বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চার স্তরে জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা অংশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ১,২৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ।
প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সেচ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের পর ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ১,৭৭৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে চার স্তরের বলয় তৈরি করা হয়েছে। এক হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে যাওয়ার পথে কুমিল্লার অংশে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, রাস্তার দুই পাশে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল এবং গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবুও বরিশালবাসী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বর্তমানে চাহিদার ৪০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে, ২৪ ঘণ্টা ধরে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। পিডিবির বিতরণ কোম্পানি ‘ওজোপাডিকো’ এবং ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় সাড়ে আটশ’ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গত দুদিন ধরে ডে-পিক এবং নাইট-পিক আওয়ারে সাড়ে চারশ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি। তবে বরিশাল অঞ্চলের সব কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসচালিত উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রমতে, তাপমাত্রার পারদ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে গত দুদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস উপরে উঠে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার সাথে সরবরাহের বিশাল ফাঁকির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ এ অঞ্চলের সব জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সকল চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হামের জন্য নির্দিষ্ট আইসিইউগুলোর বেডেও রোগীরা দুঃসহ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এক শিফট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের শিকার হয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে। গরম এবং অন্ধকারে কোনো গ্রাহকই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে যেতে চাইছেন না। ফলে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই দিনের পর দিন লোকসান গুনছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, সে বিষয়ে ওজোপাডিকো এবং পিজিসিবিসহ আরইবি’র কোনো দায়িত্বশীল মহল কিছু বলতে পারছে না। তবে শীতকালে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আশা করছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরীনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মহানগর বিএনপির আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের পূর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরীন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম লিটু, সদস্য সিরাজুল হক মৃধা, দুলাল গাজী, সাঈদ খোকন, নুরুল ইসলাম পনির প্রমুখ। কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী টরকী বন্দর থেকে শুরু করে প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম খানের বাড়ির সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এসব কুকুর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন-রাত বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শিশু, নারী এবং বয়স্কদের চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কে চলাচলের সময় হঠাৎ করে কুকুরের দল তেড়ে আসায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। কখনো কখনো কুকুরের দল একে অপরকে ধাওয়া করতে গিয়ে পথচারীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত চললেও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে পৌর এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, এ সমস্যাটি দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের অভিযান চলাকালীন, মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাসেন্ট রায়কে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান এবং সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তাদের দুইজনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদলের গঠণতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধা অ্যাসেন্ট রায়ের বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, গত রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ জোবারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাসেন্ট রায়কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