাস্তার স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আইনজীবী আরও জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাতিল ও নিষিদ্ধ করার নজির রয়েছে। এরপরও সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ থেকে ১০ দিন ধরে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি বুলডোজার দিয়ে সমান করার কাজ চলছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, বালিয়াড়ি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এ কাজ করা হচ্ছে। পরে জানা যায়, একটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বালিয়াড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA) সমর্থিত বলে আদালতকে জানানো হয়।

শুনানিতে সরকারপক্ষের বক্তব্য ছিল, উন্নয়নকাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তবে রিটের পক্ষে আইনজীবী মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে জাইকা সমর্থিত প্রকল্পের পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ স্থগিতের বিষয়ে হাইকোর্টের আগের আদেশের কথা আদালতের নজরে আনেন। ওই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের আপত্তি ছিল বলে তিনি জানান।

আইনজীবী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। বর্তমানে আবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সংরক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কাজ শুরু হয়েছে।

হাইকোর্টের রুলে বিদ্যমান আইন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া চলমান নির্মাণকাজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আট সপ্তাহের জন্য নির্মাণকাজ স্থগিতের আদেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় আটক হওয়া ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজুর ছেলে মো. নাফিউল (২৬), ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার মো. মিজানুর রহমানের ছেলে প্রান্ত (২২), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এস এম সিহাব (১৯) ও সবুজ প্রামানিকের ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৯), নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. তানবিন শেখ (২৬) এবং নামাজগড় ভান্ডারী মসজিদ এলাকার মো. লোকমান হাকিমের ছেলে মো. বিপ্লব সরদার (২৬)। নাফিউল ও প্রান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের পরে পুলিশ হেফাজতে থানায় নেওয়া হবে। মামলার ১ নম্বর আসামি ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মো. রনটির ছেলে মো. মনির (২৬) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালের ৭ম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে রাজাপুর গ্রামের মো. আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মালেকের মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।

অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, বার্মিজ চাকু ও লোহার রড ব্যবহার করে চিকিৎসকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারাত্মকভাবে আহত হন, যার মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ভেঙে যায় এবং আজরফ ইসলামসহ কয়েকজনের শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়।

 

হামলাকারীরা এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং তিনটি মোবাইল ফোন ও স্ট্রেথোস্কোপ চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের আটক করে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন ডাক্তার ও স্বজনদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন আরো ২ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিলে মামলা রুজু করা হয়।

 

গ্রেপ্তার দেখানো ৬ জন আসামিকে আজ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিপাকে নেতানিয়াহুর স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


বিপাকে নেতানিয়াহুর স্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর গোলানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা সম্পর্কে পূর্ব অবগত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বক্তব্যের পর ইয়াইর গোলান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, অভিযোগ করে যে সারা নেতানিয়াহু মিথ্যা ষড়যন্ত্র ছড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে, গোলান সারা নেতানিয়াহুকে হামাসের হামলায় বেঁচে যাওয়াদের সহায়তা তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দেওয়ার শর্তও রেখেছেন।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সারা নেতানিয়াহু প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ইয়াইর গোলান হামাসের আক্রমণের দিন সকালে দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছিলেন, যা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও অত দ্রুত জানতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন অন্যরা কিছু বুঝতে পারছিল না, তখন গোলানের এমন প্রস্তুতি রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সন্দেহজনক।

সারা নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে বামপন্থী ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ দলের নেতা ইয়াইর গোলান জানান, তিনি ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা করছেন। গোলান বলেন, হামলার দিন সকালে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা থেকে বেঁচে পালিয়ে আসা বহু মানুষকে উদ্ধার করেছিলেন, যা সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়া হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

৭ অক্টোবরের হামলা রোধে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও তদন্ত চলছে। এই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ প্রাণ হারান, যার মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের দর্শনার্থী।

সূত্র: আরটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়ি সীমান্তে নবনির্মিত রহমতপুর বিওপি উদ্বোধন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


ফটিকছড়ি সীমান্তে নবনির্মিত রহমতপুর বিওপি উদ্বোধন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রহমতপুর এলাকায় রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধীনস্থ নবনির্মিত ‘রহমতপুর বিওপি’ উদ্বোধন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিওপিটি উদ্বোধন করেন।

এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক মন্তব্য করেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এ এলাকায় বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরো সুসংহত হবে।

নতুন এই বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।

বিওপি উদ্বোধন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের আওতাধীন সব সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল বিজিবি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে বিজিবি মহাপরিচালক জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ বগাপাড়া বিওপি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের অধীনস্থ রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের দায়িত্ব ও সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি গুইমারা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডাররা, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহের অধিনায়ক এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%