০৩:১৯ এম
যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
গত ২০ জুন দুপুরে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার, ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার এবং ১৭ এপ্রিল রাতে কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় দুটি স্থানে বেশকিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এটি নদী পাড়ের জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান যে, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙন রোধের জন্য তারা বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা নদী বেষ্টিত, যেখানে কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলা যমুনা নদী দ্বারা ঘেরা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। এই ভাঙনের জন্য বালু উত্তোলনকে দায়ী করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুম এবং বর্ষা মৌসুম দু'তেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আকস্মিক এই ভাঙনের কারণে নদী পাড়ের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে গত ৮ জুন থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়াতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় তিন সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ছয় সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ভাঙন দেখানো হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন।
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া জানান, কাওয়াকোলা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। বড় কয়ড়া, বর্নি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে নদীভাঙনের তীব্রতা খুব বেড়ে গেছে। বসতবাড়ি, ফসলিজমি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চরের ছেলেমেয়েদের জন্য পড়াশোনা করার একমাত্র মাধ্যম বর্নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে (মুজিব কিল্লা) অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা অফিস ও ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান জানাচ্ছেন, স্কুলটিকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখন স্কুলটি নদীর মধ্যে হেলে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তারা প্রায় চার লাখ টাকায় স্কুলটিকে নিলামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে অস্থায়ীভাবে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু যেভাবে ভাঙছে, আশ্রয় প্রকল্পটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলছেন, পানি বাড়ার কারণে কিছু কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তারা জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে পিআইবি'র মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন