ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে স্থাপিত 'চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন' (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের শিল্প খাতে একটি নতুন এবং ঐতিহাসিক যুগের সূচনা ঘটেছে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও গণচীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগ এবং 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ববহ ভূমিকা পালন করবে।

আজ সোমবার, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

আরও পড়ুন: ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট: এসিল্যান্ডকে সিলেটে সংযুক্তি

অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই ধারাবাহিকতায় চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হবে।

তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদানে নিশ্চিৎ করতে খুব শিগগিরই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালু করবে। পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারে রয়েছে। তিনি চায়নিজ অংশীদারদের কাছে আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার আবেদন জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারা অঞ্চলের এই উর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমরা কেবলএকটি কোদাল মাটি তুলছি না বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলিসহ যুবক শামীম আটক

তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তি ও যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এ জি-টু-জি প্রকল্পের মাধ্যমে দু'দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আপনারা জানার জন্য বলছি, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এটা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে বিশাল প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। যা বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময় করবে।

ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত। এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।

তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যা টেকসই শিল্পায়নের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন

মন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সিইআইজেড-এর নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একসঙ্গে, বেজা-এর 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS)' ব্যবহার করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করবে, যা একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নির্মাণ করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষভাবে আনোয়ারা ও চট্টগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের একটি টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগুই। স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিইআইজিডি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ শুরু, আসবে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ শুরু, আসবে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার ‘সিইআইজেড’র নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‌‌‘সিইআইজেড’ একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) আশিক চৌধুরী।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট Li Changgui এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান Wang Benqian-ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সিইআইজেড’র ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন করা হয় এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সিইআইজেড’র নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই মন্তব্য করেন, আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল, যার সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন দায়িত্ব ও প্রত্যাশা। সিইআইজেড-এর নির্মাণ ও পরিচালনা এগিয়ে নিতে সিআরবিসি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দ্বিপাক্ষিক শিল্প সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার একটি মডেল জোন হিসেবে সিইআইজেড-কে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নে আমরা আরও বড় অবদান রাখতে চাই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ওয়েন মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নতুন ঐতিহাসিক সূচনালগ্নে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে, কৌশলগত সমন্বয় গভীর করতে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত। দুই দেশের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যকে উন্নয়নের বাস্তব সুফলে রূপ দিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সবার লক্ষ্য একটিই-বিনিয়োগ। দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি হবে বিনিয়োগ। চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আজকের অগ্রগতি তাই সরকারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং আমরা এ বিষয়ে আন্তরিক। আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিং শুধু নির্মাণকাজের সূচনা নয়; এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সেতুবন্ধনের ভিত্তি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি জোন গড়ে তুলতে চাই, যা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে, টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং ও দালিয়ান সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত একটি কারখানা স্থাপন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যায়। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন একটি প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা শুরুর কাজ ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বহু দশকের অভিজ্ঞতার তুলনায় এটি একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে সিইআইজেড প্রায় ৮০০ একর জমির উপর গড়ে উঠছে। জিটুজি উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত ১৭ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিইআইজেড বাস্তবায়নের জন্য গঠিত Bangladesh CEIZ Company Limited-এর সঙ্গে Development Agreement এবং Land Lease Agreement অনুমোদন করে। এ কোম্পানিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং China Road and Bridge Corporation ( CRBC) ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। বেজার অংশ হিসেবে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্য ইকুইটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ডেভেলপার তাদের অংশ নগদ মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করবে, যা জোনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।

সিইআইজেড-এ বিশ্বমানের শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস), ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৬০ টন প্রতিদিন ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের Preferential Buyer’s Credit (PBC) সুবিধার আওতায় প্রাপ্তির প্রস্তাব রয়েছে।

এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিইআইজেড-এ শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও জেটি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের সকল সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত হবে। ইতোমধ্যে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেজা, চট্টগ্রাম ওয়াসা (CWASA) এবং CRBC-এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনজুরি সমস্যা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দল নিয়ে আশাবাদী বাশার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


