ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

৫ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ ও গণমিছিলের ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন


৫ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ ও গণমিছিলের ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আগামী ৫ আগস্ট ঢাকার পল্টন মোড়ে সমাবেশ ও গণমিছিল করবে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের থানা নেতাদের যৌথসভা থেকে এ ঘোষণা এসেছে।

সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে একমাত্র চরমোনাই পীর সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দলের অস্তিত্বকে বাজি রেখে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

আসন্ন ৫ আগস্টে জুলাইয়ের অবিনশ্বর শক্তির পুনঃপ্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাইয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন দাবিতে সেদিন ঢাকার রাজপথ জনতার স্লোগানে মুখরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

যৌথসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বুধবার বেলা ১১টায় পল্টন মোড়ে সমাবেশ শুরু হবে এবং জোহরের নামাজের আগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা কে এম শরীয়াতুল্লাহ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির নগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি জিএম রুহুল আমীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, এমএইচ মোস্তাফা, আলহাজ আব্দুল আউয়াল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়মের তোয়াক্কা না করে হলে শিক্ষার্থী তুলছে কুবি ছাত্রদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুবি প্রতিনিধি

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


নিয়মের তোয়াক্কা না করে হলে শিক্ষার্থী তুলছে কুবি ছাত্রদল

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী তোলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই বিজয়-২৪ হলে সংগঠনটির দুই গ্রুপের অন্তত ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও হল প্রভোস্ট জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর আগে তাকে অবহিত করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,, ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মেধা সিনিয়র-জুনিয়র, দূরত্ব ও আর্থিক অবস্থাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম করা হয়। কিন্তু এসব নিয়ম অনুসরণ না করে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী) নিজেদের অনুসারী শিক্ষার্থীদের হলে তোলার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয়-২৪ হলের ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম দফায় ১০৮ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেন ছাত্রদল কর্মী তুহিব মাহমুদ, যিনি সদস্য সচিব আবুল বাশারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। পরে দ্বিতীয় দফায় ১০১ নম্বর কক্ষে আরও ১২ জন শিক্ষার্থীকে থাকার ব্যবস্থা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী)।

দুই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা হল প্রশাসনের মাধ্যমে নয়, বরং ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় হলে উঠেছেন। ১০৮ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, তুহিব মাহমুদের মাধ্যমে তারা হলে ওঠেন। অন্যদিকে ১০১ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী)।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, হলে ওঠার আগে তারা হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও এ দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।"

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী তুহিব মাহমুদ বলেন, "আমার নামে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই অসহায় শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যায় ছিল। তাদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে প্রভোস্টের সহযোগিতায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী) বলেন, "এখানে আহামরি কিছু হয়নি। ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনেক আগে ভাইভা দিয়েছে। তারা আবাসনের সমস্যার কথা জানালে বিষয়টি প্রভোস্ট স্যারকে জানাই। তিনি বলেন, ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপরে উঠলে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সহজ হবে।"

তিনি আরও বলেন, "এরপর ১০১ নম্বর কক্ষে থাকা ১৮ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীকে তাদের বন্ধুদের কক্ষে ডাবলিং করে থাকতে বলি। আমি কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলে তুলিনি। পরে পুরো বিষয়টি প্রভোস্টকে জানিয়েছি।"

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হলে উঠাইনি। যতটুকু জানি, ১০৮ নম্বর কক্ষে যে শিক্ষার্থীরা উঠেছে, তারা হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই উঠেছে। প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। আমি শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেটির কোনো সত্যতা নেই। আমরা কাউকে অবৈধভাবে হলে তুলি না। অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কারণে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি।"

গণরুম সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি চালুর কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ ধরনের সংস্কৃতির পক্ষে নই। বর্তমানে আবাসন সংকট রয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা উচিত।"

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, "মাত্রই বিষয়টি জানতে পেরেছি। হলে যে-ই উঠুক, তাকে নিয়ম মেনেই উঠতে হবে। সে আমার দলের কর্মী হোক বা অন্য কেউ, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।"

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান বলেন, "দুই কক্ষে দুই গ্রুপের ২৪ জন শিক্ষার্থী উঠেছে। ১০৮ নম্বর কক্ষে বাশারের গ্রুপ এবং ১০১ নম্বর কক্ষে রিফাতের গ্রুপের শিক্ষার্থীরা উঠেছে। তারা কেউই হলে ওঠার আগে আমাকে জানায়নি। ওঠানোর পরে আমার সঙ্গে সমন্বয় করেছে। আমি তাদের কোনো তালিকা দিইনি।"

তিনি আরও বলেন, "আমি কিছুদিন পরেই হলের আবাসিকতার তালিকা প্রকাশ করতাম। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা কথা না শোনায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে বলেছিলাম, ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপরে উঠলে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সহজ হবে। তবে আমাকে আগে না জানিয়েই শিক্ষার্থীদের হলে তোলা হয়েছে।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করিম বলেন, "আমি এ বিষয়ে অবগত নই। হলের প্রভোস্টও আমাকে বিষয়টি জানাননি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গালাগালি ও সহিংসতার রাজনীতি আর নয়: এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


