ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ

দুদকের অনুমোদনে নঈম নিজামের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগ মানিলন্ডারিংয়ের


দুদকের অনুমোদনে নঈম নিজামের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগ মানিলন্ডারিংয়ের

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন প্রদান করেছে।

এই তথ্য বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হয়।

দুদক জানায়, নঈম নিজাম ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। পাশাপাশি, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

দুদকের অভিযোগ অনুসারে, এই অর্থ দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এবং মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

এছাড়া, নঈম নিজাম ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবরুদ্ধ করার আদেশ পেয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় জেলা জজের পদায়ন ঘিরে আইনজীবীদের হট্টগোল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


বগুড়ায় জেলা জজের পদায়ন ঘিরে আইনজীবীদের হট্টগোল

বগুড়ায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পদায়ন নিয়ে এজলাসে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, হট্টগোল এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক শুনানি স্থগিত করে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নতুন জেলা জজের পদায়ন বাতিল ও অপসারণের দাবিতে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির আদালত বর্জন কর্মসূচির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীরা জানান, বুধবার দুপুরে বিচারক মো. মনিরুজ্জামান এজলাসে প্রবেশ করলে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব একটি মামলার শুনানির জন্য আবেদন জানান। বিচারক তা মঞ্জুর করে শুনানি শেষ করেন। এরপর অন্য একজন আইনজীবী আরেকটি মামলার শুনানি করতে গেলে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম এসে বাধা দেন। এর ফলে আদালত বর্জনকারী আইনজীবী এবং বর্জনের বিপক্ষে থাকা সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে এজলাসে হট্টগোল শুরু হয় এবং বিচারক খাসকামরায় চলে যান।

এর আগে সকালে একই দাবিতে জেলা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে বার সমিতির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সেই বিউটি রানি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

আইনজীবীরা জানান, বিগত সরকারের আমলে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হলেও সম্প্রতি আবার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর প্রতিবাদে বার সমিতি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এজলাসের ঘটনার পর শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, তিন মাস ধরে বগুড়ায় জেলা জজ না থাকায় সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধান বিচারপতির অনুমতিতে সরকার নতুন জেলা জজ পাঠিয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে আমরা শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বার সমিতির সেক্রেটারি হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং সাধারণ আইনজীবীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। সরকার যাকে জিও দিয়ে পাঠিয়েছে, বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতেই আমরা শুনানিতে অংশ নিয়েছি।

অন্যদিকে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একজন অপরিপক্ব ও বিতর্কিত বিচারক। তার পদায়ন বাতিলের দাবিতে আমরা সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম এবং কোর্ট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। তিনি এসে এজলাসে বসলে আমরা সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিই। তবে কিছু আইনজীবী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি করে। বিতর্কিত এই বিচারক অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এর আগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলা বার সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও জিপি শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে বিগত দিনের আচরণ ও অসন্তোষের কারণেই আইনজীবীরা এই পদায়নের বিরোধিতা করছেন। অবিলম্বে তার পুনঃপদায়ন বাতিল না করা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ দফা দাবি, ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ পি.এম


প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ দফা দাবি, ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের আহ্বান

‘প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং বদলি নীতিমালা সহজ করা। সংগঠনটি আগামী পহেলা অক্টোবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক আসমা খানম সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থিত ছিলেন শাহীনুর আল আমীন, অজিত পাল, আনিসুর রহমান, শাহীনুর আক্তার, মো. মনিরুজ্জামান মনির ও তপন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক নেতারা।

বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা দেশের বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তি। শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়। দেশে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের পেশাগত উন্নয়ন, পদোন্নতি, বদলি এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা বিদ্যমান। বক্তারা দাবি করেন, প্রতি তিন বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি পে-স্কেলে বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর প্রয়োজন।

শিক্ষক নেতারা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণকে প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি পেশায় তুলনামূলকভাবে উচ্চ গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

তারা আরও জানান, ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। চাকরির আট ও ১৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সম্পন্ন করার পর নতুন শিক্ষকদের যোগদান এবং পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালুর দাবি জানানো হয়। পাঁচ বা তার কম পয়েন্টের বিদ্যালয় থেকে বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিলেরও দাবি করেন শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, জীবনমুখী, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করা, শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক শিফটে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা।

শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে আগামী পহেলা অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎দুই কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং ‎বৃষ্টির মধ্যে কাজ, প্রকৌশলীদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


‎দুই কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং ‎বৃষ্টির মধ্যে কাজ, প্রকৌশলীদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন; তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য কার্পেটিং করা সড়কে হাত দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। কোথাও কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলেও কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে। নির্মাণের এক দিনের মধ্যেই এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎তাদের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণেই সড়কটির এমন দশা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ চলাকালে নিয়মিত খোঁজখবর রাখলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা অনুপযুক্ত পরিবেশে কার্পেটিং করার সুযোগ থাকত না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
‎
‎উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় থেকে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৩৯৮ মিটার সড়কটির প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্প্রতি শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে আসার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
‎
‎স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তীতে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ/সংস্কার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
‎
‎বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিংয়ের অভিযোগ
‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচ ও কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে আসছে। স্থানীয়রা জানান, কাজ চলার সময় বৃষ্টিও হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ।
‎
‎এ সময় স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকন আল ইবনে মাহাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করেন।
‎
‎নিয়মিত তদারকি ছিল কি?
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকি ছিল না। তাদের দাবি, কাজের প্রতিটি ধাপে উপকরণের মান, স্তরের পুরুত্ব, মিশ্রণের অনুপাত এবং কার্পেটিংয়ের উপযুক্ততা যাচাই করা প্রয়োজন হলেও তা যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
‎
‎স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি থাকলে কাজের ক্রুটি নির্মাণের সময়ই শনাক্ত করে সংশোধনের সুযোগ ছিল। এখন কাজ শেষ হওয়ার পর কার্পেটিং উঠে আসায় পুরো প্রকল্পের মান নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
‎
‎“ইটখোয়া-বালু-পাথর ঠিকমতো দেওয়া হয়নি”
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটখোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। এ কারণে সামান্য চাপেই পিচ উঠে আসছে বলে তাদের দাবি।
‎
‎তারা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট যানবাহন চলাচল করলেই চাপ পড়ে যাচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কটি আরও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
‎
‎এলাকাবাসীর ক্ষোভ
‎স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, “পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কে কোনোভাবেই এমন হওয়ার কথা নয়। নির্মাণকাজের সময় আমরা প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজে আসেনি।”
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, “সড়কে প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, ট্রাক চলাচল শুরু হলে সড়কে কিছুই থাকবে না।”
‎
‎এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়ক যদি নির্মাণের পরপরই নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে কিছুদিন পর পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। এতে জনগণের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
‎
‎ঠিকাদারের বক্তব্য
‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেলে আমার কি করার আছে। কিছু বুঝার বাকি থাকলে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করুন।
‎
‎প্রকৌশল বিভাগের বক্তব্য
‎ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. যুবায়েত হোসেন বলেন, “সড়কের অনিয়মের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‎
‎এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ চলাকালে মান নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? নির্মাণের এক দিনের মধ্যেই যদি কার্পেটিং উঠে যায়, তাহলে প্রকল্পের অন্যান্য অংশের কাজের মানও কি পরীক্ষা করা হয়েছে?
‎
‎এলাকাবাসী সড়কটির পুরো অংশের কাজ কারিগরি পরীক্ষা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, কাজের পুরুত্ব ও প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎তাদের মতে, শুধু উঠে যাওয়া কার্পেটিং পুনরায় বিছিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কেন এমন হলো, কার তদারকিতে কাজ হয়েছে এবং সরকারি অর্থের বিনিময়ে প্রকল্পের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করা হয়েছে কি না সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
‎

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলাহাটে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


ভোলাহাটে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ ইফতে সোহা তমাল (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ভোলাহাট থানাধীন ৩নং দলদলী ইউনিয়নের নামো মুশরীভূজা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর একটি বিশেষ টিম সকাল ০৮:০০ টা থেকে ০৮:৫০ টা পর্যন্ত নামো মুশরীভূজা গ্রামস্থ এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে নামো মুশরীভূজা গ্রামের মৃত আব্দুস শুকুরের ছেলে মোঃ ইফতে সোহা তমালকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক (ডিডি) চৌধুরী ইমরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ডিএনসির উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে ভোলাহাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%