ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিরাজগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে সরকারি স্কুল


সিরাজগঞ্জে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে সরকারি স্কুল

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

গত ২০ জুন দুপুরে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার, ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার এবং ১৭ এপ্রিল রাতে কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় দুটি স্থানে বেশকিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এটি নদী পাড়ের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান যে, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙন রোধের জন্য তারা বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা নদী বেষ্টিত, যেখানে কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলা যমুনা নদী দ্বারা ঘেরা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। এই ভাঙনের জন্য বালু উত্তোলনকে দায়ী করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুম এবং বর্ষা মৌসুম দু'তেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আকস্মিক এই ভাঙনের কারণে নদী পাড়ের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে গত ৮ জুন থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়াতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় তিন সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ছয় সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখানো হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া জানান, কাওয়াকোলা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে নদীভাঙনের তীব্রতা খুব বেড়ে গেছে। বসতবাড়ি, ফসলিজমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চরের ছেলেমেয়েদের জন্য পড়াশোনা করার একমাত্র মাধ্যম বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে (মুজিব কিল্লা) অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা অফিস ও ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান জানাচ্ছেন, স্কুলটিকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখন স্কুলটি নদীর মধ্যে হেলে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তারা প্রায় চার লাখ টাকায় স্কুলটিকে নিলামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু যেভাবে ভাঙছে, আশ্রয় প্রকল্পটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলছেন, পানি বাড়ার কারণে কিছু কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তারা জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে পিআইবি'র মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিং জনজীবনকে চরমভাবে বিধ্বস্ত করে তুলেছে। প্রচণ্ড গরমে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

এখানে দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় মানুষ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গাতেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। এর ফলে লেখাপড়া, চিকিৎসাসেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম অসুবিধা হচ্ছে।

বিশ্বাস করা যাচ্ছে না যে, শিবচর পৌর এলাকায় লোডশেডিং প্রতি এক থেকে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে হলেও, গ্রামের অঞ্চলের অবস্থা ভয়াবহ। বহু সময় বিদ্যুৎ নেই। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, আবার কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে।

এ সমস্যার কারণে গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শুধু আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নন, জীবনযাপনে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও অফিসে কর্ম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট। এই কারণে এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরের ঘণ্টায় অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "এভাবে আর কতদিন চলবে?" অত্যধিক গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, "আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, তবে প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না।" স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক জানান, "রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না, তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়।" তাঁর মতে, আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, কিন্তু এখন ৩০০ টাকাও হয় না।

এ পরিস্থিতির কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সহ রোগীরা কষ্টে ভুগছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া জানান, "হাসপাতালে আইছি সুস্থ হইতে, কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গরমে মনে হয় দমই বন্ধ হইয়া যাইব।"

শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, "শিবচরে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।" তিনি আরও জানান, "আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপার কম্পিউটার জানালো ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের ফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


সুপার কম্পিউটার জানালো ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের ফল

ব্রাজিল এবং জাপানের মধ্যে ম্যাচের ফল জানিয়েছে সুপার কম্পিউটার।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে এবার নকআউটের হাইভোল্টেজ মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার ‘পাওয়ারহাউজ’ জাপান।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোয় ওঠার এই লড়াইয়ে যে দলই জিতবে, তারা মুখোমুখি হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্টের।

কাগজে-কলমে এবং মাঠের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ম্যাচের আগে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সাম্বার দেশ ব্রাজিল। ফুটবলভিত্তিক ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘অপটা সুপার কম্পিউটার’-এর ২৫ হাজার সিমুলেশনের ফলও বলছে সে কথাই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা যেখানে ৫৭.৩ শতাংশ, সেখানে জাপানের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১৯.৭ শতাংশ। বাকি ২৩ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর।

টুর্নামেন্টের শুরুটা কিছুটা খাপছাড়া হলেও ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরছে কার্লো আনচেলত্তির দল। গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রেখেছে তারা। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেলেসাওদের।

হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে টানা ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রয়েছে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের উত্তরসূরিরা।

প্রথম ম্যাচে গোল খাওয়ার পর থেকে টানা সাত গোল করেছে ব্রাজিল, বিপরীতে হজম করেনি একটিও। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করার এমন ধারাবাহিকতা এবারই প্রথম দেখাল লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

এদিকে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষে। এখন পর্যন্ত ১৪ বারের দেখায় ১১ বারই শেষ হাসি হেসেছে ব্রাজিল, ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। জাপানের জয় মাত্র একটিতে।

তবে সামুরাই ব্লুজদের সেই একমাত্র জয়টি এসেছিল দল দুটির সর্বশেষ দেখায়, যা ব্রাজিলের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।

গত অক্টোবরে টোকিওতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচটি হেরে বসে ব্রাজিল। জাপানের হয়ে সেই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আয়াসে উয়েদা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে ২০০৬ সালে ৪-১ ব্যবধানের দাপুটে জয় পেয়েছিল ব্রাজিলই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালের মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


সকালের মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

দেশের ৯ জেলায় সকালে ৯টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব এলাকায় নদীবন্দরসমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর জন্য বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিত অংশ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং অন্য কয়েকটি বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গার পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিক থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাগড়াছড়ি আবারও উপ্তপ্ত হয়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ এম


খাগড়াছড়ি আবারও উপ্তপ্ত হয়ে উঠছে

 

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাজনৈতিক দলের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই আবারও উপ্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত তিন দিনে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, রামগড়, মাটিরাঙ্গা ও গুইমারায় আঞ্চলিক দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছে। পৃথক অভিযানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ইউপিডিএফের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দুর্গম হাফছড়ি ইউনিয়নের পাইনংপাড়া এলাকায় জেএসএসের (এমএনলারমা) সঙ্গে ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। দুপক্ষের গুলিগুলির খবর পাওয়ার পর সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোনের টহলদল তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইউপিডিএফের গুইমারা উপজেলার সংগঠক সুজেন্দ্র চাকমা, যিনি ঝিমিত চাকমা নামে পরিচিত, তাকে আটক করে।

আটকের পর আহত ঝিমিত চাকমাকে দ্রুত মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুইমারা থানা পুলিশের ওসি সোহরাওয়ার্দী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাইনংপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ। সেখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষ জেএসএসের মধ্যে শনিবার সকালে এর গুলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গুইমারা থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, চিকিৎসা শেষে ঝিমিত চাকমাকে থানায় আনা হয়েছে। লক্ষ্মীছড়ির গুইছড়ি গ্রামের আনন্দ কুমার চাকমার ছেলে সুজেন্দ্র চাকমা, যিনি ঝিমিত চাকমা নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে এবং দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

গুইমারা থানার ওসি জানিয়েছেন, ঝিমিত চাকমার নেতৃত্বে গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। অন্যদিকে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঝিমিত চাকমাকে সংগঠনটির গুইমারা উপজেলা সংগঠক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ মারমা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঠেংরে বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ করেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা ও গুইমারায় উপজেলায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ইউপিডিএফের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে পৃথক ঘটনায় রামগড় ও দীঘিনালায় সংগঠনটির দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ আর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই সময় তারা সংঘাতের মাত্রাই বৃদ্ধি করেনি, বরং অস্ত্রের আধুনিকায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এতে পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে একটি নতুন সংকটের মুখে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত এক বছরে খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আঞ্চলিক দলের মধ্যে অন্তত ২৮টি সশস্ত্র সংঘর্ষ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাতে পাহাড়ি দলগুলোর সশস্ত্র ক্যাডার, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫ জনেরও বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%