গালাগালি ও সহিংসতার রাজনীতি আর নয়: এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সমালোচনা করতে গিয়ে অরাজনৈতিক, অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার যেমনি কাঙ্ক্ষিত নয়; তেমনি কারও কথার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা, চক্ষু উৎপাটন এবং গাড়ি ভাঙচুর মোটেও কাম্য নয়। গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি; এই বিষয়গুলো থেকে সবাই মিলে সরে না আসলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ব‍্যর্থ হয়ে যাবে।

শনিবার বিকেলে ফেনী জেলা এবি পার্টি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দলের জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্যসচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় মিজান রোডের দলের জেলা কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্থানীয় শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আহত জুলাইযোদ্ধা ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুপ্তি আব্দুল হান্নান, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রশিদ মজুমদার, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মো. সাইফ উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, জাতীয় ছাত্রশক্তি ফেনী জেলা আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন শাকিলসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি ফেনী যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক মির ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক নাজরানা হাফিজ অম্লান, সহ-দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডলি, সদর আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবু সাইদ খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের ‘মূর্তমান প্রতীক’ হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।’

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সায়েমা জেরিন রচিত ‘জুলাই আন্দোলন এবং গুলিবিদ্ধ দুই চোখ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সকল কথা বলেন।

রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শত জুলুম ও নির্যাতন নীরবে সহ্য করেও তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ছিলেন।’

রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য দূরদর্শিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুরনো ব্যবস্থা ধ্বংসের পর নতুন ব্যবস্থা গড়ার কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধ্বংস পর্বে যে ধরনের শক্তি লাগে, গঠন পর্বে প্রয়োজন পড়ে সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতা। কেবল অর্ধেক গুণ দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না; দেশ ও সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে নেতৃত্বের মধ্যে গঠনমূলক ও সৃজনশীল গুণাবলী থাকা আবশ্যক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজপথে ফয়সালা করেই স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছি; তাই জনগণের রায়ে আজ দেশ পরিচালনায় এসেছি। তাই বিজয়ী সরকারের জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের কোনো প্রতিহিংসার ভাষা নেই। আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য সেবামুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করা। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, গণতন্ত্রের ভেতরে থেকে এখন কেউ কেউ ফ্যাসিবাদের ভাষা ব্যবহার করতে চায়, যা অভিজ্ঞতার অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সরকারের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সক্রিয় ও কার্যকরী সংসদীয় ব্যবস্থা চালু রাখতে বদ্ধপরিকর, যেখানে সংসদেই বিতর্ক হবে এবং বিরোধী দল সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া বা রাজপথে কৃত্রিম নাটক তৈরি করে যারা বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। সমাজের সব অন্ধত্ব দূর না করলে ফ্যাসিবাদ বারবার আক্রমণ করবে।’

তথ্যমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মেলবন্ধন বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বর্ধিত রূপই হচ্ছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। দুটি সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গণমানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তাই কোনো মহল যাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে পৃথক করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খোন্দকার মাশুকুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত বীর যোদ্ধারা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হলো খালি হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


বড় আশা নিয়ে গিয়েও ফিরতে হলো খালি হাতে

 

স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ছিটমহল সেউতার সীমান্তে গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবের জেরে এই বিশাল জনস্রোত তৈরি হয়েছিল।

মরক্কো থেকে সেউতা অভিমুখে এই আকস্মিক অভিবাসী যাত্রার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল সামাজিক মাধ্যমের কিছু ভুল বার্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে বহু মানুষ সাঁতার কেটে কিংবা মরক্কোর দিক থেকে বিভিন্ন যানবাহনে চেপে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। অনেকের মধ্যে অনেকে মাস ধরে সাঁতার শিখেছিলেন এবং ফেসবুকে সাঁতারের পোশাক বা ফ্লিপার বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। এমনকি গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশট এবং আরবি ভাষায় সমুদ্রের অবস্থার বিবরণ শেয়ার করে সেউতার তরাইয়াল সৈকতে পৌঁছানোর দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

প্রবল স্রোত এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া এই বিশাল জনস্রোতের কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কো ও সেউতার মধ্যকার সরাসরি সমুদ্রপথটি খুব একটা দীর্ঘ নয়, তথাপি প্রবল স্রোত, দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে থাকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বহু মানুষ চরম বিপদে পড়েন।

অভিবাসীরা যখন সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বা স্থলপথে সেউতার অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পৌঁছান, তখন তারা সেখানে চরম অব্যবস্থাপনা দেখতে পান। খাদ্য সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আশায় আসা মানুষগুলো দেখতে পায় যে অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ার কারণে সেউতা জুড়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে, গাড়িতে কিংবা বড় বড় যানে চড়ে এমনভাবে প্রবেশ করেন যে সেখানে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজেই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সেউতা সফর করেন এবং এই পুরো সংকটের জন্য মানব পাচারকারী চক্রগুলোকে তীব্রভাবে দায়ী করেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গত জুনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের অত্যন্ত স্বার্থপর ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিয়েছিল পাচারকারীরা, যা দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জুনের সেই রায়ে বলা হয়েছিল যে মেলিলা বা সেউতাে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।

তবে এই ঘটনার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেউতার এই অভিবাসী সংকটের জেরে ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার-মুক্ত শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের পক্ষ থেকে ইইউ-এর কিছু সদস্য রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত স্বার্থপর, মেরুকরণকারী এবং বেআইনি বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%