ইনজুরি সমস্যা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দল নিয়ে আশাবাদী বাশার

অস্ট্রেলিয়া সফরে আসন্ন প্রথম টেস্টের দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকলেও, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ঘোষিত দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানালেন, ইনজুরি সমস্যার পরেও প্রথম টেস্টের জন্য সেরা দল নির্বাচিত করা হয়েছে।

বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ইনজুরি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই, গতকাল বাশারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অনেক আগে থেকেই দল চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্বাচকদের ছিল। কারণ সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরমেন্সের ভিত্তিতে টেস্ট দলে কোন পরিবর্তন আনতে চাইছিলেন নির্বাচকরা। তবে শেষ মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ইনজুরির কারণে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

বাশার বলেন, ‘দ্রুত সুস্থ হয়ে কিছু খেলোয়াড় প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে, আমরা এই আশায় ছিলাম। কিন্তু সেটি আর হয়নি। ক্রিকেটের দুনিয়ায় সবসময় সেরা একাদশ পাওয়া যায় না। যারা ফিট ও খেলতে প্রস্তুত, তাদের মধ্যে থেকেই আমরা সেরা দল নির্বাচন করেছি। এই দল নিয়েই প্রথম টেস্টে আমরা সাফল্যের আশা করছি।’

উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলিকে দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নির্বাচক জানান, বাজে পারফরমন্সের কারণে জাকেরকে বাদ দেওয়া হয়নি। মূলত ঘরোয়া এবং হাই পারফরমেন্স ম্যাচ খেলে তাকে ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

বাশার বলেন, ‘আমরা যা আশা করেছিলাম, সে ঠিক তেমনই পারফরমেন্স করে প্রমাণ করেছে, সে আবারো দলে ফেরার জন্য প্রস্তুত। এজন্যই আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল জাকের।’

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার সফরের দলে সুযোগ না পেলেও, ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন রয়েছেন।

লিটন দাসের সর্বশেষ অবস্থার বিষয়ে বাশার জানান, প্রাথমিক স্ক্যানে লিটনের বড় কোনো আঘাত ধরা পড়েনি। তবে সিঙ্গাপুরে পরবর্তী মেডিকেল রিপোর্টে ফোলা ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থার কারণে, মাঠে ফেরার জন্য লিটনকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের হারের জন্য ব্যাটিং ইউনিটকেই দায়ী করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য আমরা ম্যাচ হারিয়েছি। প্রথম ইনিংসে যদি ৩শ’র অধিক রান করতে পারতাম, ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতো। আমাদের বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞ টেস্ট বোলাররা ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।’

অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য দলের ব্যাটারদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক বাশার জানান, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরিবর্তে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা সবসময় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চেষ্টা করে। অসিরা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ নিতে থাকে। আমাদের ব্যাটাররা যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলতে পারে, তাহলে এই কৌশলটি আমাদের জন্য কার্যকর হতে পারে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছিল মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ের। দুই ইনিংসে যথাক্রমে তিনি ৩ ও ৯ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে হৃদয়ের সুযোগ হয়নি। প্রধান নির্বাচক জানান, হৃদয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ একাদশে তার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেললে, সেটি হৃদয়ের জন্য ভালো হবে।

অস্ট্রেলিয়া সফরে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন পেসার মুশফিক হাসান। এ বিষয়ে বাশার জানান, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। কারণ সেখানকার উইকেটে তার গতি এবং লাইন লেন্থ অনেক বেশি কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপটি এখন অবস্থান করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা উপকূলের কাছে, যা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী। এর ফলশ্রুতিতে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে উপস্থিত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, মৌসুমী নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের মধ্যে ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে উপস্থিত রয়েছে, যার অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ-উড়িশ্যা উপকূলের নিকট (২১.২০ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮.১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)।

নিম্নচাপটির অবস্থান গণনা করা হয়েছে, সোমবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে।

সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে দেশের চার সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে, বর্তমান সরকার সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করেন, এবং এই প্রকল্পের উদ্বোধন তারই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের উদ্বোধনের চেষ্টা চললেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও উল্লেখ করেছেন, প্রায় দুই বছর আগে থেকেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%